মিরপুরের শেরেবাংলা স্টেডিয়াম আজ সাক্ষী হলো এক দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসানের। ২০১৫ সালে সৌম্য সরকারের পর পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডেতে আর কোনো বাংলাদেশি ব্যাটার তিন অঙ্কের দেখা পাননি। ১১ বছর পর সেই আক্ষেপ মেটালেন তরুণ ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। ক্যারিয়ারের প্রথম আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে বাংলাদেশকে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দিয়েছেন তিনি।
ছক্কায় রাঙানো প্রথম সেঞ্চুরি
আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে এর আগে ৭৬টি ম্যাচ খেললেও (৩১ ওয়ানডে ও ৪৫ টি-টোয়েন্টি) সেঞ্চুরির দেখা পাচ্ছিলেন না তানজিদ তামিম। ১৭টি ফিফটি করলেও বারবার তিন অঙ্ক ছোঁয়ার আগেই থামতে হচ্ছিল তাঁকে। তবে আজ পাকিস্তানের বিপক্ষে মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ভুল করেননি তিনি। ৩৩তম ওভারের শেষ বলে সালমান আলী আগাকে সাইটস্ক্রিনের ওপর দিয়ে বিশাল এক ছক্কা মেরে পূর্ণ করেন নিজের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি। ৯৮ বলে স্পর্শ করা এই মাইলফলক উদযাপনে মাঠেই সিজদায় অবনত হন এই বাঁহাতি ব্যাটার।
উদ্বোধনী জুটিতেই জয়ের স্বপ্ন
সিরিজ নির্ধারণী এই ম্যাচে টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন পাকিস্তান অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি। তবে আগে ব্যাটিং পেয়ে শুরু থেকেই পাকিস্তানি বোলারদের ওপর চড়াও হন বাংলাদেশের দুই ওপেনার তানজিদ তামিম ও সাইফ হাসান। উদ্বোধনী জুটিতে ১০৯ বলে ১০৫ রান যোগ করেন তাঁরা। সাইফ হাসান ব্যক্তিগত ৩৯ রানে ফিরলেও তামিম নিজের সাবলীল ব্যাটিং চালিয়ে যান। শেষ পর্যন্ত ৩৭তম ওভারে ১০৭ বলে ১০৭ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে আবরার আহমেদের বলে বিদায় নেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল ৬টি চার ও ৭টি বিশাল ছক্কার মার।
১১ বছর আগের স্মৃতি ও বর্তমান সমীকরণ
২০১৫ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে তামিম ইকবালের ব্যাটে ভর করে ধবলধোলাইয়ের স্বাদ পেয়েছিল বাংলাদেশ। এরপর দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সেঞ্চুরি ছিল সোনার হরিণ। আজকের সেঞ্চুরির মাধ্যমে সেই খরা কাটালেন ‘জুনিয়র তামিম’।

