দ্য হান্ড্রেডে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের খেলা নিয়ে ইসিবির বিবৃতিপাকিস্তানি ক্রিকেটারদের উপেক্ষা করা হবে না দ্য হান্ড্রেডে। ছবি: এএফপি

দ্য হান্ড্রেড ক্রিকেটে কোনোভাবেই বৈষম্য বরদাস্ত করা হবে না—এমন কড়া বার্তা দিয়েছে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)। ম্যানচেস্টার সুপার জায়ান্টস বা এমআই লন্ডনের মতো ভারতীয় মালিকানাধীন ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের কিনবে না—বিবিসির এমন প্রতিবেদনের পর বিশ্বজুড়ে সমালোচনা শুরু হয়। এর প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার রাতে ইসিবি ও টুর্নামেন্টের আটটি দল একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করে স্পষ্ট করেছে যে, এই প্রতিযোগিতা ‘সবার জন্য উন্মুক্ত’।

ইসিবির ই-মেইল ও সতর্কতা

গত সপ্তাহে বিতর্কের সূত্রপাত হওয়ার পর ইসিবি প্রতিটি দলকে ই-মেইল পাঠিয়ে সতর্ক করে দেয়। সেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে, জাতীয়তার ভিত্তিতে কোনো খেলোয়াড়কে অবজ্ঞা করার প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

টুর্নামেন্টের গভর্নিং বডি হিসেবে ইসিবি বৈষম্যহীনতা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং তারা জানিয়েছে, নিয়মের বাইরে গিয়ে কোনো খেলোয়াড়কে বাদ দেওয়া যাবে না।

নিলামে ৬৭ পাকিস্তানি

আসন্ন ১১ ও ১২ মার্চের নিলামে পাকিস্তানের মোট ৬৭ জন ক্রিকেটার (৬৩ জন পুরুষ ও ৪ জন নারী) নাম নিবন্ধন করেছেন। যৌথ বিবৃতিতে দলগুলো প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে, খেলোয়াড় নির্বাচন হবে শুধু ক্রিকেটীয় পারফরম্যান্স, প্রাপ্যতা এবং দলের প্রয়োজন অনুযায়ী। কোনো দেশের খেলোয়াড়দের আলাদা চোখে দেখা হবে না।

ভূ-রাজনীতি বনাম ক্রিকেট

২০০৯ সাল থেকে আইপিএলে পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এমনকি দক্ষিণ আফ্রিকার এসএ টুয়েন্টি বা আরব আমিরাতের আইএল টি-টুয়েন্টিতেও আইপিএল মালিকানাধীন দলগুলো পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের নেয় না। তবে ইংল্যান্ডের মাটিতে ইসিবি চায় না সেই ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার ছায়া দ্য হান্ড্রেডে পড়ুক।

শ্রীলঙ্কায় বিশ্বকাপ খেলার মাঝেই এই ইস্যু নিয়ে মুখ খুলেছেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক। তিনি বলেন, “নিলামে অনেক ভালো পাকিস্তানি ক্রিকেটার আছে, তাদের না দেখাটা হবে লজ্জাজনক। তারা টুর্নামেন্টের মান বাড়ায় এবং প্রচুর দর্শকও নিয়ে আসে। তাদের বাদ দেওয়াটা হবে দুঃখজনক।”

উল্লেখ্য, এবারের দ্য হান্ড্রেড ২১ জুলাই শুরু হয়ে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। সেই সময় পাকিস্তান দলের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর ও পরবর্তীতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ থাকায় খেলোয়াড়দের প্রাপ্যতা নিয়ে কিছুটা চ্যালেঞ্জ থাকলেও, ইসিবি চায় খেলোয়াড় বাছাই প্রক্রিয়া যেন সম্পূর্ণ স্বচ্ছ থাকে।