ঢাকায় পা রাখার পর এখনো পর্যন্ত দেশের মূলধারার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হননি তিনি। তবে মাঠের লড়াই শুরু করার আগেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম লিংকডইনে (LinkedIn) বাংলাদেশ দল ও দেশের ফুটবল নিয়ে নিজের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার কথা জানান দিয়েছেন নতুন হেড কোচ থমাস ডুলি। হামজা চৌধুরী ও জামাল ভূঁইয়াদের ড্রেসিংরুমের দায়িত্ব নেওয়ার পেছনে কোনো আরাম-আয়েশ কিংবা সহজ অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্য নেই, বরং লাল-সবুজের ফুটবলকে বদলে দিয়ে নতুন ইতিহাস গড়তেই তিনি দূর প্রবাস থেকে উড়ে এসেছেন।
গত ২২ মে ঢাকায় পৌঁছানোর পর সময় নষ্ট না করে ২৫ মে থেকেই জাতীয় দলের ক্যাম্প শুরু করে দিয়েছেন বিশ্ব ফুটবলে ৪৩ বছরের দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই মাস্টারমাইন্ড। এমনকি ঈদের ছুটির দিনেও ফুটবলারদের বিশ্রামে রাখেননি তিনি।
আগামী ৫ জুন সান মারিনোর বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ দিয়ে বাংলাদেশের ডাগআউটে তাঁর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে।
তবে কেবল একটি ম্যাচকে ঘিরে নিজের রণপরিকল্পনা সীমাবদ্ধ রাখছেন না ডুলি।
আবেগ ও টেকনিক্যালের যুগলবন্দি
লিংকডইনে দেওয়া নিজের দীর্ঘ পোস্টে থমাস ডুলি পরিষ্কার করে লিখেছেন, “সহজে কিছু টাকা উপার্জন কিংবা কোনো আরামদায়ক দায়িত্বের খোঁজে আমি দুনিয়ার ওপার থেকে ঢাকায় প্রধান কোচের দায়িত্ব নিতে উড়ে আসিনি। মাত্র কয়েক দিন আগে বাংলাদেশ জাতীয় দলের নতুন ম্যানেজার হিসেবে মাঠে পা রেখেই আমি এই দেশের ফুটবল ভক্তদের অবিশ্বাস্য আবেগ এবং প্রত্যাশার গুরুভার অনুভব করতে পেরেছি।”
তিনি আরও যোগ করেন, “আমি এখানে এসেছি কারণ এই খেলোয়াড়দের মধ্যে এবং এই দেশে এমন এক অনস্বীকার্য আবেগ দেখেছি, যা পশ্চিমা ফুটবল বিশ্ব সম্পূর্ণ অবমূল্যায়ন করে।”
আরও পড়ুন:
থমাস ডুলি: বাংলাদেশের ডাগআউটে নতুন বিদেশি ‘বাজি’!
বুন্দেসলিগার শৃঙ্খলা ও নতুন ভিত্তি
জামাল-হামজাদের মাঝে আধুনিক ফুটবলের বীজ বুনে দিতে চান যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক এই অধিনায়ক।
নিজের লক্ষ্য তুলে ধরে ডুলি বলেন, “বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে আমার লক্ষ্য কেবল একটি ম্যাচ জেতা নয়। এর উদ্দেশ্য হলো বুন্দেসলিগার টেকনিক্যাল শৃঙ্খলা এবং যুক্তরাষ্ট্র পুরুষ জাতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে আমি যে অটল আত্মবিশ্বাসের ওপর নির্ভর করেছিলাম, তা এখানে ছড়িয়ে দেওয়া। আমরা প্রথম দিন থেকেই এখানে একটি উচ্চমানের ভিত্তি তৈরি করছি এবং একটি টেকনিক্যাল পজিশন-ভিত্তিক, সুসংগঠিত ও প্রাণবন্ত দল গড়ে তুলছি।”
এর আগে ফিলিপাইন জাতীয় দলকে অপরাজিত রেখে এএফসি এশিয়ান কাপের বাছাইপর্ব পার করিয়েছিলেন ডুলি, যার সুবাদে দলটি তাদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ ফিফা র্যাংকিং অর্জন করেছিল। সম্প্রতি গায়ানার ডাগআউটে বসেও টানা চার ম্যাচে জয় তুলে নিয়েছেন তিনি। এবার তাঁর সামনে নতুন পরীক্ষা বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক ফুটবলের তলানি থেকে টেনে তোলা।
আর সেই লক্ষ্যেই দেশের ফুটবল ভক্তদের উদ্দেশে ডুলির সংক্ষিপ্ত বার্তা, “চলুন একসঙ্গে ইতিহাস গড়ি।”

