রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।সময়টা উপভোগ করছেন ভিনিসিয়ুস। ছবি: এএফপি

সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে গতকাল রাতে ‘মাদ্রিদ ডার্বি’র মহানায়ক একজনই—ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ব্রাজিলিয়ান এই উইঙ্গারের জোড়া গোলের ওপর ভর করে আতলেতিকো মাদ্রিদকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে লা লিগার শিরোপা দৌড়ে টিকে থাকল রিয়াল মাদ্রিদ। তবে এই জয়ের পেছনে ভিনির প্রতিভার পাশাপাশি কোচ আলভারো আরবেলোয়ার ‘ম্যাজিক’ এখন স্প্যানিশ ফুটবলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

আরবেলোয়া বনাম আলোনসো: পরিসংখ্যানের ব্যবচ্ছেদ

রিয়াল কোচ হিসেবে আলভারো আরবেলোয়া আসার পর ভিনিসিয়ুস যেন ফিরে পেয়েছেন তার হারানো ধার। পরিসংখ্যান বলছে, আরবেলোয়ার অধীনে মাত্র ১৭ ম্যাচে ১১টি গোল করেছেন ভিনি। অথচ তাঁর পূর্বসূরি জাবি আলোনসোর সময়ে ৩৪ ম্যাচে ভিনির গোল ছিল মাত্র ৭টি। আরবেলোয়া আসলে ধীরে ধীরে ভিনিসিয়ুসকে গোলমুখে আরও ভয়ঙ্কর করে তুলেছেন, যাকে বলা হচ্ছে ভিনির ‘পুনরুদ্ধার’।

ম্যাচ শেষে আরবেলোয়া বলেন, ‘খেলোয়াড় হিসেবে তাকে পেয়ে আমি সৌভাগ্যবান। জানি না সে ক্যারিয়ারের সেরা ফর্মে আছে কি না। তবে (তা না হলেও) সেখান থেকে বেশি দূরে নেই।’

বার্নাব্যুতে রুদ্ধশ্বাস রাত

ম্যাচের প্রথমার্ধে আদেমোলা লোকমানের গোলে পিছিয়ে পড়েছিল রিয়াল। কিন্তু বিরতির পর ৫২ মিনিটে পেনাল্টি থেকে সমতা ফেরান ভিনি। এরপর ফেদেরিকো ভালভের্দের গোলে রিয়াল এগিয়ে গেলেও ৬৬ মিনিটে নাহুয়েল মলিনা আবারো সমতা ফেরান।

ঠিক যখন সমর্থকরা দুশ্চিন্তায়, তখন ৭২ মিনিটে ভিনির সেই জয়সূচক গোল! ৮৭ মিনিটে যখন তিনি মাঠ ছাড়ছিলেন, পুরো বার্নাব্যু দাঁড়িয়ে তাকে সম্মান জানায়।

সভাপতির আবদার ও টানা দুই ম্যাচে জোড়া গোল

রিয়াল সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ নাকি সব সময় ভিনিকে জোড়া গোল করতে বলেন। চ্যাম্পিয়নস লিগে ম্যানচেস্টার সিটির পর এবার আতলেতিকোর বিপক্ষেও জোড়া গোল করলেন তিনি। পেশাদার ক্যারিয়ারে এই প্রথম টানা দুই ম্যাচে জোড়া গোলের দেখা পেলেন ব্রাজিলিয়ান তারকা।

ম্যাচ শেষে ভিনি বলেন, ‘সভাপতি সব সময় আমাকে জোড়া গোল করতে বলেন। আজ তার জন্য দুটি গোল করেছি।’

দশজনের রিয়াল ও আরবেলোয়ার কৌশল

ম্যাচের শেষ ১৩ মিনিট ১০ জন নিয়ে খেলতে হয়েছে রিয়ালকে। ৭৭ মিনিটে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন ভালভের্দে। তবে মরিনিও, গার্দিওলা ও সিমিওনের মতো বড় বড় কোচদের হারিয়ে আরবেলোয়া প্রমাণ করছেন কেন তিনি রিয়ালের হটসিটে যোগ্য।

২৯ ম্যাচে ৬৯ পয়েন্ট নিয়ে বার্সেলোনার (৭৩ পয়েন্ট) ঠিক পেছনেই অবস্থান করছে গ্যালাকটিকোরা।