মাঠের গতির ঝড়ে ব্যাটসম্যানদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেন তিনি। কিন্তু ব্যক্তি জীবনে দেশসেরা পেসার তাসকিন আহমেদ কতটা রোমান্টিক? সম্প্রতি এক ঈদ আড্ডায় স্ত্রী সৈয়দা নাইমা রাবেয়াকে সঙ্গে নিয়ে নিজেদের জীবনের অজানা অনেক গল্প শোনালেন এই গতি তারকা। স্কুলজীবনের প্রেম থেকে শুরু করে বিয়ের পর তিন সন্তান নিয়ে তাঁদের সুখের সংসারের খুঁটিনাটি উঠে এসেছে এই আলাপে।
বোরকা ছাড়া প্রথম দেখা ও প্রেমের শুরু
তাসকিন ও নাইমা একই স্কুলে পড়তেন। তবে তাঁদের সম্পর্কের মোড় ঘোরে ২০১০ সালে তাসকিনের ছোট বোন রোজার জন্মদিনের অনুষ্ঠানে। তাসকিন স্মৃতিচারণ করে বলেন, “ভালো লাগা শুরু হয়েছে আমার ছোট বোনের জন্মদিনে বোরকা ছাড়া নাইমাকে প্রথম দেখার পর। তখন মনে হলো, একে তো বেশ সুন্দর লাগছে! যদিও তখন অনূর্ধ্ব-১৯ খেলি, অনেক ছোট ছিলাম। এরপর থেকেই ফোনে কথা শুরু।”
মজার ব্যাপার হলো, শুরুতে পড়াশোনার সিলেবাস বা পড়া নেওয়ার ছলেই চলত তাঁদের ফোনালাপ।
ঈদ সেলামি ও বর্তমান ব্যস্ততা
বিয়ের আগের এবং পরের ঈদের পার্থক্য নিয়ে তাসকিন জানান, ছোটবেলার সেলামি নেওয়ার আনন্দ এখন দায়িত্বের আনন্দে রূপ নিয়েছে। এখন ৩৬৫ দিনের মধ্যে ২৬৫ দিনই খেলার ব্যস্ততায় বাইরে থাকতে হয় তাঁকে। এর মাঝেও স্ত্রী নাইমা যেভাবে তিন সন্তান সামলান, তার প্রশংসা করতে ভুললেন না তাসকিন।
অন্যদিকে, নাইমা জানালেন তাঁর বড় অংকের সেলামি আদায়ের গল্প। তিনি হাসতে হাসতে বলেন, “সবচেয়ে বড় সালামিটা আমি ওর কাছ থেকেই পাই। সকালে নেই, দুপুরে নেই, রাতেও নেই! ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত সেলামি নেওয়া হয়েছে।”
নারী ভক্ত ও ‘ব্লক’ করার লড়াই
জাতীয় দলের সুদর্শন এই ক্রিকেটারের নারী ভক্তের সংখ্যা অগণিত। বিষয়টি স্ত্রী নাইমার জন্য সামলানো মাঝে মাঝে কঠিন হয়ে দাঁড়াত। নাইমা জানান, এক সময় তাসকিনের অ্যাকাউন্ট থেকে অনেক নারী ভক্তকে ব্লক করতে হয়েছে তাঁকে। তিনি বলেন, “একদিনেই ২০ জনের বেশি নারী ভক্তকে ব্লক করতে হয়েছিল!”
২০১৭ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া এই দম্পতি এখন তিন সন্তান নিয়ে দারুণ সময় কাটাচ্ছেন। তাসকিন তাঁর ক্যারিয়ারের সাফল্যের কৃতিত্বও দিলেন স্ত্রীকে। ২০১৪ সালের অভিষেক থেকে ২০১৫ বিশ্বকাপ—সব চড়াই-উতরাইতে নাইমাকে পাশে পাওয়া বড় ভাগ্য বলে মনে করেন এই পেসার।

