দেশের মাঠ কিংবা দেশের বাইরে—সাদা পোশাকের ক্রিকেটে বাংলাদেশ দল এখন এতটাই পরিণত যে, তা আলাদাভাবে নজর কেড়েছে ‘সুলতান অব সুইং’খ্যাত ওয়াসিম আকরামের। পাকিস্তানের এই কিংবদন্তি পেসারের মতে, ক্রিকেটের এই অভিজাত সংস্করণে বিশ্বের যেকোনো সেরা দলের বিপক্ষে চোখ মেলাবার এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য এখন পুরোপুরি প্রস্তুত বাংলাদেশ।
সিলেটে টেস্টের শেষ দিন বুধবার সফরকারী পাকিস্তানকে ৭৮ রানে হারিয়ে ২-০ ব্যবধানে ঐতিহাসিক সিরিজ জয় নিশ্চিত করেছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
এর আগে মিরপুরে সিরিজের প্রথম টেস্টে ১০৪ রানের বড় ব্যবধানে জিতেছিল স্বাগতিকরা। এই হারের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিপক্ষে টানা দুটি টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ বা ধবলধোলাইয়ের তেতো স্বাদ পেল পাকিস্তান।
এর আগে ২০২৪ সালে নিজেদের মাটিতে রাওয়ালপিন্ডিতেও বাংলাদেশের কাছে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ হেরেছিল তারা।
আরও পড়ুন:
পাকিস্তানকে হারিয়ে টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে প্রথমবার সাতে বাংলাদেশ
পেসারদের উত্থান ও স্পোর্টিং উইকেটের প্রশংসা
বাংলাদেশ দল সাধারণত ঘরের মাঠে ধীরগতির ও স্পিন-সহায়ক উইকেট বানিয়ে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করত। তবে সেই চেনা ছক থেকে বেরিয়ে এসে বাংলাদেশ এখন নিয়মিত স্পোর্টিং উইকেট বানাচ্ছে। ঘরের মাঠে এমন উইকেটে খেলেই সবশেষ টানা পাঁচটি টেস্ট জয়ের অনন্য রেকর্ড গড়ল টাইগাররা।
উইকেটের এই ইতিবাচক পরিবর্তন এবং উদীয়মান পেসারদের পারফরম্যান্স বিশেষভাবে মুগ্ধ করেছে ওয়াসিম আকরামকে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে পাকিস্তানের সাবেক এই অধিনায়ক নিজের দেশের হারে হতাশা প্রকাশ করলেও বাংলাদেশকে পুরো কৃতিত্ব দিয়েছেন।
ওয়াসিম আকরাম লিখেছেন, “বাংলাদেশের কাছে দ্বিতীয়বার পাকিস্তানকে হারতে দেখে সত্যিই হতাশ লাগছে। তবে জয়ী দলকে পুরো কৃতিত্ব দিতেই হবে, কারণ তারা পরিপূর্ণ ক্রিকেট খেলেছে। বাংলাদেশ সাধারণত ধীরগতির ও স্পিন-সহায়ক উইকেট বানাত, কিন্তু এখন তারা দারুণ টেস্ট উইকেট বানাচ্ছে, যা তাদের উদীয়মান পেসারদের সাহায্য করছে এবং এই পেসাররাই পাকিস্তানকে ছাপিয়ে গেছে।”
রানায় মুগ্ধতা, বাংলাদেশের প্রশংসা
মিরপুর টেস্টের শেষ দিনে গতি আর বাউন্সের গতিঝড় তুলে পাকিস্তানকে ধসিয়ে দিয়েছিলেন তরুন পেসার নাহিদ রানা। ৪০ রান খরচায় একাই নিয়েছিলেন ৫ উইকেট। সিলেটেও দুই ইনিংস মিলিয়ে এই গতিদানব শিকার করেছেন ৫টি উইকেট। ফেসবুকে নাহিদ রানার বোলিংয়ের আলাদা প্রশংসা করে ওয়াসিম আকরাম লেখেন, “এই সংস্করণের বিশ্বসেরা দলগুলোর বিপক্ষে এখন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পুরোপুরি প্রস্তুত বাংলাদেশ। তাদের নাহিদ রানা কি অসাধারণ এক প্রতিভা, তার বোলিং দেখা সত্যিই দারুণ ব্যাপার। অভিনন্দন বাংলাদেশ।”
উল্লেখ্য, পাকিস্তানের মাটিতে ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজে গিয়েও দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ১-১ ব্যবধানে ড্র করে এসেছিল বাংলাদেশ।
এছাড়া নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট জয় এবং শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ ড্র করার মতো দারুণ সব কীর্তি গড়ার পর এবার ঘরের মাঠে পাকিস্তানকে ধবলধোলাই করে বিশ্ব ক্রিকেটে নিজেদের নতুন শক্তির জানান দিল বাংলাদেশ।

