বিপিএলের রোমাঞ্চকর ম্যাচে রংপুর রাইডার্সকে হারিয়ে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স জয় ছিনিয়ে নিল সুপার ওভারে। ম্যাচটি শুরুতে রংপুরের পক্ষে সহজ মনে হলেও শেষ পর্যন্ত উত্তেজনা যেন দানা বাঁধল মাঠে।
রংপুরের ইনিংস শুরু হয়েছিল ডেভিড মালান ও তাওহীদ হৃদয় জুটির ওপর। ওপেনার মালান ও হৃদয় দ্বিতীয় উইকেটে মাত্র ৭২ বলে ১০০ রান যোগ করে রংপুরকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে গিয়েছিলেন। হৃদয় ৩৯ বলে ৫৩ রান করে আউট হলেও মালান ৬৩ রান অপরাজিত ছিলেন। হৃদয়ের ইনিংসে ছিল ৭টি চার, আর মালানের ইনিংসে ৬টি চার ও ২টি ছক্কা।
তবে এই জুটি ভেঙে যাওয়ার পর রংপুরের ইনিংসে ধাক্কা লাগে। ১৫৩ থেকে ১৬৯ রানের মধ্যে ৩ উইকেট তুলে নেন রাজশাহী বোলাররা। এতে ম্যাচের উত্তেজনা বেড়ে যায় এবং খেলা গড়ায় সুপার ওভারে।
সুপার ওভারে প্রথমে ব্যাট করে টসে হেরে কাইল মায়ার্স ও তাওহীদ হৃদয় রণক্ষেত্রে নামেন। মায়ার্স আউট হওয়ার পর ব্যাট করতে আসেন খুশদিল শাহ। এই তিন ব্যাটারের সঙ্গে ৬ রান করে তানজিদ হাসান তামিম ৩ বলে দুই চার মেরে জয় নিশ্চিত করেন রাজশাহীকে।
রাজশাহীর ইনিংসেও ছিল জমজমাট লড়াই। সাহিবজাদা ফারহান ৪৬ বলে ৬৫ রান করে দলের ইনিংসের মূল চালিকাশক্তি ছিলেন। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ৩০ বলে ৪০ রান করে প্রথম সেঞ্চুরি জুটিতে ৯৩ রান যোগ করেন সাহিবজাদের সঙ্গে।
এই দুই ব্যাটারের আউট হওয়ার পর আর কেউ দলের ইনিংসকে ১৫৯ রানের বেশি নিতে পারেনি। ফাহিম আশরাফ বল হাতে ছিলেন চমৎকার, ৪৩ রানে ৩ উইকেট নেন।
শেষ পর্যন্ত, ম্যাচের নষ্ট উত্তেজনা ও সঠিক সময়ে ব্যাটিং-বলিংয়ে পারফরম্যান্সের সমন্বয়ে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স সুপার ওভারে জয় ছিনিয়ে নেয়।
সুপার ওভারে রাজশাহীর নায়ক হন রিপন মণ্ডল, যিনি মাত্র ৬ রান দিয়ে কাইল মায়ার্সকে বোল্ড করেন। পুরো ওভারে রংপুরের ব্যাটসম্যানরা কোনো বাউন্ডারি নিতে পারেননি। মূলত ম্যাচে রিপন মণ্ডলের শেষ ওভারের দুর্দান্ত বোলিং ম্যাচকে সুপার ওভারে নিয়ে আসে। এখানেও দারুণ করেন রিপন।
৭ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে তানজিদ হাসান তামিম প্রথম বলেই চার হাঁকান এবং দুই বলেই জয় নিশ্চিত করেন।

