বিপিএলে নাটকীয় মুহূর্ত নতুন কিছু নয়। তবে কিছু কিছু দৃশ্য সময়কে ছাড়িয়ে যায়, ঢুকে পড়ে ইতিহাসের পাতায়। মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার ঠিক তেমনই এক মুহূর্ত উপহার দিলেন ক্রিস ওকস—এক শটে, এক বলে, এক ছক্কায়।
টুর্নামেন্টে টিকে থাকার লড়াইয়ে নামা সিলেট টাইটান্সের সামনে সমীকরণ তখন নিষ্ঠুর। শেষ বলে প্রয়োজন ছয় রান। ব্যাট হাতে ইংল্যান্ডের অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার, যিনি এই ম্যাচ দিয়েই বিপিএলে নিজের অভিযান শুরু করেছেন। চাপটা ছিল পাহাড়সম। কিন্তু ওকস যেন চাপকেই সঙ্গী করলেন।
ফাহিম আশরাফ অফ স্টাম্পের বাইরে বল করলেন। ব্যাট চালাতেই ওকস বুঝে গিয়েছিলেন—এটাই সেই শট। এক্সট্রা কাভারের ওপর দিয়ে বল উড়ে গিয়ে আছড়ে পড়ল গ্যালারিতে। মুহূর্তেই স্তব্ধতা ভেঙে উল্লাস। সিলেট জিতল, রংপুর ছিটকে গেল।
ইতিহাসের পাতায় নাম
বিপিএলের ১২ মৌসুমে শেষ বলে ছক্কায় জয়ের নজির ছিল। কিন্তু শেষ বলে ছক্কা মারতেই হবে—এমন সমীকরণ থেকে জয়, এই প্রথম। সেই অভূতপূর্ব কীর্তির নায়ক ৩৬ বছর বয়সী ক্রিস ওকস।
এর আগে থিসারা পেরেরা বা নুরুল হাসান শেষ বলে ছক্কা মেরে ম্যাচ জেতালেও, তখন ছক্কা ছিল না একমাত্র পথ। ওকসের ক্ষেত্রে সেটাই ছিল একমাত্র দরজা—এবং তিনি সেটিই খুলে দিলেন।
এর আগে ব্যাটিংয়ে নেমে রংপুর রাইডার্স বড় কিছু গড়তে পারেনি। উইকেটের বাউন্স আর মুভমেন্টে শুরু থেকেই বিপাকে পড়ে তারা। ২০ ওভারে থামে মাত্র ১১১ রানে।
সৈয়দ খালেদ আহমেদ ছিলেন দুর্দান্ত—চার উইকেট। ওকস ও নাসুম আহমেদ নেন দুটি করে। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ম্যাচে ফেরার সুযোগই পায়নি রংপুর।
ছোট লক্ষ্য হলেও সিলেটের পথটা সহজ ছিল না। দ্রুত উইকেট হারিয়ে এক সময় ৩০ রানে চার উইকেট পড়ে যায়। ওপেনার থেকে শুরু করে মিডল অর্ডার—কেউই থিতু হতে পারেননি।
সেই ধাক্কা সামাল দেন স্যাম বিলিংস ও মেহেদী হাসান মিরাজ। খুব সাবলীল না হলেও, তাঁদের ৫০ রানের জুটি ম্যাচে সিলেটকে ফিরিয়ে আনে। বিলিংস পরিস্থিতি বুঝে আক্রমণের বদলে সময় নিয়েছেন, সেটিই শেষ পর্যন্ত কাজে লাগে।
শেষ ওভারের নাটক
শেষ দুই ওভারে প্রয়োজন ছিল ১৫ রান। বিলিংস আউট হতেই আবার চাপ ফিরে আসে। শেষ ওভারে দরকার পড়ে ৯ রানের।
মঈন আলী এক সিঙ্গল নিলেন, পরের বলগুলোতে সুযোগ হাতছাড়া হলো। পঞ্চম বলে সেই এক রান—যেটা ওকসকে স্ট্রাইকে আনে। এরপর ইতিহাস।
ওকসের ছক্কার সঙ্গে সঙ্গে মাঠে ছুটে যান অধিনায়ক মিরাজ। ডাগআউট, গ্যালারি—সবখানে উচ্ছ্বাস। উল্টো দিকে রংপুর শিবিরে নীরবতা। কেউ মাটিতে বসে, কেউ হতভম্ব।
ফেভারিট হিসেবে টুর্নামেন্টে নামা দলটি আবারও এলিমিনেটরেই থামল। আর সিলেট টাইটান্স টিকে রইল ফাইনালের স্বপ্নে।
এই জয়ের ফলে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে জায়গা করে নিয়েছে সিলেট। বুধবার তাদের মুখোমুখি হতে হবে প্রথম কোয়ালিফায়ারে হেরে যাওয়া দলের বিপক্ষে।
কিন্তু এই ম্যাচ—এই শেষ বল—এই ছক্কা—বিপিএলের গল্পে থেকে যাবে বহুদিন।

