স্প্যানিশ লা লিগার চিত্রপট মাত্র এক সপ্তাহান্তেই বদলে গেল। এক সময় মনে হচ্ছিল লিগ টেবিলের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি বার্সেলোনার হাতে, কিন্তু এখন শিরোপা লড়াই আবার উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনার মধ্যে পয়েন্টের ব্যবধান এখন মাত্র এক।
জানুয়ারিতে যখন লিগের দ্বিতীয় ভাগ শুরু হয়, তখন ৪৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে ছিল বার্সা। রিয়াল মাদ্রিদ তখন চার পয়েন্টে পিছিয়ে ছিল। হ্যানসি ফ্লিকের অধীনে কাতালানরা ছিল দুর্দান্ত ছন্দে। এসপানিওলকে হারিয়ে এবং সৌদি আরবে সুপার কাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়ে নিজেদের দাপট বজায় রেখেছিল তারা।
চাবিকাঠি যখন সুপার কাপ
রিয়াল মাদ্রিদও বছরের শুরুটা করেছিল দাপটের সাথে। রিয়াল বেটিসকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে তারা জানান দিয়েছিল লড়াই ছাড়বে না। তবে সুপার কাপের ফাইনালই হয়ে দাঁড়াল টুর্নামেন্টের টার্নিং পয়েন্ট। সেই ম্যাচে বার্সার কাছে ৩-২ গোলে হেরে যায় লস ব্লাঙ্কোসরা।
সুপার কাপের সেই হারের পরের দিনই রিয়াল মাদ্রিদের কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ান জাবি আলোনসো। ক্লাব কর্তৃপক্ষ তাঁর জায়গায় নিয়ে আসে রিজার্ভ টিমের কোচ আলভারো আর্বেলোয়াকে। ক্লাবের ভেতর-বাহির চেনা আর্বেলোয়ার দায়িত্ব ছিল দলের হারানো আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনা।
আর্বেলোয়ার বিপর্যয় ও বার্সার হোঁচট
আর্বেলোয়ার শুরুটা অবশ্য ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। কোপা দেল রের শেষ ষোলোতে দ্বিতীয় বিভাগের দল আলবাকেতের কাছে ৩-২ গোলে হেরে বসে রিয়াল। অধিনায়ক দানি কারভাহাল স্বীকার করেছিলেন, তাঁর দল এখন ‘তলানিতে’ ঠেকেছে। সমর্থকরা আর্বেলোয়ার নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলছিলেন, আর বার্সা ভক্তরা তখন উৎসবের আমেজে।
তবে বার্সেলোনার সেই খুশিতে জল ঢেলে দেয় রিয়াল সোসিয়েদাদ। টানা ১১ ম্যাচ জেতার পর সোসিয়েদাদের মাঠে ২-১ গোলে হেরে যায় বার্সা। ম্যাচ শেষে হ্যানসি ফ্লিক বলেন, “আমি হতাশ কারণ আমরা ভালো খেলেছি। মাঝেমধ্যে অনেক শক্তি খরচ করেও ভাগ্যের সহায়তা পাওয়া যায় না। আমরা জয়ের যোগ্য ছিলাম, কিন্তু এটাই ফুটবল।”
এক পয়েন্টের রোমাঞ্চ ও আগামী দিনের লড়াই
বার্সার হারের আগের দিনই লেভান্তেকে ২-০ গোলে হারিয়ে ব্যবধান কমিয়ে আনে রিয়াল মাদ্রিদ। যদিও বার্নাব্যুর সমর্থকরা দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে খুশি হয়ে দুয়োধ্বনি দিচ্ছিলেন, তবুও রিয়াল এখন বার্সার ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলছে। ব্যবধান এখন মাত্র ১ পয়েন্ট।
চ্যাম্পিয়নস লিগে মোনাকোকে ৬-১ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার পর আর্বেলোয়া এখন আত্মবিশ্বাসী। তিনি বলেন, “বার্নাব্যু যখন দলের পেছনে থাকে, তখন আমরা সত্যিই একটা বড় দল। খেলোয়াড়দের নিবেদন আমাকে মুগ্ধ করেছে।” অন্যদিকে স্লাভিয়া প্রাগকে ৪-২ গোলে হারিয়ে বার্সাও নিজেদের ছন্দ ফিরে পাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।
আগামী মে মাসে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আবারও মুখোমুখি হবে। ধারণা করা হচ্ছে, সেই ম্যাচটিই হয়তো নির্ধারণ করে দেবে কার হাতে উঠছে লিগ শিরোপা। গত মৌসুমেও রিয়াল ছয় পয়েন্টে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত শিরোপা খুইয়েছিল। এবার পরিস্থিতি ভিন্ন, তবে লড়াই যে শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত হবে, তা বলাই বাহুল্য।

