লিভারপুলের ড্রেসিংরুমের অন্যতম প্রভাবশালী মুখ অ্যান্ড্রু রবার্টসন কি তবে অ্যানফিল্ড অধ্যায় শেষ করতে চলেছেন? টটেনহ্যাম হটস্পার এই স্কটিশ লেফট-ব্যাককে দলে নিতে তোড়জোড় শুরু করতেই নড়েচড়ে বসেছে লিভারপুল শিবির। তবে দলের অধিনায়ক ভার্জিল ফন ডাইক সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, রবার্টসনকে তিনি কোনোভাবেই ছাড়তে চান না।
চলতি মৌসুমের শেষেই লিভারপুলের সাথে রবার্টসনের চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। আর এই সুযোগেই ৩১ বছর বয়সী এই তারকাকে পেতে আলোচনা শুরু করেছে স্পার্সরা। রবার্টসন নিজেও নিয়মিত খেলার সুযোগ পাওয়ার জন্য বিকল্প ভাবছেন।
ফন ডাইকের আকুতি
অধিনায়ক ভার্জিল ফন ডাইকের কাছে রবার্টসন শুধু একজন সতীর্থ নন, বরং মাঠের বিশ্বস্ত সঙ্গী। ফন ডাইক বলেন, “সে আমার ভাইস-ক্যাপ্টেন। রবার্টসন আমাদের দলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এবং আমি চাই সে দলেই থাকুক। তবে শেষ পর্যন্ত কী হয়, সেটা দেখার জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।”
আগামী বুধবার চ্যাম্পিয়নস লিগে কারাবাগের বিপক্ষে ম্যাচে রবার্টসন থাকবেন কি না—এমন প্রশ্নে ফন ডাইক কিছুটা কৌশলী উত্তর দেন। তিনি বলেন, “সেটা তো আমার হাতে নেই, তাই না?”
তবে বন্ধু ও সতীর্থের বিদায়ের স্মৃতিচারণ এখনই করতে রাজি নন লিভারপুল সেনাপতি।
আর্নে স্লটের নিরবতা
রবার্টসনের দলবদল নিয়ে যখন চারদিকে গুঞ্জন, তখন লিভারপুল বস আর্নে স্লট বরাবরের মতোই মুখে কুলুপ এঁটেছেন। সংবাদ সম্মেলনে জানুয়ারির দলবদল নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন, “আমার উত্তর সবসময় একই থাকে। আমরা জনসমক্ষে ট্রান্সফার নিয়ে কোনো কথা বলি না।”
তবে বোর্নমাউথের বিপক্ষে গত ম্যাচে মিলোস কারকেজের জায়গায় রবার্টসনকে নামানোই ইঙ্গিত দেয় যে, স্লটের পরিকল্পনায় এখনো তিনি আছেন।
কেন রবার্টসনকে ছাড়া লিভারপুলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ?
২০১৭ সালে মাত্র ৮ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে হাল সিটি থেকে আসা রবার্টসন লিভারপুলের হয়ে ৩৬৪টি ম্যাচ খেলেছেন। জিতেছেন চ্যাম্পিয়নস লিগ ও প্রিমিয়ার লিগসহ ৯টি ট্রফি। বর্তমানে দলে রক্ষণভাগের গভীরতা খুবই কম। জো গোমেজ ইনজুরিতে পড়ায় রক্ষণে এখন অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের অভাব স্পষ্ট।
যদিও রবার্টসন এই মৌসুমে মাত্র ৪টি লিগ ম্যাচে স্টার্ট করেছেন, তবুও চ্যাম্পিয়নস লিগ এবং এফএ কাপের মতো টুর্নামেন্টগুলোতে তাঁর অভিজ্ঞতা লিভারপুলের জন্য অমূল্য। রোমা থেকে কস্তাস সিমিকাসকে ফিরিয়ে আনার গুঞ্জন থাকলেও রবার্টসনের মতো লিডারকে জানুয়ারিতে ছেড়ে দেওয়া লিভারপুলের জন্য হবে এক আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।
দল ও খেলোয়াড়—উভয় পক্ষের স্বার্থ বিবেচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা গেছে। তবে অ্যানফিল্ডের গ্যালারি আর ভার্জিল ফন ডাইক যে তাদের প্রিয় ‘রব্বো’কে ছাড়তে প্রস্তুত নন, তা এখন দিনের আলোর মতো পরিষ্কার।

