সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসরের হয়ে কাল রাতে মাঠে নামেননি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। দলবদলের বাজারে ক্লাবের ‘অক্ষমতা’ এবং চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আল হিলালের শক্তিবৃদ্ধির প্রতিবাদে রিয়াদের বিপক্ষে ম্যাচে নিজেকে সরিয়ে রাখেন এই মহাতারকা। তবে মজার ব্যাপার হলো, তিনি মাঠে না থাকলেও তার আকাশছোঁয়া আয়ের চাকা এক মুহূর্তের জন্যও থামছে না। নতুন চুক্তির পর রোনালদোর বেতন এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা সাধারণ মানুষের কল্পনাকেও হার মানায়।
২০২২ সালে আল নাসরে যোগ দেওয়ার সময় রোনালদোর বার্ষিক বেতন ছিল ১৭ কোটি ৭০ লাখ পাউন্ড। তবে গত গ্রীষ্মে চুক্তির মেয়াদ দুই বছর বাড়ানোর পর তার আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে বাৎসরিক ২৪ কোটি ৬০ লাখ পাউন্ডে (প্রায় ৩ হাজার ১০০ কোটি টাকা)।
এছাড়া চুক্তির সময় সাইনিং বোনাস হিসেবেই তিনি পকেটে পুরেছেন প্রায় ৩১০ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে দুই বছরে তার মোট আয় হবে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি।
সেকেন্ডে কত টাকা আয় করেন সিআর সেভেন?
রোনালদোর এই আকাশছোঁয়া বেতনকে সময়ের হিসেবে ভাগ করলে পাওয়া যায় চমকপ্রদ কিছু তথ্য:
প্রতি সপ্তাহে: ৪৭ লাখ পাউন্ড (প্রায় ৬১ কোটি টাকা)।
প্রতি দিনে: ৬ লাখ ৭১ হাজার পাউন্ড (প্রায় ৮ কোটি ৭০ লাখ টাকা)।
প্রতি ঘণ্টায়: ২৮ হাজার পাউন্ড (প্রায় ৩৬ লাখ টাকা)।
প্রতি মিনিটে: ৪৬৫ পাউন্ড (প্রায় ৬০ হাজার টাকা)।
প্রতি সেকেন্ডে: প্রায় ৮ পাউন্ড (১০৫০ টাকার বেশি)।
অর্থাৎ, আপনি এই প্রতিবেদনটি পড়তে যে ৩-৪ মিনিট সময় ব্যয় করলেন, ততক্ষণে কোনো পরিশ্রম ছাড়াই রোনালদোর অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে প্রায় ২ লাখ টাকা!
চুক্তির বাইরেও বোনাসের ছড়াছড়ি
বেতনের বাইরেও রয়েছে বিশাল সব বোনাসের হাতছানি। সৌদি প্রো লিগে গোল্ডেন বুট জিতলে তিনি পাবেন ৫২ কোটি টাকা এবং আল নাসর লিগ শিরোপা জিতলে বোনাস হিসেবে পাবেন আরও ১০৪ কোটি টাকা। এছাড়া প্রতিটি গোল ও অ্যাসিস্টের জন্য যথাক্রমে ১ কোটি ও ৫২ লাখ টাকা করে বোনাস নির্ধারিত রয়েছে।
ব্যক্তিগত আরাম-আয়েশের জন্য রয়েছে প্রাইভেট জেটের সুবিধা এবং ১৬ জন গৃহকর্মী ও নিরাপত্তারক্ষীর বিশাল বহর, যার সব খরচ বহন করে আল নাসর কর্তৃপক্ষ।
রোনালদো কেন ‘প্রতিবাদী’?
সৌদি আরবের পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড (PIF) দেশটির শীর্ষ চারটি ক্লাব নিয়ন্ত্রণ করে। রোনালদোর অভিযোগ, আল নাসরের তুলনায় আল হিলালকে বেশি সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।
আল হিলাল যখন বড় বড় তারকাদের দলে ভেড়াচ্ছে এবং শেষ মুহূর্তে করিম বেনজেমাকেও ইত্তিহাদ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে, সেখানে আল নাসর শীতকালীন দলবদলে বড় কোনো নাম আনতে ব্যর্থ হয়েছে। এই ‘অন্যায্য’ আচরণের প্রতিবাদেই মূলত আল রিয়াদের বিপক্ষে ১-০ গোলে জেতা ম্যাচে অনুপস্থিত ছিলেন তিনি।
রোনালদোর এই অনুপস্থিতি সত্ত্বেও আল নাসর জয় পেয়েছে ঠিকই, কিন্তু মাঠের বাইরে তার এই ‘পাওয়ার প্লে’ সৌদি ফুটবলে এক নতুন অস্থিরতার জন্ম দিয়েছে।
এখন দেখার বিষয়, আগামী শুক্রবার আল ইত্তিহাদের বিপক্ষে হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে ফুটবল বিশ্ব আবার তাদের প্রিয় তারকাকে মাঠে দেখতে পায় কি না।

