উপমহাদেশের ক্রিকেটে ‘খেলার মাঠে রাজনীতি নয়’—এই নীতিকথাটি যেন কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ। বাস্তব চিত্র বলছে, ক্রিকেট এখানে রাজনৈতিক হাতিয়ার, আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) সেই রাজনীতির এক অদৃশ্য ক্রীড়নক। ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের প্রতি আইসিসির বিমাতাসুলভ আচরণ এবার খোদ ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক নাসের হুসেইনকেও ক্ষুব্ধ করে তুলেছে।
‘ইন্ডিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল’ ও জয় শাহ ফ্যাক্টর
স্কাই ক্রিকেট পডকাস্টে নাসের হুসেইন যেন ক্রিকেট বিশ্বের অনেকদিনের জমে থাকা ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটালেন। তিনি মনে করিয়ে দেন, আইসিসি আজ ভারতের ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর ছেলে জয় শাহ আইসিসি চেয়ারম্যান হওয়ার পর এই প্রভাব আরও স্পষ্ট।
নাসেরের মতে, ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণেই বারবার পাকিস্তান ও বাংলাদেশের ক্রিকেট ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
নাসের হুসেইনের বিস্ফোরক প্রশ্ন
পাকিস্তান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দেওয়ার পর আইসিসির ঘুম হারাম হয়ে গেছে। এই প্রসঙ্গে নাসের হুসেইন এক কঠিন প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন।
তিনি বলেন, “যদি ভারত বিশ্বকাপের এক মাস আগে বলত যে তাদের সরকার চায় না তারা এই টুর্নামেন্টে খেলুক, তবে কি আইসিসি ভারতকে বাদ দেওয়ার সাহস দেখাত? কখনোই না। অথচ বাংলাদেশের নিরাপত্তার দাবিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তাদের টুর্নামেন্ট থেকেই সরিয়ে দেওয়া হলো।”
নাসের ভারতকে কটাক্ষ করে আরও বলেন, “বাংলাদেশ-ভারত-পাকিস্তান সবার সঙ্গে সমান আচরণ করা উচিত। ভারতীয় সমর্থকরা হয়তো বলবেন, ‘তোমরা কাঁদতে থাকো, আমাদের টাকা আছে।’ কিন্তু ক্ষমতার সঙ্গে দায়িত্বের ব্যাপারও থাকে।”
সংকট নিরসনে শর্ত
সূচি অনুযায়ী ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোয় ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ হওয়ার কথা। তবে এই জট খোলার জন্য পাকিস্তান কিছু শর্ত দিয়েছে, যা এখন আইসিসির টেবিলে:
বাংলাদেশকে ফেরানো: হাতে থাকা ৩ দিনের মধ্যে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে ফিরিয়ে তাদের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় আয়োজন করতে হবে।
আনুষ্ঠানিক ক্ষমা: যদি ফেরানো সম্ভব না হয়, তবে আইসিসির দায়িত্বশীল কাউকে সশরীরে ঢাকা এসে বাংলাদেশের জনগণের কাছে ক্ষমা চেয়ে বা দুঃখ প্রকাশ করে বিবৃতি দিতে হবে।
ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ কোন দিকে?
নিরাপত্তার ইস্যুতে লিটন দাস ও মোস্তাফিজুর রহমানদের বিশ্বকাপে খেলতে না পারা কেবল বিসিবির ক্ষতি নয়, বরং বিশ্ব ক্রিকেটের স্পিরিটের পরাজয়। পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ যে অনড় অবস্থানে রয়েছেন, তাতে আইসিসি যদি দ্রুত কোনো সম্মানজনক সমাধানে না পৌঁছায়, তবে এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ তার জৌলুস হারানোর পাশাপাশি বড় ধরণের আর্থিক ও প্রশাসনিক সংকটে পড়বে।
নাসের হুসেইনের এই বিশ্লেষণ প্রমাণ করে যে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সমঅধিকার প্রতিষ্ঠা না হলে ‘সোনার ডিম পাড়া রাজহাঁস’ ভারত-পাকিস্তান ম্যাচই একদিন বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে।

