২০২৬ বিশ্বকাপ শুরু হতে হাতে আর মাত্র কয়েক মাস। ব্রাজিল ভক্তদের মনে এখন একটাই প্রশ্ন—সেরাসাওদের হলুদ জার্সিতে কি শেষবারের মতো বিশ্বমঞ্চে দেখা যাবে নেইমার জুনিয়রকে? ব্রাজিলের বর্তমান কোচ কার্লো আনচেলত্তি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, দলে জায়গা পেতে হলে নেইমারকে কেবল নাম নয়, বরং ফিটনেস পরীক্ষার কঠিন অগ্নিপরীক্ষায় পাস করতে হবে। আর এই প্রমাণের লড়াইয়ে নেইমারের একমাত্র মঞ্চ এখন তাঁর শৈশবের ক্লাব সান্তোস।
গত ডিসেম্বরে বাঁ-হাঁটুতে অস্ত্রোপচারের পর নেইমার বর্তমানে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার শেষ ধাপে আছেন। সান্তোস কোচ হুয়ান পাবলো ভোজভোডা নেইমারের অনুশীলনে ফেরায় আশাবাদী হলেও তাকে মাঠে নামানোর বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক।
ভোজভোডা বলেন, “সে তো দলের সঙ্গে ফিরেছে। কিন্তু তার মতো একজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে ফেরার জন্য একদম সেরা অবস্থানে থাকতে হবে। সে তো মানুষ, আমরা তাকে নিয়ে কোনো তাড়াহুড়ো করতে চাই না। সে বিশ্বকাপ খেলতে চায়, আর তার জন্য পর্যাপ্ত অনুশীলনের বিকল্প নেই।”
রোববার কি দেখা যাবে নেইমারকে?
গত ২২ ডিসেম্বর থেকে মাঠের বাইরে থাকা ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড গত সপ্তাহে পুরোদমে ট্রেনিং শুরু করেছেন। কিছু গণমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, আগামী রোববার নোরোয়েস্তের বিপক্ষে ম্যাচে সান্তোসের জার্সিতে মাঠে দেখা যেতে পারে তাকে।
গত মৌসুমে সান্তোসকে রেলিগেশনের হাত থেকে রক্ষা করা নেইমার এখন নিজেকে উজাড় করে দিতে প্রস্তুত। কোচ ভোজভোডার মতে, নেইমার যখন ছন্দে থাকেন, তখন তিনি এমন কিছু পার্থক্য তৈরি করতে পারেন যা বিশ্বের আর কেউ পারে না।
গাবিগোলের সমর্থন: নেইমার কি কেবলই ‘রক্ষক’?
নেইমারের ওপর থেকে মানসিক চাপ কমাতে এগিয়ে এসেছেন সান্তোসের নতুন সাইনিং গ্যাব্রিয়েল বারবোসা (গাবিগোল)। গত মাসে ক্রুজেইরো থেকে যোগ দেওয়া এই ফরোয়ার্ড মনে করেন, নেইমারকে এককভাবে ‘জাতির রক্ষক’ হিসেবে দেখা উচিত নয়।
গাবিগোল বলেন, “সে আমাদের গ্রুপের আইডল এবং দুর্দান্ত একজন নেতা। আমরা আশা করব সে কোনো চাপ ছাড়া শতভাগ ফিট হয়ে ফিরবে এবং সান্তোস ও জাতীয় দলকে সাহায্য করবে।”
আনচেলত্তির কঠিন চ্যালেঞ্জ
ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি চান নেইমার বিশ্বকাপের আগে নিয়মিত ম্যাচ খেলে নিজের কার্যকারিতা প্রমাণ করুক। চোট কাটিয়ে ফেরার পর নেইমারের গতি ও স্ট্যামিনা আগের মতো আছে কি না, সেটাই হবে মূল বিচার্য বিষয়।
জুনের বিশ্বকাপের আগে হাতে খুব বেশি সময় নেই, তাই সান্তোসের আসন্ন ম্যাচগুলোই নির্ধারণ করবে নেইমারের হেক্সা মিশনের ভাগ্য।

