যেকোনো টুর্নামেন্টে রান রেট বা হারের ব্যবধান কমানোর হিসাব শুরু হয় সাধারণত এক-দুটি ম্যাচ পার হওয়ার পর। কিন্তু ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের চিত্রটা একদম ভিন্ন। আজ কলম্বোর প্রেমাদাসায় নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে যখন সালমান আগার দল মাঠে নামবে, তাদের মাথায় থাকবে কেবল জয় নয়, বরং বড় ব্যবধানে জেতার এক পাহাড়সম চাপ। ভারত-ম্যাচ বয়কটের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণে পাকিস্তান আজ মাঠে নামছে কার্যত ‘দুই পয়েন্ট’ পিছিয়ে থেকে।
‘এ’ গ্রুপে অন্য সব দলের জন্য ম্যাচ চারটি হলেও পাকিস্তানের জন্য তা এখন তিন। ১৫ ফেব্রুয়ারির হাই-ভোল্টেজ ভারত-ম্যাচ বয়কট করার অর্থ হলো—পাকিস্তান কেবল মূল্যবান দুই পয়েন্টই হারাচ্ছে না, বরং রান রেটের হিসাবেও বড় এক শূন্যতা তৈরি হচ্ছে। ফলে সুপার এইটে যেতে হলে নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাষ্ট্র ও নামিবিয়ার বিপক্ষে তিনটি ম্যাচেই পাকিস্তানকে জিততে হবে বড় ব্যবধানে।
আজ বেলা সাড়ে ১১টায় শুরু হওয়া ম্যাচটি তাই পাকিস্তানের জন্য কেবল একটি ম্যাচ নয়, বরং টুর্নামেন্টে টিকে থাকার লড়াই।
তবে পাকিস্তানের জন্য এই পথটা খুব একটা মসৃণ হবে না। কলম্বোয় পৌঁছানোর পর থেকে বৃষ্টির কারণে তারা একটিও ওয়ার্মআপ ম্যাচ খেলতে পারেনি। সরাসরি নামতে হচ্ছে মূল পর্বে।
আবহাওয়া রিপোর্ট বলছে, আজকের ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসেও বৃষ্টির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। যদি কোনো কারণে ম্যাচটি পরিত্যক্ত হয় এবং পাকিস্তান ১ পয়েন্ট পায়, তবে সেটি তাদের জন্য পরাজয়ের সমান হবে। কারণ বাকি দুই ম্যাচে জয় পেলেও সুপার এইটের সমীকরণ মেলাতে তাদের অন্যের ওপর নির্ভর করতে হবে।
প্রতিপক্ষ নেদারল্যান্ডসকে খাটো করে দেখার উপায় নেই পাকিস্তানের। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সহযোগী দেশগুলোর মধ্যে ডাচরাই সবচেয়ে বেশি পূর্ণ সদস্য দেশকে হারানোর গৌরব অর্জন করেছে। ২০২২ বিশ্বকাপে তাদের কাছে হেরেই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছিল শক্তিশালী দক্ষিণ আফ্রিকা। পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আগা অবশ্য সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানিয়েছেন, আইসিসি টুর্নামেন্টে সব ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ এবং তারা সেরা ক্রিকেট খেলার মানসিকতা নিয়েই মাঠে নামছেন।
আজকের দিনে কলম্বোর এই ম্যাচের পাশাপাশি আরও দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। ভারতের ইডেন গার্ডেনসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হবে স্কটল্যান্ড এবং মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়েতে স্বাগতিক ভারত লড়বে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে।
তিনটি ম্যাচেরই একটি বড় মিল হলো সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের প্রতিপক্ষ কোনো না কোনো সহযোগী দেশ। তবে সব ছাপিয়ে ক্রিকেট বিশ্বের নজর এখন পাকিস্তানের দিকে। রাজনৈতিক কারণে ম্যাচ বয়কটের প্রভাব তাদের মাঠের পারফরম্যান্সে কতটা পড়ে, সেটাই দেখার বিষয়।

