২০০৩-০৪ মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগে শেষ ১৬-র নকআউট পর্ব পুনরায় চালুর পর থেকে প্রতিবারই অন্তত একটি ইতালীয় ক্লাব এই পর্যায়ে খেলেছে। কিন্তু ২০২৬ সালে এসে সেই গর্বের ইতিহাস ধূলিসাৎ হওয়ার পথে। মঙ্গলবার রাতে সান সিরোতে বোডো/গ্লিম্টের কাছে ইন্টার মিলানের স্তম্ভিত করে দেওয়া হার ইতালীয় ফুটবলকে এক চরম বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
ইন্টারের লজ্জাজনক বিদায়
গত মৌসুমের ফাইনালিস্ট এবং বর্তমানে সিরি-আ টেবিলের ১০ পয়েন্টে এগিয়ে থাকা শীর্ষ দল ইন্টার মিলান প্লে-অফের প্রথম লেগে ৩-১ গোলে হারের পর ফিরতি লেগে নিজেদের মাঠে ২-১ গোলে হেরেছে। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের বাইরের কোনো দলের কাছে ইন্টারের চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে বিদায় নেওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম।
রোনালদো এবং ক্রিশ্চিয়ান ভিয়েরির মতো কিংবদন্তিদের উপস্থিতিতে এই হার ইতালীয় ফুটবলের সোনালী অতীতের সাথে বর্তমানের করুণ পার্থক্যেরই প্রতীক হয়ে থাকল।
শেষ ভরসা জুভেন্টাস ও আটলান্টা
ইন্টারের বিদায়ের পর এখন সব চোখ জুভেন্টাস ও আটলান্টার দিকে। তবে তাদের পথও বেশ কঠিন:
জুভেন্টাস: গালাতাসারের বিপক্ষে প্রথম লেগে ৫-২ গোলে পিছিয়ে আছে তারা। শেষ ১৬-তে যেতে তুরিনে তাদের ৪-০ ব্যবধানে জিততে হবে।
আটলান্টা: বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের বিপক্ষে প্রথম লেগে ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকে আজ বুধবার মাঠে নামবে তারা।
যদি এই দুই দলও ব্যর্থ হয়, তবে ১৯৮৭-৮৮ মৌসুমের পর প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগের নকআউট পর্বে কোনো ইতালীয় ক্লাব থাকবে না।
কেন এই পতন?
ইতালীয় ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, এই বিপর্যয়ের পেছনে কয়েকটি বড় কারণ কাজ করছে।
১. তীব্রতার অভাব (Intensity): ক্লদিও রানিয়েরির মতে, ইংল্যান্ড বা অন্য লিগের দলগুলো ইতালির চেয়ে বেশি অনুশীলন না করলেও তাদের খেলার গতি ও তীব্রতা অনেক বেশি। ইতালীয় ক্লাবগুলো খেলছে শ্লথ গতিতে, যা ইউরোপীয় ফুটবলে মুখ থুবড়ে পড়ছে।
২. সেরা তারকাদের বিদায়: সিরি-আ আর আগের মতো সেরা তারকাদের ধরে রাখতে পারছে না। গতবারের সর্বোচ্চ গোলদাতা মাতেও রেতেগুই যোগ দিয়েছেন সৌদি লিগে, আর টিজানি রেইন্ডার্স ও লোকমানরা পাড়ি জমিয়েছেন ম্যানচেস্টার সিটি ও আতলেতিকো মাদ্রিদে।
৩. একাডেমির ব্যর্থতা: স্পোর্টিং সিপি বা বোডো/গ্লিম্টের মতো ক্লাবগুলো দারুণ স্কাউটিং ও একাডেমি থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় বের করলেও ইতালীয় একাডেমিগুলো এখন আর মানসম্পন্ন তরুণ খেলোয়াড় তৈরি করতে পারছে না।
আরও পড়ুন: আমিনুল হক: মাঠের দেয়াল থেকে ক্রীড়াঙ্গনের অধিপতি
জাতীয় দলেও একই সংকট
কেবল ক্লাব ফুটবল নয়, আজ থেকে পাঁচ বছর আগের ইউরো চ্যাম্পিয়ন ইতালি জাতীয় দলও এখন টানা তৃতীয় বিশ্বকাপ মিস করার শঙ্কায়। আগামী মার্চে প্লে-অফ বাধা পার হতে না পারলে তারা টানা তিনবার ফুটবল মহাযজ্ঞে ব্রাত্য থেকে যাবে।
ইন্টারের মতো জায়ান্টদের এই পতন কি ইতালীয় ফুটবলের আমূল পরিবর্তনের ঘণ্টা বাজাচ্ছে? নাকি জুভেন্টাস-আটলান্টা কোনো অলৌকিক কিছু করে মান রক্ষা করবে?

