প্রথম ৯ ওভারে পাকিস্তানের রান ছিল বিনা উইকেটে ৩৫। মিরপুরের পিচে তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমান যখন উইকেটের দেখা পাচ্ছিলেন না, ঠিক তখনই বল হাতে দৃশ্যপটে হাজির নাহিদ রানা। এরপরের ১০ ওভারে যা ঘটল, তা পাকিস্তানের জন্য কোনো দুঃস্বপ্নের চেয়ে কম নয়। মাত্র ৩৫ রান যোগ করতেই পাকিস্তান হারাল ৬ উইকেট, যার ৫টিই একাই শিকার করলেন গতির রাজা নাহিদ রানা।
এক অবিশ্বাস্য স্পেল
পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে অধিনায়ক মিরাজ বল তুলে দিয়েছিলেন নাহিদের হাতে। নিজের প্রথম স্পেলের টানা পাঁচ ওভারের প্রতিটিতেই একটি করে উইকেট তুলে নিয়ে পাকিস্তানকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেন তিনি। ৭ ওভারে মাত্র ২৪ রান খরচায় তাঁর শিকার ৫ উইকেট। এটিই এখন ওয়ানডেতে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের কোনো বোলারের সেরা বোলিং রেকর্ড।
গতির সঙ্গে বুদ্ধিমত্তার মিশেল
নাহিদের আজকের বোলিংয়ে কেবল গতিই ছিল না, ছিল দারুণ বুদ্ধিমত্তা। সালমান আগাকে আউট করার পরিকল্পনাটি ছিল দেখার মতো। স্কয়ার লেগে হেলমেট পরা তানজিদ হাসানকে দাঁড় করিয়ে রেখে ঠিক সেখানেই পুল করতে বাধ্য করেন সালমানকে। এর আগে ওপেনার মাজ সাদাকাত এবং রিজওয়ানকেও গতির তোপে পরাস্ত করেন তিনি।
সাদা বলের ক্রিকেটেও নয়া ত্রাস
টেস্টে নিয়মিত হলেও ওয়ানডেতে নাহিদ রানা এখন পর্যন্ত ততটা থিতু হতে পারেননি। তবে আজকের পারফরম্যান্স টিম ম্যানেজমেন্টকে শক্ত বার্তা দিয়ে রাখল। শর্ট লেন্থের নিখুঁত ব্যবহার এবং বাউন্সারে যেভাবে পাকিস্তানি ব্যাটারদের নাজেহাল করেছেন, তাতে বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশ দল একজন ‘জেনুইন’ ফাস্ট বোলার খুঁজে পেল। রিভিউ নিলে হয়তো তাঁর ঝুলিতে আরও একটি উইকেট যোগ হতে পারত।
শুরুতে উইকেটহীন ৯ ওভারের পর নাহিদ রানার হাত ধরে যেভাবে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে, তাতে মিরপুরের গ্যালারি আজ তৃপ্তির ঢেকুর তুলতেই পারে।

