রিয়াল মাদ্রিদের জার্সি গায়ে পেনাল্টি মিস করার পর হতাশ ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।পেনাল্টিতে হতাশ করছেন ভিনিসিয়ুস। ছবি: লা প্রেসে।

ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজেদের সর্বশেষ ম্যাচে বড় জয়ের ম্যাচেও রিয়াল মাদ্রিদ শিবিরে অস্বস্তির নাম ছিলেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের পেনাল্টি মিস। আরবেলোয়ার শিষ্যরা যখন ম্যাচে জয়ের সুবাস পাচ্ছিল, তখন পেনাল্টি থেকে ৪-০ করার সুযোগ হাতছাড়া করেন ভিনি। এই ব্যর্থতার পর স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমগুলো ভিনিসিয়ুসের পেনাল্টি পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখাচ্ছে কেন তিনি এই পদের জন্য সেরা পছন্দ নন।

পরিসংখ্যানে পিছিয়ে ভিনিসিয়ুস

ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের গতি, ড্রিবলিং এবং ম্যাচ জেতানোর ক্ষমতা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু পেনাল্টি স্পটে দাঁড়ালেই যেন খেই হারিয়ে ফেলছেন তিনি।

পরিসংখ্যন অনুযায়ী, রিয়ালের হয়ে ১৪টি পেনাল্টির মধ্যে ৪টিই মিস করেছেন তিনি। তাঁর সাফল্যের হার মাত্র ৭১.৪৩%, যা একবিংশ শতাব্দীতে রিয়ালের হয়ে কমপক্ষে ১০টি পেনাল্টি নেওয়া খেলোয়াড়দের মধ্যে সর্বনিম্ন।

আকাশ-পাতাল পার্থক্য

পেনাল্টিতে রিয়ালের ইতিহাসের সেরাদের তুলনায় ভিনিসিয়ুসের রেকর্ড বেশ ম্লানই বলতে হবে। কি রকম? দেখা যাক-

সার্জিও রামোস: ২৩টির মধ্যে ২২টি গোল (সাফল্যের হার ৯৫.৬৫%)।

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো: ৯০টি চেষ্টার মধ্যে ৭৯টি গোল (সাফল্যের হার ৮৭.৭৮%)।

করিম বেনজেমা: ৩৭টির মধ্যে ৩২টি গোল (সাফল্যের হার ৮৬.৪৯%)।

এমবাপ্পেই কি তবে সেরা সমাধান?

বর্তমানে রিয়াল মাদ্রিদের অফিশিয়াল পেনাল্টি টেকার কিলিয়ান এমবাপ্পে। যদিও তিনিও এ মৌসুমে ৪টি পেনাল্টি মিস করেছেন, তবে সাফল্যের হারে তিনি ভিনির চেয়ে এগিয়ে। ২৩টি পেনাল্টি নিয়ে এমবাপ্পের গোল করার হার ৮২.৬১%। ফলে ভিনিসিয়ুসের চেয়ে এমবাপ্পের ওপরই বেশি আস্থা রাখা যুক্তিযুক্ত মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তবে পেনাল্টি বিতর্ক সরিয়ে রাখলে ভিনিসিয়ুসের চলতি মৌসুম কাটছে দুর্দান্ত। ৪০ ম্যাচে ১৩টি গোল এবং ১১টি অ্যাসিস্ট নিয়ে তিনি বিশ্বের অন্যতম কার্যকর খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। কিন্তু শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে একটি পেনাল্টি মিস অনেক বড় ক্ষতি করে দিতে পারে, তাই কোচ আরবেলোয়াকে পেনাল্টি টেকার নিয়ে নতুন করে ভাবতে হতে পারে।