হামজা চৌধুরীর সঙ্গে মোরসালিন।হামজা চৌধুরীর সঙ্গে জাতীয় দলের আরেক প্রতিভা মোরসালিন।

নাড়ির টানে যখন পুরো দেশ শহর ছেড়ে বাড়ির পথে, ঠিক তখনই মাঠের লড়াইয়ে ঘাম ঝরাচ্ছেন জাতীয় দলের ফুটবলাররা। সামনেই পবিত্র ঈদুল ফিতর, কিন্তু দেশের প্রয়োজনে এবার পরিবারের বাইরেই কাটবে জামাল ভূঁইয়া-মোরসালিনদের ঈদ। এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আগামী ৩১ মার্চ সিঙ্গাপুরের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। তার আগে ২৬ মার্চ ভিয়েতনামের বিপক্ষে একটি প্রস্তুতি ম্যাচে মাঠে নামবে হাভিয়ের কাবরেরার দল। এই দুই ম্যাচকে সামনে রেখেই আজ থেকে শুরু হয়েছে কড়া অনুশীলন।

পরিবারের বদলে মাঠই এখন ঠিকানা

বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় আজ অনুশীলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন দলের অন্যতম ভরসা শেখ মোরসালিন। ঈদে বাড়ি ফিরতে না পারার আক্ষেপ থাকলেও দেশের জন্য ত্যাগ স্বীকার করতে পেরে গর্বিত এই তরুণ মিডফিল্ডার।

তিনি বলেন, “আমরা তো আসলে ত্যাগ করছি। পরিবারের সঙ্গে কেউ ঈদ করতে পারছি পারছি না। তো দিনশেষে আমাদের চেষ্টা থাকবে যেন আমরা ভালো একটা রেজাল্ট করতে পারি এই আসন্ন দুটি ম্যাচে। আমরা দেশের মানুষকে জয় উপহার দিতে চাই, এটাই আমাদের আশা থাকবে।”

লক্ষ্য এখন বড় দলের গোলপোস্ট

গত নভেম্বরে ২২ বছর পর ভারতকে হারানোর নেপথ্য কারিগর ছিলেন মোরসালিন। তাঁর একমাত্র গোলেই সেই ঐতিহাসিক জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। বড় ম্যাচে গোল করার ক্ষুধা মোরসালিনের সব সময়ই বেশি। তবে নিজের গোলের চেয়ে দলের জয়কেই বড় করে দেখছেন তিনি।

মোরসালিন যোগ করেন, “আমি সব সময় চেষ্টা করি দলের হয়ে খেলার জন্য। তো আমার প্রথম প্রাধান্য থাকবে যে দলকে আগে কীভাবে জেতানো যায়। এরপর যদি সুযোগ আসে অবশ্যই চেষ্টা করব গোল করার জন্য। তবে আমার প্রথম লক্ষ্য হচ্ছে গোল করানো বা দলকে জেতানো।”

পড়ুন আরও: বাংলাদেশ ছাড়তে চান না স্প্যানিশ কোচ কাবরেরা!

কাবরেরার কৌশলে নতুন লক্ষ্য

কোচ কাবরেরার অধীনে ফুটবলাররা এখন উজ্জীবিত। সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ম্যাচটি কোচের চুক্তির মেয়াদের শেষ ম্যাচ হতে পারে, তাই ফুটবলাররা চান জয় দিয়ে এই অধ্যায়কে স্মরণীয় করতে। প্রবাসীদের আগমনে দলের শক্তি বাড়লেও মোরসালিনের মতো স্থানীয় তারকাদের পারফরম্যান্সই হবে শেষ পর্যন্ত পার্থক্য গড়ে দেওয়ার কারিগর।

ঈদের দিনে পরিবারের সান্নিধ্য মিস করলেও মাঠের জয় দিয়ে ১৬ কোটি মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই এখন বাংলাদেশ দলের একমাত্র ব্রত।