অনুশীলনে দলের উদ্দেশ্যে কথা বলছেন ব্রেন্ডন ম্যাককালাম।ম্যাককালামের কোচিংয়ে এখন গড়বড় হচ্ছে ইংলিশ ক্রিকেটে। ছবি: পিএ ফটোস

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দল থেকে বাদ পড়া কোনো খেলোয়াড়ের জন্য সুখকর নয়। কিন্তু লিয়াম লিভিংস্টোন ইংল্যান্ড জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ার পর যা বললেন, তা কেবল একজন ক্ষুব্ধ খেলোয়াড়ের অভিযোগ নয়; বরং এটি বর্তমান ইংল্যান্ড ক্রিকেট ম্যানেজমেন্টের ভেতরের কঙ্কালসার অবস্থাকেই সামনে নিয়ে এসেছে। ইএসপিএন-ক্রিকইনফোতে দেওয়া এক বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে লিভিংস্টোন রবার্ট কি এবং ব্র্যান্ডন ম্যাককালামের নেতৃত্বাধীন সেট-আপ নিয়ে এমন কিছু প্রশ্ন তুলেছেন, যা ইসিবি-র (ECB) জন্য চরম অস্বস্তিকর।

যোগাযোগহীন ম্যানেজমেন্ট ও রবার্ট কি-র ভূমিকা

লিভিংস্টোনের প্রধান অভিযোগের তীর ইংল্যান্ডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর রবার্ট কি-র দিকে। লিভিংস্টোন জানান, গত গ্রীষ্মজুড়ে তিনি কেন্দ্রীয় চুক্তিতে থাকলেও ম্যানেজমেন্টের পক্ষ থেকে তাঁর সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। ছয় মাসের দীর্ঘ নীরবতার পর একটি সংক্ষিপ্ত ফোন কলের মাধ্যমে তাঁকে বাদ দেওয়ার খবর জানানো হয়।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একজন সিনিয়র ক্রিকেটারের সাথে এমন ‘অপেশাদার’ আচরণ ইংল্যান্ড ক্রিকেটের বর্তমান পরিবেশ নিয়ে বড় প্রশ্ন তোলে।

ম্যাককালামের ‘ইনফরমাল অপারেশন’ কি ব্যর্থ?

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল থেকে বিদায় এবং অ্যাশেজে ৪-১ ব্যবধানে বিধ্বস্ত হওয়ার পর ব্র্যান্ডন ম্যাককালাম তাঁর পরিচালনা পদ্ধতিকে ‘ইনফরমাল’ বলে রক্ষা করতে চেয়েছেন। কিন্তু লিভিংস্টোনের দাবি, এই অতিরিক্ত শিথিলতা খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সের মান কমিয়ে দিচ্ছে। ফিল্ডিং কোচ বা ফাস্ট বোলিং কোচ নিয়োগে বিলম্ব এবং সঠিক পরিকল্পনার অভাবই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইংল্যান্ডের ভরাডুবির কারণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ইংল্যান্ডের ক্রিকেটার লিয়াম লিভিংস্টোন।
ইংল্যান্ডের ক্রিকেটার লিয়াম লিভিংস্টোন। ছবি: গেটি

‘ইউজড অ্যান্ড থ্রোন’—তালিকাটা বেশ লম্বা

লিভিংস্টোনই প্রথম নন যিনি নিজেকে অবহেলিত মনে করছেন। জনি বেয়ারস্টো, বেন ফোকস, জ্যাক লিচ, অলি রবিনসন এবং জেসন রয়ের মতো তারকাদেরও অনেকটা ‘অপ্রয়োজনীয়’ মনে হওয়া মাত্রই ছুড়ে ফেলা হয়েছে। যখন দল জিতছিল, তখন এই সিদ্ধান্তগুলোকে ‘কঠোর’ হিসেবে দেখা হতো। কিন্তু এখন যখন ইংল্যান্ড হারছে, তখন এই যোগাযোগহীন নির্বাচক প্যানেলকে চরম অদক্ষ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।

কাউন্টি ক্রিকেট বনাম ইন্সটাগ্রাম সিলেকশন!

ইংল্যান্ড ক্রিকেটের সাথে তৃণমূলের কাউন্টি ক্রিকেটের দূরত্ব এখন আকাশচুম্বী। সারে-র কোচ গ্যারেথ ব্যাটি আক্ষেপ করে বলেছেন, কাউন্টি থেকে জাতীয় দলে যাওয়ার রাস্তা এখন ধোঁয়াশায় ঢাকা। এমনকি অধিনায়ক ররি বার্নস তো রসিকতা করে বলেই দিয়েছেন—এখন বোধহয় ইন্সটাগ্রামে দু-একটা শট দিলেই জাতীয় দলে ডাক পাওয়া যায়! শোয়েব বশিরের মতো তরুণদের পারফরম্যান্সের চেয়ে ‘পটেনশিয়াল’ দেখে দলে নেওয়া কাউন্টি ক্রিকেটের সামাজিক চুক্তিকে ভঙ্গ করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সমাধানের পথ কী?

আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে লুক রাইটের পরিবর্তে নতুন নির্বাচক নিয়োগ করতে যাচ্ছে ইসিবি। নতুন নির্বাচককে অবশ্যই রবার্ট কি-র প্রভাবমুক্ত হয়ে স্বাধীনভাবে কাজ করতে হবে। বর্তমান ‘স্ট্যাটাস কুয়ো’ বা স্থিতাবস্থা ইংল্যান্ড ক্রিকেটের জন্য আর টেকসই নয়। রবার্ট কি এবং রিচার্ড গোল্ডের আসন্ন সংবাদ সম্মেলনই বলে দেবে ইংল্যান্ড ক্রিকেট কি আদতে নিজেদের ভুল থেকে শিক্ষা নিচ্ছে, নাকি একই পথে ধ্বংসের দিকে এগোচ্ছে।