ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (IPL) মানেই বড় তারকাদের মেলা। তবে যখন আইপিএলের নতুন আসর শুরু হচ্ছে, তখন সবার নজর থাকবে একজনের দিকে—বৈভব সূর্যবংশী। আজ ১৬ বছরে পা দেওয়ার দিনে এক অদ্ভূত প্রশ্নের সামনে দাঁড়িয়ে ভারতীয় ক্রিকেট: বৈভব কি তবে বিশ্বজয়ের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত?
শচীনের রেকর্ড কি ভাঙতে চলেছেন বৈভব?
মাত্র ৯ বছর বয়সে ক্রিকেট শুরু করা এই বিস্ময়বালক তিন বছর আগেই আলোচনায় এসেছিলেন ১২ বছর বয়সে বাবার বয়সী বোলারদের শাসন করে। আইসিসি’র এখনকার নিয়ম অনুযায়ী ১৫ বছরের নিচে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক সম্ভব নয়, তাই পাকিস্তানের হাসান রাজার (১৪ বছর ২২৭ দিন) রেকর্ডটি নিরাপদ। তবে শচীন টেন্ডুলকারের সেই ঐতিহাসিক রেকর্ড (১৬ বছর ২০৫ দিন) এখন বৈভবের হাতের নাগালে। অনেকেই মনে করছেন, ভারত আর বেশিদিন এই প্রতিভাকে বসিয়ে রাখবে না।
সেই বৃষ্টিভেজা দিন এবং বৈভবের ভাগ্যবদল
২০২৩ সালে বিনু মানকড় ট্রফির একটি ম্যাচ বৃষ্টিতে ধুয়ে না গেলে হয়তো বৈভবের উত্থান কিছুটা পিছিয়ে যেত। নির্বাচক তিলক নাইডু সেই ম্যাচ দেখতে গিয়ে ফিরে আসার পথে বিহারের এই ছেলেটির কথা শুনে অন্য একটি মাঠে যান। সেখানে ১৩ বছরের কম বয়সী বৈভবের ৭৬ বলে ৮৬ রানের ইনিংস দেখে তিনি মুগ্ধ হন। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ভিভিএস লক্ষ্মণের তত্ত্বাবধানে বেঙ্গালুরুতে নিজেকে শাণিত করেন বৈভব।
আইপিএল ও অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে তাণ্ডব
অনেকেই ভেবেছিলেন ১৩ বছর বয়সে রাজস্থান রয়্যালসের দেওয়া ১ লক্ষ ৩০ হাজার ডলারের বিনিয়োগ হয়তো বৃথা যাবে। কিন্তু ২০২৫ মৌসুমে শার্দুল ঠাকুরকে প্রথম বলেই ছক্কা মেরে বৈভব বুঝিয়ে দেন তিনি হার মানতে আসেননি। গুজরাট টাইটানসের বিপক্ষে মাত্র ৩৫ বলে সেঞ্চুরি করে সিনিয়র প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ান হওয়ার গৌরব অর্জন করেন তিনি।
২০২৬ সালের শুরুতে জিম্বাবুয়ের মাটিতে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে তাঁর ব্যাট হয়ে ওঠে আগ্নেয়গিরি। বিশেষ করে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ফাইনালে ৮০ বলে ১৭৫ রানের সেই টর্নেডো ইনিংস (১৫টি ছক্কা ও ১৫টি চার) ক্রিকেট বিশ্বকে স্তব্ধ করে দেয়। ভারত সেই আসরে চ্যাম্পিয়ন হয় এবং বৈভব হয়ে ওঠেন টুর্নামেন্টের অবিসংবাদিত নায়ক।
আরও পড়ুন: কোহলি-রোহিতকে ছাপিয়ে বিজয় হাজারেতে ইতিহাস গড়লেন বৈভব সূর্যবংশী
কিংবদন্তিদের চোখে বৈভব
বৈভবের ব্যাটিং দেখে মুগ্ধ রবি শাস্ত্রী বলেন, “শচীন বা কোহলি এই বয়সে কতটা ভালো ছিলেন? যদি এই ছেলেটি এখনই এত ভালো খেলে, তবে তাকে বড়দের ক্রিকেটে না খেলানোর কোনো কারণ নেই।” অন্যদিকে এবি ডি ভিলিয়ার্স তাকে ‘পরিণত’ এবং ম্যাথু হেইডেন তাঁকে ‘তরুণদের অনুপ্রেরণা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। স্বয়ং শচীন টেন্ডুলকার প্রশংসা করেছেন তাঁর নির্ভীক মানসিকতা ও দ্রুত বল রিড করার ক্ষমতার।
২৭ মার্চ: ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি?
২৭ মার্চ ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য একটি বিশেষ দিন। ১৯৯৪ সালের এই দিনে নভজ্যোত সিং সিধু ইনজুরিতে পড়ায় নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওপেন করতে নেমেছিলেন শচীন টেন্ডুলকার। সেই ৮২ রানের ইনিংস বদলে দিয়েছিল ভারতের ক্রিকেট ইতিহাস। আজ ৩২ বছর পর, সেই একই তারিখে বৈভব সূর্যবংশীর ১৫ পূর্ণ হওয়ার মাহেন্দ্রক্ষণে দাঁড়িয়ে ক্রিকেট বিশ্ব। প্রশ্ন এখন এটা নয় যে বৈভব প্রস্তুত কি না, বরং বিশ্ব কি এই নতুন সাম্রাজের জন্য প্রস্তুত?

