হাতে রেপ্লিকা বিশ্বকাপ ট্রফি নিয়ে হাসিমুখে অ্যান্ডি মিলনে।হাতে রেপ্লিকা বিশ্বকাপ ট্রফি নিয়ে হাসিমুখে অ্যান্ডি মিলনে। ছবি: গেটি ইমেজেস

ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা মানুষকে কতটা মরিয়া করে তুলতে পারে, তার অনন্য এক উদাহরণ তৈরি করলেন ৬২ বছর বয়সী ব্রিটিশ নাগরিক অ্যান্ডি মিলনে। প্রিয় দল ইংল্যান্ডের থ্রি লায়ন্সদের সমর্থন দিতে ২০২৬ বিশ্বকাপে গ্যালারিতে থাকতে চান তিনি। আর এই দীর্ঘ সফরের খরচ মেটাতে নর্থউইচ, চেশায়ারে অবস্থিত নিজের ৩৫০০০০ পাউন্ড (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা) মূল্যের দ্বিতীয় বাড়িটি বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

কাতার বিশ্বকাপের সেই ভাইরাল মুখ

অ্যান্ডি মিলনে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পান ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের সময়। গ্যালারিতে ইংল্যান্ডের জার্সি গায়ে হাস্যোজ্জ্বল মুখে বিশ্বকাপের একটি রেপ্লিকা ট্রফি হাতে তাঁর একটি ছবি ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়ে যায়। এরপর থেকেই তিনি ইংল্যান্ড সমর্থকদের কাছে এক জনপ্রিয় ফিগারে পরিণত হন। পেশায় অবসরপ্রাপ্ত এই শিক্ষক বর্তমানে থাইল্যান্ডে বসবাস করেন এবং ২০২৪ সালে বিবিসির ‘স্পোর্টস পারসোনালিটি অব দ্য ইয়ার’ অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবেও আমন্ত্রিত হয়েছিলেন।

কেন এই বাড়ি বিক্রির সিদ্ধান্ত?

এখন পর্যন্ত নয়টি বিশ্বকাপ (৮টি পুরুষ ও ১টি নারী বিশ্বকাপ) মাঠে বসে দেখার অভিজ্ঞতা রয়েছে মিলনের। ১৯৮২ সালে স্পেনের বিশ্বকাপ দিয়ে তাঁর এই যাত্রার শুরু। আগামী ২০২৬ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপের জন্য তিনি এখন থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

দ্য মিরর-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মিলনে বলেন, “বাড়িটি বাজারে তোলা হয়েছে কারণ আমি এটি বিক্রি করে বিশ্বকাপে যাচ্ছি। কাতারের সফরটি ছিল আমার নিজের জন্য একটি উপহার, যার জন্য আমি বছরের পর বছর সঞ্চয় করেছিলাম। ২৭ বছর ধরে আমাদের এই দ্বিতীয় বাড়িটি ছিল, তাই এখন এটি বিক্রি করে বিশ্বকাপের খরচ জোগানোই সঠিক সময় বলে মনে হয়েছে।”

সাত সপ্তাহের দীর্ঘ সফর ও টিকেটের আকাশচুম্বী দাম

অ্যান্ডি মিলনে জানান, তিনি সাত সপ্তাহ আমেরিকায় থাকবেন এবং ফাইনাল পর্যন্ত প্রতিটি ম্যাচের টিকেট তাঁর সংগ্রহে আছে। খরচ কমাতে তিনি মেক্সিকো, ডালাস ও ভ্যাঙ্কুভারে বন্ধুদের বাড়িতে থাকার (কাউচ সার্ফিং) পরিকল্পনা করছেন।

এদিকে, এবারের বিশ্বকাপের টিকেটের অতিরিক্ত দাম নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। ‘ফুটবল সাপোর্টার্স ইউরোপ’ ফিফার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছে। একজন সাধারণ সমর্থকের জন্য আটটি ম্যাচ (প্রতি রাউন্ডে একটি করে) দেখার সর্বনিম্ন খরচ পড়বে প্রায় ৫,২২৫ পাউন্ড (প্রায় ৭ লাখ ৮৩ হাজার টাকা), আর সবচেয়ে দামি টিকেটের ক্ষেত্রে তা ১২,৩৫০ পাউন্ড (প্রায় ১৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা) পর্যন্ত হতে পারে। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো অবশ্য এই দামকে ‘অবিশ্বাস্য চাহিদার’ প্রতিফলন বলে রক্ষণ করেছেন।

শুধু টিকেট নয়, যাতায়াত খরচ নিয়েও চিন্তিত ভক্তরা। বোস্টনের মতো আয়োজক শহরগুলোতে ট্রেন টিকেটের দাম চারগুণ বৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, যেখানে কাতার বিশ্বকাপে যাতায়াত ছিল সম্পূর্ণ ফ্রি।