ফুটবল বিশ্বে কুসংস্কার বা Superstition নতুন কিছু নয়। ২০২৬ বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে বসনিয়ার কাছে হেরে ইতালির বিদায় যখন ক্যালসিও ফুটবলকে শোকাতুর করে তুলেছে, তখন মাদ্রিদ সমর্থকদের মনে উঁকি দিচ্ছে এক সুখকর স্মৃতি। পরিসংখ্যান এবং ইতিহাস বলছে, গত ৬ দশকেরও বেশি সময় ধরে ইতালির বিশ্বকাপ ট্র্যাজেডি আর রিয়াল মাদ্রিদের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ (Champions League) জয়ের মধ্যে এক রহস্যময় যোগসূত্র রয়েছে।
১৯৫৮: প্রথম ক্ষত ও মাদ্রিদের রাজত্ব
গল্পের শুরু ১৯৫৮ সালে। উরুগুয়ে বিশ্বকাপের পর সেবারই প্রথম Italy বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়। উত্তর আয়ারল্যান্ডের পেছনে থেকে গ্রুপ পর্ব শেষ করেছিল তারা। ঠিক সেই মৌসুমে ইউরোপিয়ান কাপে (বর্তমান চ্যাম্পিয়ন্স লিগ) অপ্রতিরোধ্য ছিল রিয়াল মাদ্রিদ। আলফ্রেডো ডি স্টেফানোর জাদুতে এসি মিলানকে ৩-২ গোলে হারিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো ইউরোপের রাজা হয়েছিল ‘লস ব্লাঙ্কোস’রা।
২০১৭-২০১৮: সুইডেন ট্র্যাজেডি ও মাদ্রিদের ট্রেবল
দীর্ঘ ৬০ বছর পর আবারও সেই একই দৃশ্যপট। ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপের প্লে-অফে সুইডেনের কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয় ইতালির। সেবার বিশ্বজুড়ে শোকের ছায়া নামলেও রিয়াল মাদ্রিদ ইতিহাসে নাম লেখায় অন্যভাবে। জিনেদিন জিদানের অধীনে টানা তৃতীয়বার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতে ফুটবল বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেয় মাদ্রিদ। ফাইনালে লিভারপুলকে হারিয়ে তারা নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখে।
আরও পড়ুন: ইতালিয়ান ট্র্যাজেডির ‘তৃতীয় কিস্তি’: ১২ বছরের বিরহ, আজ্জুরিদের নীল বিষাদ
২০২২ ও ২০২৬: ইতিহাস কি আবারও ফিরে আসছে?
২০২২ কাতার বিশ্বকাপের প্লে-অফে উত্তর মেসিডোনিয়ার কাছে হেরে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ মিস করে ইতালি। আর ঠিক সেই মৌসুমেই কার্লো আনচেলত্তির অধীনে অবিশ্বাস্য সব প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে নিজেদের ১৪তম ট্রফি ঘরে তোলে রিয়াল মাদ্রিদ।
বর্তমান ২০২৬ সালেও চিত্রনাট্য একই। জেন্নারো গাত্তুসোর ইতালি বসনিয়ার কাছে টাইব্রেকারে হেরে টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছে। অন্যদিকে, রিয়াল মাদ্রিদ এখন চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে। ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হলে ১৬তম ট্রফি কি তবে মাদ্রিদেই যাচ্ছে?
আরও পড়ুন: ৭৫ দিনেই বদলে দিলেন রিয়াল! আরবেলোয়ার ছোঁয়ায় নতুন প্রাণ বার্নাব্যুতে
‘রোড অফ ডেথ’ এবং মাদ্রিদের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ
তবে ইতিহাস ও কুসংস্কার পাশে থাকলেও এবারের পথটা রিয়াল মাদ্রিদের জন্য মোটেও সহজ নয়। আলভারো আরবেলোয়ার (Alvaro Arbeloa) অধীনে মাদ্রিদকে পাড়ি দিতে হবে ‘রোড অফ ডেথ’। ম্যানচেস্টার সিটিকে বিদায় করার পর সেমিফাইনালের পথে তাদের সামনে এখন বায়ার্ন মিউনিখ। ভিনসেন্ট কোম্পানির বায়ার্ন বর্তমানে তুঙ্গে থাকলেও হ্যারি কেইনের ইনজুরি মাদ্রিদকে কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে।
বায়ার্ন বাধা পেরোলে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে সামনে পড়তে পারে পিএসজি (PSG) অথবা লিভারপুলের মতো জায়ান্টরা। বর্তমান ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন কিংবা ইংলিশ চ্যাম্পিয়নদের মোকাবিলা করা যে কোনো দলের জন্যই বড় পরীক্ষা। কিন্তু দিনশেষে এটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, আর এই টুর্নামেন্টে রিয়াল মাদ্রিদ মানেই সব সমীকরণের বাইরে অন্য এক শক্তি।

