আগামী ৫ জুন ইউরোপের দেশ সান মারিনোর বিপক্ষে ফিফা প্রীতি ম্যাচে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। বাফুফে এটিকে ইউরোপের মাটিতে বাংলাদেশের প্রথম অফিশিয়াল ম্যাচ দাবি করলেও ইতিহাস বলছে, আড়াই দশক আগেই ইউরোপীয় পরাশক্তির মুখোমুখি হয়েছিল লাল-সবুজরা। বিশেষ করে ২০০০ সালে ইংল্যান্ডের মাটিতে খেলার অভিজ্ঞতা এবং ২০০১ সালে দুই ইউরোপীয় দেশের বিপক্ষে লড়াইয়ের রোমাঞ্চকর ইতিহাস আজও অমলিন।
২০০০: ইংল্যান্ডের লেস্টারে ভারত-বাংলাদেশ মহারণ
বাংলাদেশের ফুটবলের প্রথম ‘ইউরোপ কানেকশন’ তৈরি হয় ২০০০ সালে। তৎকালীন ভারত ফুটবল ফেডারেশনের এক কর্মকর্তার উদ্যোগে ইংল্যান্ডের লেস্টারে আয়োজন করা হয়েছিল একটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ। সেটাই ছিল ইউরোপের মাটিতে বাংলাদেশের প্রথম পদার্পণ।
ম্যাচের তারিখ: ২০০০ সাল (লেস্টার, ইংল্যান্ড)।
প্রতিপক্ষ: ভারত।
কোচ ও অধিনায়ক: বাংলাদেশের কোচ ছিলেন হাসানুজ্জামান বাবলু এবং গোলরক্ষক ছিলেন কিংবদন্তি আমিনুল হক। অন্যদিকে ভারতের নেতৃত্বে ছিলেন বাইচুং ভুটিয়া।
ফলাফল: ম্যাচটিতে বাংলাদেশ ১-০ গোলে পরাজিত হয়।
আরও পড়ুন: ভারতকে টাইব্রেকারে হারিয়ে সাফে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ
২০০১: মিলেনিয়াম সুপার সকার কাপ ও ইউরোপীয় দ্বৈরথ
বাফুফে দাবি করলেও ২০০১ সালেই বাংলাদেশ অফিশিয়াল ফিফা টায়ার-১ ম্যাচে ইউরোপের দুটি শক্তিশালী দেশের মুখোমুখি হয়েছিল। ভারতের কোচিতে অনুষ্ঠিত ‘সাহারা কাপ’ বা ‘মিলেনিয়াম সুপার সকার কাপ’-এ গ্রুপ ‘এ’-তে ছিল বাংলাদেশ।
১. বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনা বনাম বাংলাদেশ
তারিখ: ১২ জানুয়ারি, ২০০১।
ভেন্যু: জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়াম, কোচি, ভারত।
ফলাফল: বসনিয়ার কাছে ২-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ।
বিশেষত্ব: সেই ম্যাচে বসনিয়ার আলমেদিন হোতা জোড়া গোল করেছিলেন। আজ সেই বসনিয়া বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম শক্তি যারা এবার ইতালিকে টপকে বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে।
২. এফআর যুগোস্লাভিয়া বনাম বাংলাদেশ
তারিখ: ১৬ জানুয়ারি, ২০০১।
ভেন্যু: জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়াম, কোচি, ভারত।
ফলাফল: ৪-১ গোলে পরাজিত হয় বাংলাদেশ।
ঐতিহাসিক গোল: ম্যাচটিতে বাংলাদেশ হেরে গেলেও ফুটবল ভক্তদের মনে গেঁথে আছে ফিরোজ মাহমুদের সেই গোল। ফিরোজ মাহমুদের গোলে বাংলাদেশ প্রথমে এগিয়ে গেলেও পরে লিড ধরে রাখতে পারেনি। উল্লেখ্য, এই যুগোস্লাভিয়াই পরবর্তীতে ভেঙে সার্বিয়া ও মন্টেনেগ্রো রাষ্ট্রে পরিণত হয়।
আরও পড়ুন: পাইলট হওয়ার স্বপ্ন ছেড়ে বাংলাদেশের গোলপোস্টের ‘বাজপাখি’ মাহিন
২০২৬: সান মারিনো মিশন ও নতুন স্বপ্ন
দীর্ঘ ২৫ বছর পর আবারও কোনো ইউরোপীয় দেশের বিপক্ষে খেলার স্বাদ পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ ছোট্ট দেশ সান মারিনো। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে সান মারিনো বর্তমানে ২১১ নম্বর অবস্থানে, যা বিশ্ব ফুটবলের একদম তলানি। অন্যদিকে বাংলাদেশ রয়েছে ১৮১তম স্থানে। অর্থাৎ, র্যাঙ্কিংয়ের বিচারে বাংলাদেশ ৩০ ধাপ এগিয়ে।
বাফুফে সাধারণত শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেলার কথা বললেও এবার কেন র্যাঙ্কিংয়ের সবচেয়ে নিচের দলের সঙ্গে খেলছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে বাফুফের মতে, ইউরোপীয় কন্ডিশনে খেলার অভিজ্ঞতা এশিয়ান কাপ বা বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ফুটবলারদের মানসিকভাবে শক্তিশালী করবে।
সান মারিনো: চারদিকে ইতালি ঘেরা এক ক্ষুদ্র রাষ্ট্র
সান মারিনো বিশ্বের পঞ্চম ক্ষুদ্রতম রাষ্ট্র, যার আয়তন মাত্র ৬১ বর্গকিলোমিটার। মজার ব্যাপার হলো, এই দেশটি সম্পূর্ণভাবে ইতালি দ্বারা পরিবেষ্টিত। ১৯৮৭ সাল থেকে আন্তর্জাতিক ফুটবল খেলা এই দলটি এখন পর্যন্ত মাত্র ৩টি ম্যাচে জয় পেয়েছে, যার সবগুলোই ছিল লিখটেনস্টেইনের বিপক্ষে। তবে নেশনস লিগে প্রমোশন পেয়ে তারা এখন তৃতীয় স্তরে খেলার অপেক্ষায় আছে।

