বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) এখন ‘তামিম যুগ’। দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের পরিচালনা পর্ষদ বিলুপ্ত করে ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি গঠন করেছে এনএসসি। আজ বিসিবি কার্যালয়ে নতুন কমিটির সদস্যদের সঙ্গে সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে হাজির হন নবনিযুক্ত সভাপতি তামিম ইকবাল। এসেই তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁর মূল লক্ষ্য একটি স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করা। তবে সেই নির্বাচনে তিনি নিজে প্রার্থী হবেন কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েই গেছে।
‘সবাইকে অনুরোধ করব নির্বাচনে অংশ নিতে’
সংবাদ সম্মেলনে তামিম ইকবালকে সবচেয়ে বেশি প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে নির্বাচন নিয়ে। তামিম বলেন,
“অবশ্যই আমরা নির্বাচন করব। আমার ইচ্ছা থাকতে পারে আমি করতে পারি বা অন্য কারো ইচ্ছা থাকতে পারে। তিনি করতে পারেন। আর যখন একটা স্বচ্ছ নির্বাচন হবে, তখন শুধু আমরা না—যাঁরা যাঁরা আগ্রহী সবাইকে অনুরোধ করব অংশ নিতে।”
তামিমের এই বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, অ্যাডহক কমিটির সদস্যরাও সম্ভবত নির্বাচনী লড়াইয়ে নামার সুযোগ পেতে পারেন।
আরও পড়ুন: বিসিবির কমিটি ভাঙার যত কারণ, যে কারণে তামিম ইকবাল দায়িত্বে
অ্যাডহক কমিটির আয়ু ও গঠনতান্ত্রিক মারপ্যাঁচ
এনএসসির ক্রীড়া পরিচালক আমিনুল এহসান স্পষ্ট করেছেন যে, এই কমিটির মেয়াদ হবে মাত্র ৯০ দিন। এই তিন মাসের মধ্যে তাঁদের প্রধান কাজ হলো বিসিবির পরবর্তী নির্বাচনের আয়োজন করা। তবে একটি বড় প্রশ্ন ঝুলে আছে—অ্যাডহক কমিটির সদস্যরা কি পদে থেকে নির্বাচন করতে পারবেন?
সাধারণত জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার নিয়মে অ্যাডহক কমিটির সদস্যদের নির্বাচনে অংশ নিতে বাধা থাকে, তবে বিসিবির ক্ষেত্রে বা ২০১৮ সালের এনএসসি আইনে এমন কোনো সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা নেই। ফলে তামিম ইকবাল যদি পূর্ণ মেয়াদে সভাপতি হতে চান, তবে তাঁকে কাউন্সিলর হয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই আসতে হবে। তিনি কি কেবল ‘তত্ত্বাবধায়ক’ হিসেবে মাঠ গুছিয়ে বিদায় নেবেন, না কি নিজেই প্যানেল দেবেন—তা সময় বলে দেবে।
কেন ভাঙল বুলবুলের বোর্ড?
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে সাবেক পর্ষদের বিস্তর অনিয়মের চিত্র, যা এনএসসিকে কঠোর হতে বাধ্য করেছে:
একক সিদ্ধান্ত: সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল বোর্ড সভার অনুমতি ছাড়াই এককভাবে ১০ জন সাবেক ক্রিকেটারকে কাউন্সিলর মনোনীত করেছিলেন।
কাউন্সিলরশিপে জালিয়াতি: ফারুক আহমেদের কাউন্সিলরশিপ নির্ধারিত সময়ের পরে জমা পড়া এবং ঢাকা জেলা ও বিভাগের নির্বাচনে সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টার সরাসরি হস্তক্ষেপের প্রমাণ মিলেছে।
সংস্থার হস্তক্ষেপ: জেলা-বিভাগীয় সংস্থা থেকে নাম আসার পর বিসিবি সভাপতির চাপে পুনরায় নাম পাঠানোর ঘটনাকে ‘অবাঞ্ছিত হস্তক্ষেপ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে তদন্ত কমিটি।
আইসিসি ও আগামীর বিসিবি
বিসিবিতে সরকারি হস্তক্ষেপের বিষয়ে আইসিসি সব সময় কঠোর। তবে এনএসসি দাবি করেছে, নির্বাচনের এই আইনি ও গঠনতান্ত্রিক অনিয়মগুলো আইসিসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। যেহেতু এটি কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ নয় বরং অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা, তাই আইসিসি এই পরিবর্তন মেনে নেবে বলেই বিশ্বাস এনএসসির। তামিম ইকবালের নেতৃত্বে এই ৯০ দিনে বিসিবি কতটুকু স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পারে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

