ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিক্রির তালিকায় থাকা ৬ ফুটবলার।র‌্যাশফোর্ড, মাউন্টসহ ৬ জনকে বিক্রি করতে চায় ম্যান ইউ। ছবি কোলাজ: ক্রিকফুট

বোর্নমাউথের বিপক্ষে শেষ ম্যাচের পর দীর্ঘ ২৪ দিনের বিরতি পেয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। অন্তর্বর্তীকালীন কোচ মাইকেল ক্যারিক এই সময়টুকু কাজে লাগিয়েছেন আয়ারল্যান্ডে একটি মিড-সিজন ট্রেনিং ক্যাম্প করে। তবে মাঠের প্রস্তুতির চেয়েও এখন বড় আলোচনা ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের ‘সামার উইন্ডো’ নিয়ে। যদি ক্যারিক স্থায়ী কোচ হিসেবে দায়িত্ব পান, তবে তাকে একটি শক্তিশালী দল গড়ে দিতে বড়সড় ছাঁটাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে ক্লাবকে। এজন্য ৬ ফুটবলারের ‘ব্ল্যাকলিস্ট’ও করা হয়েছে।

ম্যানইউর হেড অব রিক্রুটমেন্ট ক্রিস্টোফার ভিভেল এবং ফুটবল ডিরেক্টর জেসন উইলকক্স ইতিমধ্যে দলবদলের পরিকল্পনা শুরু করেছেন। কাসেমিরোর উত্তরসূরি হিসেবে একজন হোল্ডিং মিডফিল্ডার এবং নতুন ফুল-ব্যাক কেনাই এখন তাদের মূল লক্ষ্য। গত কয়েক মৌসুমে বিপুল অর্থ ব্যয়ের পর এখন নতুন খেলোয়াড় কিনতে হলে ক্লাবকে বেশ কিছু দামী তারকা বিক্রি করে বড়সড় ‘ওয়ার চেস্ট’ তৈরি করতে হবে।

গ্রীষ্মকালীন দলবদলে যে ৬ খেলোয়াড়কে বিক্রি করতে চায় ইউনাইটেড, এর একটি তালিকা করেছে ‘গোল’।

মেসন মাউন্ট

২০২৩ সালে চেলসি থেকে ৬০ মিলিয়ন পাউন্ডে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে আসা মাউন্ট বড় এক হতাশার নাম। তিন মৌসুমে তিনি মাত্র ৬৭টি ম্যাচ খেলেছেন, যার গড় সময় প্রতি সিজনে মাত্র ৮৭৯ মিনিট। ইনজুরির কারণে প্রায় ১১ মাস মাঠের বাইরে থাকা এই মিডফিল্ডার গোল করেছেন মাত্র ৭টি। ক্লাবের জন্য তাকে ধরে রাখা এখন বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আরও পড়ুন: ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের নজরে ব্রাজিলিয়ান গোলমেশিন ভিটর রোক

ম্যানুয়েল উগার্তে

পিএসজি থেকে ৫০ মিলিয়ন পাউন্ডে উগার্তেকে আনা হয়েছিল কাসেমিরোর বিকল্প হিসেবে। কিন্তু বাস্তবে ঘটেছে উল্টোটা। কাসেমিরো নিজের জায়গা ধরে রাখলেও উগার্তেকে কাটাতে হচ্ছে বেঞ্চে। মাইকেল ক্যারিকের অধীনে তিনি এখনো একটি ম্যাচও শুরু করতে পারেননি। এমনকি সাবেক কোচ রুবেন আমোরিমের আস্থাও হারিয়েছিলেন এই উরুগুইয়ান মিডফিল্ডার।

রাসমাস হইলুন্দ

ইউনাইটেডের প্রত্যাশার চাপে পিষ্ট হওয়া হইলুন্দ ইতালিতে গিয়ে নিজের ক্যারিয়ার নতুন করে গড়েছেন। নাপোলির হয়ে চলতি মৌসুমে সিরি-আ’তে ১০ গোলসহ মোট ১৪ গোল করেছেন তিনি। নাপোলি ইতিমধ্যেই নিশ্চিত করেছে যে, তারা ৪৪ মিলিয়ন ইউরোর রিলিজ ক্লজ দিয়ে হইলুন্দকে পাকাপাকিভাবে দলে নিতে চায়।

জশুয়া জিরকজি

বোলোগনা থেকে ৩৪ মিলিয়ন পাউন্ডে আসা এই ডাচ ফরোয়ার্ড প্রিমিয়ার লিগের গতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে হিমশিম খাচ্ছেন। ডিসেম্বরের পর থেকে ক্যারিকের একাদশে জায়গা পাননি তিনি। ইতালিয়ান ক্লাব এএস রোমা তাকে ধারে নিতে আগ্রহী হলেও ইউনাইটেড তাকে পাকাপাকিভাবে বিক্রি করে আর্থিক লোকসান কমাতে চায়।

মার্কাস র‍্যাশফোর্ড

বার্সেলোনায় ধারে গিয়ে দারুণ এক মৌসুম কাটাচ্ছেন র‍্যাশফোর্ড। সেখানে ১১ গোল ও ১০ অ্যাসিস্ট করলেও বার্সা এখন তার ৩০ মিলিয়ন ইউরোর ক্লজটি কমানোর চেষ্টা করছে। তবে শৈশবের ক্লাবের সঙ্গে তার সম্পর্ক এখন তলানিতে। ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ফেরার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে, তাই অন্য কোনো ক্লাব খুঁজে পাওয়াই এখন ইউনাইটেডের লক্ষ্য।

আরও পড়ুন: রাশফোর্ডকে পেতে বার্সার ‘মাস্টারপ্ল্যান’: ম্যানইউ কি নেবে দুই তারকা

আন্দ্রে ওনানা

ট্রাবজোনস্পোরে ধারে গিয়ে নিজের ক্যারিয়ার পুনরুজ্জীবিত করেছেন ওনানা। সেখানে তিনি ‘দ্য ওয়াল’ উপাধি পেলেও ইউনাইটেড তাকে আর ফেরাতে চায় না। সপ্তাহে ১ লাখ ২০ হাজার পাউন্ড বেতনের এই গোলরক্ষককে বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ নতুন খেলোয়াড় কেনায় বিনিয়োগ করতে চায় ক্লাব কর্তৃপক্ষ।