২০২৫-২৬ মৌসুমে বাংলাদেশ ফুটবল লিগে প্রথমবারের মতো চালু হওয়া ‘সাফ কোটা’ নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। এই নিয়মের অধীনে দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলাররা বিদেশি কোটা ছাড়াই স্থানীয় খেলোয়াড় হিসেবে নিবন্ধিত হওয়ার সুযোগ পাওয়ায় অস্তিত্ব সংকটে পড়েছেন দেশি ফুটবলাররা। এর প্রতিবাদে ফুটবল খেলোয়াড় কল্যাণ সমিতির ব্যানারে একদল স্থানীয় ফুটবলার বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল বরাবর ৬টি দাবি পেশ করেছেন।
কী এই সাফ কোটা এবং কেন এই প্রতিবাদ?
চলতি মৌসুমে বাফুফের নিয়ম অনুযায়ী, একটি ক্লাব সর্বোচ্চ ৫ জন দক্ষিণ এশীয় ফুটবলার নিবন্ধন করতে পারে, যারা বিদেশি কোটার বাইরে গিয়ে স্থানীয় খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামেন। বর্তমান লিগে পাকিস্তান, ভুটান, নেপাল, ভারত ও শ্রীলঙ্কার মোট ১৮ জন ফুটবলার এই সুবিধায় খেলছেন।
স্থানীয় খেলোয়াড়দের প্রধান আপত্তি হলো, সাফের খেলোয়াড়রা দেশি কোটায় খেলায় তরুণ প্রতিভাবান ফুটবলারদের খেলার সুযোগ সংকুচিত হয়ে পড়ছে।
জাতীয় দলের ডিফেন্ডার রহমত মিয়া বলেন, “অন্য দেশের খেলোয়াড়রা আমাদের দেশে দেশি কোটায় খেলছে, কিন্তু আমাদের ফুটবলাররা সেসব দেশের লিগে সুযোগ পাচ্ছে না। সাফের খেলোয়াড়দের বিদেশি কোটায় খেলালে আমাদের কোনো আপত্তি নেই, কিন্তু দেশি কোটায় খেললে আমাদের সুযোগ কমে যায়।”
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ দলের কোচের পদে ‘আইনস্টাইন’সহ ১২৮ জনের আবেদন!
ফুটবলারদের ৬ দফা দাবি
বাফুফে সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন তুষারের কাছে হস্তান্তরিত চিঠিতে খেলোয়াড়রা ৬ দফা দাবি জানিয়েছেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে:
১. সাফ বা সার্ক অঞ্চলের খেলোয়াড়দের বিশেষ কোটা বাতিল করা।
২. বিদেশি খেলোয়াড়ের কোটা কমিয়ে স্থানীয়দের বেশি সুযোগ দেওয়া।
৩. দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার মাধ্যমে স্থানীয় খেলোয়াড়দের মান উন্নয়ন করা।
৪. লিগে দলের সংখ্যা বাড়ানো (বর্তমানে ১০টি ক্লাব অংশ নিচ্ছে)।
৫. খেলোয়াড়দের বেতন ও আর্থিক নিরাপত্তার দায়িত্ব ফেডারেশনকে নেওয়া।
৬. স্থানীয় খেলোয়াড়দের জন্য অধিক ম্যাচ নিশ্চিত করা।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের ইউরোপ ইতিহাস পুরনো!
ক্লাবগুলোর ঝোঁক কেন দক্ষিণ এশীয়দের দিকে?
মূলত সার্কভুক্ত দেশগুলোর ফুটবলাররা তুলনামূলক কম পারিশ্রমিকে খেলতে রাজি হওয়ায় ক্লাবগুলো তাঁদের দিকে ঝুঁকছে। ব্রাদার্স ইউনিয়নের মতো ক্লাবগুলো এই কোটা ব্যবহার করে সফলও হচ্ছে।
তবে আবাহনীতে খেলা মোহাম্মদ ইব্রাহিমদের মতে, এভাবে ৫ জন সাফ ও ৩ জন বিদেশি খেললে একটি দলে মাত্র ২ জন স্থানীয় খেলোয়াড় মাঠে নামার সুযোগ পান, যা দেশের ফুটবলের ভবিষ্যতের জন্য হুমকিস্বরূপ।

