বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের কোচের হটসিট এখন রীতিমতো সোনার হরিণ! একসময় বড় প্রোফাইলের কোচরা বাংলাদেশের দায়িত্ব নিতে অনীহা দেখালেও, গত এক বছরে পাল্টে গেছে সব সমীকরণ। জাতীয় দলের কোচ চেয়ে বাফুফের দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে এখন নামী-দামি কোচদের আবেদনের হিড়িক পড়েছে। মাত্র সাত দিনেই জমা পড়েছে ১২৮টি আবেদন।
হঠাৎ কেন এই হিড়িক?
বাফুফের টেকনিক্যাল কমিটির চেয়ারম্যান কামরুল হাসানের মতে, বাংলাদেশ ফুটবলের ‘ব্র্যান্ড ভ্যালু’ এখন আকাশচুম্বী। বিশেষ করে হামজা চৌধুরী ও শামিত সোমদের মতো আন্তর্জাতিক মানের ফুটবলারদের অন্তর্ভুক্তিই এই আগ্রহের মূল কারণ।
তিনি বলেন, “হামজা-শামিতরা আসার পর সবাই এখন বাংলাদেশের ফুটবল ফলো করেন। কোচরা বোঝেন, হাতে এমন ফুটবলার থাকলে মাঠে যেকোনো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সহজ।”
‘ক্রোয়েশিয়ান আইনস্টাইন’ সহ যারা আবেদন করেছেন
আবেদনকারীদের তালিকায় সবচেয়ে বড় চমক ‘ক্রোয়েশিয়ান আইনস্টাইন’ খ্যাত পিটার সেগ্রেট। ২০১৮ সালে মালদ্বীপকে সাফ জেতানো এই কোচ তাজিকিস্তান ও আফগানিস্তান জাতীয় দলেরও কোচ ছিলেন।
এছাড়া ‘হাই-প্রোফাইল’দের মধ্যে তালিকায় আছেন:
ইগর স্টিমাচ: ক্রোয়েশিয়া জাতীয় দল ও ভারতের সাবেক কোচ।
ভ্যালেরি তিতা: বসুন্ধরা কিংসের সাবেক কোচ, যিনি বর্তমানে ওমানের আল সিবের দায়িত্বে আছেন।
অ্যান্টেইন হেই: গাম্বিয়া ও মিয়ানমার জাতীয় দলে কাজ করা অভিজ্ঞ জার্মান কোচ।
দিদিয়ের ওলে: ফরাসি জায়ান্ট পিএসজির নারী দলের সাবেক কোচ।
দেশি কোচ: মারুফুল হক এবং জুলফিকার মাহমুদ মিন্টুও পাঠিয়েছেন জীবনবৃত্তান্ত।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ ছাড়তে চান না স্প্যানিশ কোচ কাবরেরা!
বেতন ও যোগ্যতার মাপকাঠি
বর্তমান কোচ হাভিয়ের কাবরেরার মেয়াদ শেষ হচ্ছে ৩০ এপ্রিল। নতুন কোচের বেতন শুরু হতে পারে সাড়ে ১৩ হাজার ডলার (প্রায় ১৬ লাখ টাকা) থেকে, যা যোগ্যতাভেদে আরও বাড়তে পারে।
তবে শর্ত কঠিন—উয়েফা বা এএফসি প্রো লাইসেন্সের পাশাপাশি আধুনিক স্পোর্টস সায়েন্স ও ডেটা অ্যানালিসিসে থাকতে হবে অগাধ জ্ঞান।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের ইউরোপ ইতিহাস পুরনো!
লক্ষ্য ৫ জুনের ম্যাচ
৩০ এপ্রিল পর্যন্ত আবেদন করা যাবে, ফলে এই সংখ্যা আরও বাড়ার সম্ভাবনা প্রবল। বাফুফে চায় আগামী ৫ জুন সান মারিনোর বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের আগেই নতুন কোচ নিয়োগ দিতে। লক্ষ্য একটাই—হামজা-শামিতদের দক্ষ হাতে সামলে বাংলাদেশের ফুটবলকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া।

