আইপিএলের মঞ্চে ছক্কার ঝড় তোলা এখন প্রিয়াংশ আরিয়ার কাছে ডালভাত। গত রোববার লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিপক্ষে মাত্র ৩৭ বলে ৯৩ রানের এক টর্নেডো ইনিংস খেলেন এই ২৪ বছর বয়সী ওপেনার। ৯টি বিশাল ছক্কায় সাজানো এই ইনিংসের পর চলতি মৌসুমে মাত্র ৫ ম্যাচে তার ছক্কার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০-এ। অথচ অবিশ্বাস্য মনে হলেও সত্য, এই ছক্কা-দানব দাবি করেছেন তিনি নাকি ছক্কা মারার আলাদা কোনো অনুশীলনই করেন না!
টাইমিংয়েই বাজিমাত: প্রিয়াংশের দর্শন
লখনউয়ের বোলারদের তুলোধুনো করার পর প্রিয়াংশকে যখন তাঁর ছক্কা মারার রহস্য জিজ্ঞেস করা হয়, তিনি শোনালেন একদম ভিন্ন কথা। প্রিয়াংশ বলেন, তাঁর শক্তি হচ্ছে টাইমি।
তিনি বলেন, “নাহ, আমি ছক্কা মারার অনুশীলন তেমন একটা করি না। স্রেফ চেষ্টা করি যতটা সম্ভব বলে টাইমিং করতে। টাইমিং ঠিকঠাক হওয়াই আমাকে ব্যাটিংয়ে সবচেয়ে বেশি সহায়তা করে।”
গত মৌসুমকেও ছাড়িয়ে যাওয়ার পথে
২০২৫ সালে আইপিএল অভিষেকেই ৪৭৫ রান করে নজর কেড়েছিলেন প্রিয়াংশ। সেবার ১৭ ইনিংসে মেরেছিলেন ২৫টি ছক্কা। কিন্তু ২০২৬ মৌসুমে তিনি আরও ভয়ংকর।
হায়দরাবাদের বিপক্ষে: ২০ বলে ৫৭ রান (৫টি ছক্কা)।
চেন্নাইয়ের বিপক্ষে: ১১ বলে ৩৯ রান (৪টি ছক্কা)।
লখনউয়ের বিপক্ষে: ৩৭ বলে ৯৩ রান (৯টি ছক্কা)।
আরও পড়ুন: আইপিএলে ইতিহাস! ৩০ লাখের প্রফুল হিঞ্জের অবিশ্বাস্য রেকর্ড
আইপিএলে পা রাখার আগে ঘরোয়া ক্রিকেটেও দিল্লির হয়ে উত্তর প্রদেশের বিপক্ষে ১০ ছক্কার এক টর্নেডো ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। এবারের আসরে ৫ ম্যাচেই ২০ ছক্কা মারা প্রিয়াংশ যে গতবারের রেকর্ড ভেঙে চুরমার করবেন, তা বলাই বাহুল্য।
মাঠের নীরবতা ও ফিটনেস রহস্য
প্রিয়াংশের সাথে দ্বিতীয় উইকেটে ৮০ বলে ১৮২ রানের জুটি গড়া কুপার কনোলি জানিয়েছেন, ক্রিজে থাকার সময় প্রিয়াংশ খুব একটা কথা বলেন না। এর পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করে প্রিয়াংশ বলেন, “বেশি কথা বললে অনেক ভাবনা মাথায় ঢুকে যায়। আমি পরিষ্কার মাথা নিয়ে (Clear head) খেলতে পছন্দ করি।”
ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি প্রিয়াংশের ফিটনেসেও বড় পরিবর্তন এসেছে। গত ছয় মাস ধরে ট্রেনার আনন্দ স্যার ও বিরলা ভাইয়ার দেওয়া কঠোর সূচি অনুসরণ করাই এর মূল কারণ বলে জানান তিনি। পাওয়ার প্লের পর ১৫তম ওভার পর্যন্ত টিকে থেকে দলকে বড় সংগ্রহ এনে দিতে পারাটাই এই ইনিংসের বড় প্রাপ্তি বলে মনে করেন এই উদীয়মান তারকা।
আরও পড়ুন: আইপিএল ২০২৬: জিতেই গেল শাহরুখের কলকাতা নাইট রাইডার্স!
ম্যাচ হাইলাইটস:
ইনিংস: ৯৩ রান (৩৭ বল)
ছক্কা: ৯টি (চলতি মৌসুমে মোট ২০টি)
জুটি: ১৮২ রান (কুপার কনোলির সঙ্গে)।

