২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের দামামা বাজার আগেই বড় বড় তারকাদের ইনজুরির মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো নেদারল্যান্ডসের পোস্টার বয় জাভি সিমন্সের নাম। প্রিমিয়ার লিগে টটেনহ্যামের হয়ে খেলার সময় এসিএল (ACL) ইনজুরিতে পড়ে বিশ্বকাপ স্বপ্ন ধূলিস্যাৎ হয়ে গেছে এই তরুণ প্রতিভার। নেদারল্যান্ডস জাতীয় দলের জন্য এটি এক অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যে ইনজুরিতে শেষ হলো বিশ্বকাপ স্বপ্ন
উলভারহ্যাম্পটনের বিপক্ষে টটেনহ্যামের জয়ের ম্যাচে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন সিমন্স। পরবর্তীতে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা যায়, তাঁর এসিএল ছিঁড়ে গেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের আবেগঘন বার্তায় সিমন্স লিখেছেন, “হঠাৎ করেই আমার মৌসুম শেষ হয়ে গেল… আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। আমি দলের হয়ে লড়াই করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু সেই সুযোগ এবং বিশ্বকাপ—দুটোই আমার কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হলো।”
কোচ রোনাল্ড কোম্যানের সিস্টেমে নিয়মিত মুখ হয়ে ওঠা সিমন্স গত কয়েক বছরে ডাচ মাঝমাঠের প্রাণভোমরা হয়ে উঠেছিলেন।
টটেনহ্যামের অবনমন লড়াইয়ে বড় বিপদ
জাভি সিমন্সের এই ইনজুরি কেবল জাতীয় দল নয়, তাঁর ক্লাব টটেনহ্যামের জন্যও এক বিশাল বিপর্যয়। প্রিমিয়ার লিগে বর্তমানে অবনমন এড়ানোর কঠিন লড়াই চালাচ্ছে রোবের্তো দে জার্বির দল। ব্রাইটনের বিপক্ষে ড্র ম্যাচে গোল ও অ্যাসিস্ট করে এমভিপি হওয়া সিমন্স দলকে টেনে নিয়ে যাচ্ছিলেন।
উলভসের বিপক্ষে ইনজুরিতে পড়ার আগ পর্যন্তও তিনি দুর্দান্ত খেলছিলেন। লিগে বাকি থাকা শেষ চারটি ম্যাচে তাঁকে ছাড়া অবনমন এড়ানো টটেনহ্যামের জন্য এখন এক হিমালয়সম চ্যালেঞ্জ।
অনিশ্চয়তায় পরবর্তী মৌসুম
এসিএল ইনজুরির ভয়াবহতার কারণে সিমন্স কেবল বিশ্বকাপই নয়, বরং আগামী মৌসুমের একটি বড় অংশও মাঠের বাইরে কাটাবেন। প্রিমিয়ার লিগে তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়েও এখন তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। বর্তমানে ডাচ এই তারকা কেবল গ্যালারিতে বসে সতীর্থদের সমর্থন দেওয়া ছাড়া আর কিছুই করতে পারছেন না।
ক্যারিয়ারের এই কঠিন সময়ে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছে ফুটবল বিশ্ব। বিশ্বকাপের ঠিক আগমুহূর্তে তাঁর মতো প্রতিভার ছিটকে যাওয়া ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এক বিয়োগান্তক ঘটনা।

