এভারটনের বিপক্ষে বল নিয়ে ছুটছেন ম্যান সিটির হালান্ড।এভারটনের বিপক্ষে ড্র করে শিরোপা দৌড়ে পিছিয়ে গেছে ম্যান সিটি। ছবি: রয়টার্স

প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা লড়াইয়ে কি তবে যবনিকা পড়তে চলেছে? সোমবার রাতে এভারটনের মাঠ গুডিসন পার্কে যা ঘটে গেল, তাকে এক কথায় ‘নাটকীয়’ বললেও কম বলা হবে। এভারটনের বিপক্ষে ৩-৩ গোলের এই রোমাঞ্চকর ড্র পেপ গার্দিওলার ম্যানচেস্টার সিটির জন্য স্বস্তির চেয়ে বড় এক ধাক্কা হয়েই এসেছে। বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধের সেই অভিশপ্ত ১৩ মিনিট, যা সিটির টানা পঞ্চম শিরোপার স্বপ্নকে খাদের কিনারায় ঠেলে দিয়েছে।

১৩ মিনিটের সেই লঙ্কাকাণ্ড

ম্যাচের শুরুটা ছিল সিটির চেনা ছন্দে। জেরেমি ডোকুর দারুণ গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে বিরতিতে গিয়েছিল গার্দিওলার শিষ্যরা। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হতেই শুরু হয় সিটির রক্ষণভাগের অবিশ্বাস্য পতন। মাত্র ১৩ মিনিটের ব্যবধানে তিনবার সিটির জালে বল পাঠায় এভারটন।

থিয়েরো বারির জোড়া গোল এবং জ্যাক ও’ব্রায়েনের একটি হেডার সিটিকে স্তব্ধ করে দেয়। এর মধ্যে ডিফেন্ডার মার্ক গুহির একটি মারাত্মক ভুল উপহার হিসেবে গোল এনে দেয় এভারটনকে।

যদিও আর্লিং হালান্ড দ্রুত ব্যবধান কমান এবং শেষ মুহূর্তে (৯৭ মিনিটে) জেরেমি ডোকুর দুর্দান্ত এক ভলিতে সিটি এক পয়েন্ট ছিনিয়ে নেয়, কিন্তু দিনের শেষে এই ড্র আর্সেনালের জন্য পৌষ মাস হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আরও পড়ুন:
‘অমানবিক’ সূচির ফাঁদে ম্যানসিটি: ১১ দিনে ৪ ম্যাচ, ক্ষুব্ধ গার্দিওলা

শিরোপা এখন গানার্সদের হাতের মুঠোয়

এই ড্রয়ের ফলে লিগে ম্যানচেস্টার সিটির সর্বোচ্চ পয়েন্ট হওয়ার সুযোগ আছে ৮৩। অন্যদিকে আর্সেনাল এখন ৭৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়ে। অর্থাৎ, মিকেল আরতেতার দল যদি তাদের হাতে থাকা বাকি ৩টি ম্যাচই জিততে পারে, তবে ২০০৪ সালের পর প্রথম লিগ শিরোপা ঘরে তুলবে তারা।

পয়েন্ট টেবিলের পাশাপাশি গোল ব্যবধানের হিসেবেও আর্সেনাল সিটির চেয়ে ৪ গোলে এগিয়ে আছে, যা তাদের জন্য বাড়তি এক রক্ষাকবচ।

আর্সেনালের কিংবদন্তি থিয়েরি হেনরি অবশ্য আগেভাগে উৎসবে মাততে নারাজ। তিনি বলেন, “শিরোপা এখন আমাদের (আর্সেনাল) হাতে, এটা ধ্রুব সত্য। তবে আমি এখনই উদযাপন করব না, কারণ লড়াই এখনো শেষ হয়নি।”

গার্দিওলার হতাশা ও বাস্তবতা

ম্যাচ শেষে পেপ গার্দিওলা সরাসরিই মেনে নিয়েছেন যে ভাগ্য এখন আর তাদের হাতে নেই। তিনি বলেন, “শিরোপা আমাদের হাতে নেই। আগে ছিল, এখন নেই। হাতে কয়েকটি ম্যাচ আছে, দেখা যাক কী হয়।”

পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, এবারের মৌসুমে কর্নার থেকে ৮টি গোল হজম করেছে সিটি, যা গত দুই মৌসুমের মিলিত সংখ্যার সমান। বড় ম্যাচের চাপে রক্ষণভাগের এই নড়বড়ে অবস্থা সিটির দুশ্চিন্তার প্রধান কারণ।

সমীকরণ যখন স্নায়ুচাপের

আর্সেনাল চাইলে আগামী ১৩ মে বুধবারের মধ্যেই শিরোপা নিশ্চিত করতে পারে। যদি রবিবার তারা ওয়েস্ট হ্যামকে হারায় এবং তার আগের দিন সিটি ব্রেন্টফোর্ডের কাছে হেরে যায়, তবে সমীকরণ আরও সহজ হয়ে যাবে।

তবে সিটির সমর্থকরা এখনো হাল ছাড়ছেন না। ২০১৩-১৪ মৌসুমের কথা মনে করিয়ে দিয়ে অনেকে বলছেন, সেবারও সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে ড্র করেও শেষ পর্যন্ত লিগ জিতেছিল সিটি। ডোকুর সেই শেষ মুহূর্তের গোলটি হয়তো শিরোপা নির্ধারণে তুরুপের তাস হয়েও উঠতে পারে।

ওয়েন রুনি অবশ্য বাজি ধরছেন আর্সেনালের দিকেই। তাঁর মতে, “আমি মনে করি এটা আর্সেনালের বছর। আরতেতা গত পাঁচ বছর যে পরিশ্রম করেছেন, তার ফল তিনি এবার পেতে যাচ্ছেন।”

সিটির সামনে এখন তিনটি হোম ম্যাচ (ব্রেন্টফোর্ড, প্যালেস ও অ্যাস্টন ভিলা) এবং বোর্নমাউথের বিপক্ষে একটি অ্যাওয়ে ম্যাচ। অন্যদিকে আর্সেনালকে খেলতে হবে ওয়েস্ট হ্যাম, বার্নলি এবং এভারটনের বিপক্ষে। গুডিসন পার্কের এই ড্র প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে অন্যতম সেরা রোমাঞ্চকর সমাপ্তি হয়ে থাকবে কি না, তা জানা যাবে আর মাত্র তিন সপ্তাহ পরেই।

আরও পড়ুন:
৯ বছর পর ম্যান সিটি ছাড়ছেন ‘তুরুপের তাস’ বার্নার্দো সিলভা