পাকিস্তানের বিপক্ষে আসন্ন টেস্ট সিরিজকে সামনে রেখে মিরপুরে জোরকদমে প্রস্তুতি শুরু করেছে বাংলাদেশ দল। প্রথম দিনের অনুশীলনে সবার নজর কেড়েছেন তরুণ ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। নেটে তাঁর ব্যাটিংয়ের একাগ্রতা দেখে ক্রিকেটপাড়ায় প্রশ্ন উঠেছে—তবে কি সাদা পোশাকে অভিষেক হতে যাচ্ছে এই বাঁহাতি ব্যাটারের? উত্তর পেতে ৮ মে সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হলেও, সাবেক ক্রিকেটারদের মতে, তামিমই হতে পারেন বাংলাদেশের টেস্ট ব্যাটিংয়ের ‘গেম চেঞ্জার’।
ডেভিড ওয়ার্নার স্টাইলে ব্যাটিংয়ের সামর্থ্য
জাতীয় দলের সাবেক ওপেনার ইমরুল কায়েস ও নির্বাচক হান্নান সরকার দুজনেই তামিমের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের প্রশংসা করেছেন।
হান্নান সরকারের মতে, “টেস্টে ডেভিড ওয়ার্নারের মতো এমন ক্রিকেটার থাকে যারা শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলে। তামিম ঠিক ওয়ার্নার না হলেও সেই সামর্থ্য তাঁর আছে। সাদমান একভাবে খেলে, তামিম খেলবে ভিন্নভাবে। এমন প্রতিভাকে সিস্টেমে রেখে তৈরি করা দলের জন্যই ভালো।”
ইমরুল কায়েস মনে করেন, ২০ বছর আগের রক্ষণাত্মক মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসার সময় হয়েছে। তিনি বলেন, “এখন আর ২০০ বলে ১০০ করার যুগ নেই। ব্যাটাররা ১২০-৩০ বলেই সেঞ্চুরি করছে। আমাদের এই কালচার পরিবর্তন করা উচিত।”
“নির্বাচকরা তামিমকে এনে সেই সাহস দেখিয়েছেন। শুরুতে ব্যর্থতা এলেও এই ধরণের ব্যাটাররা তৈরি হয়ে গেলে বাংলাদেশ আধুনিক টেস্ট ক্রিকেট খেলতে পারবে।”
আরও পড়ুন:
বাংলাদেশ টেস্ট দলে চমক তানজিদ ও অমিত, ফিরলেন তাসকিন-শরীফুল
লাল বলের কঠিন চ্যালেঞ্জ ও অভিজ্ঞতা
২০২৩ সালে ওয়ানডে এবং এক বছর পর টি-টোয়েন্টি অভিষেক হওয়া তানজিদ তামিম আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের উত্তাপ সম্পর্কে জানেন। তবে হান্নান সরকার মনে করিয়ে দিলেন লাল বলের ভিন্ন বাস্তবতার কথা।
তিনি বলেন, “সাদা বলের অভিজ্ঞতা থাকলেও লাল বলের ক্রিকেট সম্পূর্ণ ভিন্ন ও চ্যালেঞ্জিং। যদিও প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সে জানে কীভাবে বড় ইনিংস খেলতে হয়।”
অন্যদিকে ইমরুল কায়েসের বিশ্বাস, ওপেনিং হোক বা ছয় নম্বর—যেকোনো পজিশনেই দ্রুত রান তোলার সামর্থ্য আছে তামিমের। বিশেষ করে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডেতে তাঁর সেঞ্চুরিই প্রমাণ করে তিনি তিন ফরম্যাটের জন্যই প্রস্তুত।
পরিসংখ্যান যখন আশার আলো
তানজিদ তামিমের স্ট্রাইক রেটই তাঁকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করেছে। যেখানে মুশফিকুর রহিমের টেস্ট স্ট্রাইক রেট ৪৮.৫২ এবং লিটন দাসের ৫৯.৬৫, সেখানে প্রথম শ্রেণিতে তামিমের স্ট্রাইক রেট ৭৭.৬৭!
২৫ ম্যাচে প্রায় ৪০ গড়ে ১৭৯২ রান করা এই ব্যাটারের ‘কনভারশন রেট’ও দারুণ। ১১টি হাফসেঞ্চুরির ৫টিকেই তিনি সেঞ্চুরিতে রূপ দিয়েছেন। ডিপিএল বা আন্তর্জাতিক ওয়ানডে—সবখানেই তাঁর স্ট্রাইক রেট ১২০-এর ওপরে।
নির্বাচক ও কোচদের চাওয়া, একাদশে থাকলে তামিমকে যেন তাঁর স্বভাবজাত আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করার স্বাধীনতা দেওয়া হয়। এই স্বাধীনতা পেলে হয়তো তানজিদ তামিমের হাত ধরেই আধুনিক টেস্ট ব্যাটিংয়ের নতুন এক অধ্যায় শুরু করবে বাংলাদেশ।

