সময়ের প্রবাহে পেরিয়ে গেছে ২০টি মাস। ২০২৪ সালের অগাস্ট-সেপ্টেম্বরে রাওয়ালপিন্ডির সেই রূপকথার জয়—২-০ ব্যবধানে পাকিস্তানকে তাদেরই মাটিতে ধবলধোলাই—স্মৃতির পাতায় খানিকটা ঝাপসা হতে শুরু করলেও প্রতিপক্ষ যখন আবার পাকিস্তান, তখন সেই মলিন ছবিগুলোই আবার তারতাজা হয়ে ওঠার কথা। তবে বর্তমান কোচ ফিল সিমন্স অতীত রোমাঞ্চে গা ভাসাতে নারাজ। বরং মিরপুরের সবুজ ঘাসে ঢাকা উইকেটে তিনি চান নতুন কোনো সুখস্মৃতির জন্ম দিতে।
ইতিহাস এখন অতীত, লক্ষ্য নতুন শুরু
বুধবার মিরপুরে অনুশীলনের আগে সংবাদ সম্মেলনে সিমন্স স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, রাওয়ালপিন্ডির সেই সাফল্য এখন কেবলই পরিসংখ্যান।
তাঁর ভাষায়, “ওটা (২০২৪) ইতিহাস। সেই ইতিহাস এখন অতীত। আমরা এখন নতুন ইতিহাস গড়তে চাই। এজন্যই আমরা শুক্রবারের (৮ মে) দিকে তাকিয়ে আছি। তখন কী হয়েছিল, সেটা এখন আর কোনো ব্যাপার না।”
কোচ মনে করেন, পাকিস্তানের মাটিতে জয় আর বাংলাদেশের মাটিতে খেলা সম্পূর্ণ ভিন্ন চ্যালেঞ্জ। তিনি আরও যোগ করেন, “আগের জয় ভেতর থেকে উদ্দীপনা দিলেও এটা একটা নতুন খেলা, নতুন জায়গা। আমরা এখন বাংলাদেশে আছি। তাই আমাদের সবকিছু পেছনে ফেলে সামনের দিকে মনোযোগ দিতে হবে।”
আরও পড়ুন:
তানজিদ তামিমকে দিয়েই আধুনিক টেস্ট ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ?
বাইরের প্রত্যাশা বনাম ড্রেসিংরুমের শান্ত মেজাজ
রাওয়ালপিন্ডির সেই সাফল্যের কারণে এবার প্রত্যাশার পারদ আকাশচুম্বী। তবে ড্রেসিংরুমের পরিবেশ শান্ত রাখার পক্ষপাতী সিমন্স। তাঁর মতে, চাপের চেয়ে প্রস্তুতিই মুখ্য।
কোচের ভাষায়, “আমার মনে হয়, ড্রেসিংরুমের ভেতরের চেয়ে বাইরেই প্রত্যাশাটা ৯৫ শতাংশ বেশি। বাইরের প্রত্যাশা আমাদের কোনো সাহায্য করে না। তাই আমরা চেষ্টা করি সেগুলোকে ড্রেসিংরুমের বাইরে রাখতে।”
সাদা বলের ক্রিকেট থেকে হঠাৎ লাল বলে মানিয়ে নেওয়াটা বড় চ্যালেঞ্জ হলেও সিমন্স একে দেখছেন মানসিকভাবে। তিনি বিশ্বাস করেন, দলে এমন অনেকেই আছেন যারা গত কয়েক মাস ধরে লাল বলের অনুশীলন করছেন, যা এই পরিবর্তনকে সহজ করে দেবে।
শাহীন আফ্রিদির বড় লক্ষ্য
বাংলাদেশ যখন অতীত ভুলে নতুন শুরুর কথা বলছে, পাকিস্তান দল তখন সেই দুঃস্বপ্ন মুছে ফেলতে মরিয়া। দলের প্রতিনিধি হয়ে আসা তারকা পেসার শাহীন শাহ আফ্রিদি সাফ জানিয়ে দিলেন, তাঁরা শুধু এই সিরিজ নয়, বরং চোখ রাখছেন আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপায়।
শাহীন বলেন, “অতীত তো অতীতই। ব্যক্তিগতভাবে আমি তা মনে রাখতে চাই না। আমাদের লক্ষ্য হলো বর্তমান ও ভবিষ্যতের দিকে তাকানো। আমরা কীভাবে চ্যাম্পিয়নশিপ জিতব, লক্ষ্যটা সেখানেই। আমরা তার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।”
নতুনদের অভিষেক ও অভিজ্ঞতার সমন্বয়
এই সিরিজেই টেস্ট অভিষেকে নিজেকে চেনানোর অপেক্ষায় আছেন বাংলাদেশের আক্রমণাত্মক ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। ফিল সিমন্সের আধুনিক ক্রিকেট দর্শনে তানজিদের মতো ব্যাটাররা বড় তুরুপের তাস হতে পারেন। এছাড়া মিডল অর্ডারে অমিত হাসানের অন্তর্ভুক্তি দলের ব্যাটিং গভীরতা বাড়িয়েছে।
অন্যদিকে, নাহিদ রানা, ইবাদত হোসেন ও শরিফুল ইসলামদের গড়া পেস ইউনিট মিরপুরের স্পোর্টিং উইকেটে গতির ঝড় তুলতে প্রস্তুত।
মুশফিকুর রহিমের ১০০ টেস্টের অভিজ্ঞতা বনাম শাহীন আফ্রিদিদের গতির লড়াই—সব মিলিয়ে শুক্রবার থেকে শুরু হতে যাওয়া মিরপুর টেস্টে এক নতুন ইতিহাসের অপেক্ষায় মিরপুর।

