পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি।পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি। ছবি: পিসিবি

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ খেলতে ভারত সফরে অস্বীকৃতি জানানোকে কেন্দ্র করে বিশ্ব ক্রিকেটে যখন টানটান উত্তেজনা, তখন বাংলাদেশের পাশে শক্ত অবস্থানে ছিল পাকিস্তান। এমনকি আইসিসির বহিষ্কারাদেশের মুখেও বাংলাদেশের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছিলেন পিসিবি প্রেসিডেন্ট মহসিন নাকভি।

সেই ঘটনার পর দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্কের যে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে, তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে এবার। আগামীকাল শুক্রবার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হতে যাওয়া প্রথম টেস্ট মাঠে বসে দেখতে বাংলাদেশে আসছেন নাকভি।

সংহতি ও কূটনৈতিক সৌজন্যের সফর

বিসিবি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার এই টেস্ট সিরিজের প্রথম দিনের খেলা উপভোগ করতে সশরীরে গ্যালারিতে উপস্থিত থাকবেন মহসিন নাকভি।

উল্লেখ্য, পাকিস্তানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করা এই রাজনীতিক ও ক্রীড়া সংগঠক বাংলাদেশের কঠিন সময়ে নিঃস্বার্থ সমর্থন দিয়ে বোর্ড ও সমর্থকদের কাছে বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছেন।

আরও পড়ুন:
২০২৪ ‘অতীত’: পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের লক্ষ্য নতুন ইতিহাস

পিসিবি আগেই জানিয়েছে, ১০ থেকে ১২ জনের এই প্রতিনিধি দলের এই সফরে কোনো আনুষ্ঠানিক ‘এজেন্ডা’ নেই। মূলত ব্যক্তিগত সৌজন্য ও মাঠের ক্রিকেট উপভোগ করতেই এই ঝটিকা সফর। তবে সফরের ফাঁকে বিসিবি অ্যাডহক কমিটির প্রেসিডেন্ট তামিম ইকবালের সঙ্গে তাঁর একটি সৌজন্য সাক্ষাতের কথা রয়েছে।

রাওয়ালপিন্ডির পুনরাবৃত্তির অপেক্ষা

বর্তমান আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে এটিই দুই দলের প্রথম দ্বৈরথ। এর আগে ২০২৪ সালের অগাস্ট-সেপ্টেম্বরে রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তানকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছিল বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে সেই সাফল্যের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে পয়েন্ট টেবিলের খাতা খুলতে মরিয়া স্বাগতিক দল।

অন্যদিকে, পাকিস্তানের তারকা পেসার শাহীন শাহ আফ্রিদি ইতোমধ্যে জানিয়েছেন, তাঁরা অতীত মনে রাখতে চান না। তাঁদের লক্ষ্য বর্তমান চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠা। ফলে মাঠের লড়াই যেমন উত্তেজনার আভাস দিচ্ছে, মাঠের বাইরে বোর্ড প্রধানদের উপস্থিতি সেই আবহে যোগ করছে নতুন মাত্রা।

এদিকে, পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বোর্ড প্রধানের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে শের-ই-বাংলা স্টেডিয়াম এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিসিবি কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই সফর দুই দেশের ক্রিকেটীয় ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়নকে আরও ত্বরান্বিত করবে।

আরও পড়ুন:
ফাইনালে চোখ রেখে বাংলাদেশে লড়বে পাকিস্তান