মিরপুরের বাইশ গজে যখন স্পিনের মায়াজাল দেখার কথা, সেখানে এবার বইছে গতির ঝোড়ো হাওয়া। শুক্রবার (৮ মে) শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হতে যাওয়া বাংলাদেশ-পাকিস্তান প্রথম টেস্টের আগে মূল আলোচনার কেন্দ্রে এখন দুই দলের পেস বোলিং। যেখানে একসময়ের বিশ্বখ্যাত পাকিস্তান পেস অ্যাটাকের চেয়েও নিজেদের বোলারদের এগিয়ে রাখার সাহসী প্রত্যয় ঝরল বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর কণ্ঠে।
পেস আস্তিনে শান্তর ‘ব্রহ্মাস্ত্র’
একসময় কল্পনাও করা যেত না যে বাংলাদেশের কোনো অধিনায়ক পাকিস্তানের বিপক্ষে গতির লড়াইয়ে নামার ঘোষণা দেবেন। কিন্তু সময় বদলেছে। নাজমুল হোসেন শান্তর এই আত্মবিশ্বাসের মূলে রয়েছেন ‘গতিদানব’ নাহিদ রানা।
শান্তর ভাষায়, “আমাদের পেস বোলিং অ্যাটাক হয়তো একটু এগিয়েই আছে গত কয়েক বছর ধরে। নাহিদ রানা দলে থাকাটা অধিনায়কের জন্য বাড়তি সুবিধা।”
রানার সাথে থাকছেন অভিজ্ঞ তাসকিন আহমেদ, যিনি দেড় বছর পর সাদা পোশাকে ফিরছেন। অধিনায়কের আস্থার প্রতিদান দিতে মুখিয়ে আছেন শরীফুল ইসলাম ও ইবাদত হোসেনও।
সব দেখে, শুনেই হয়তো পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদও অকপটে স্বীকার করেছেন, “তাদের বোলিং আক্রমণ সম্ভবত এটাই তাদের সেরা।”
আরও পড়ুন:
২-০’র বীরত্ব নিয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে নতুন পরিকল্পনায় বাংলাদেশ
শান মাসুদের বিনয় ও বাস্তববাদিতা
শাহীন শাহ আফ্রিদি চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল খেলার স্বপ্ন দেখলেও অধিনায়ক শান মাসুদ পা রাখছেন মাটিতেই। রাওয়ালপিন্ডিতে বাংলাদেশের কাছে ০-২ ব্যবধানে হারের ক্ষত থাকলেও তিনি ‘প্রতিশোধ’ শব্দটিতে কান দিচ্ছেন না। বরং বাংলাদেশকে প্রাপ্য সম্মান দিয়েই কথা বলেছেন তিনি।
“আমাদের পক্ষ থেকে প্রতিশোধ–এর মতো শব্দ ব্যবহার করি না। ২০২৪ সালে বাংলাদেশ দল যেভাবে খেলেছিল, এজন্য তাঁদেরকে কৃতিত্ব দিতেই হবে। এমনকি যখন আমরা সুবিধাজনক অবস্থানে ছিলাম; যেমন তাঁদের ২৬ রানে ৬ উইকেট পড়ে গিয়েছিল—তখনো কিন্তু তাঁরা লড়াই করে টেস্ট ম্যাচ জেতার মতো দক্ষতা ও সক্ষমতা দেখিয়েছিল”
পাকিস্তান অধিনায়ক বলেন, “প্রতিটি দলেরই নিজস্ব শক্তি আছে। আমরা আমাদের দক্ষতার দিকেই মনোযোগ দিতে চাই। সব দলই ফাইনালের স্বপ্ন দেখে, কিন্তু এই মুহূর্তে আমাদের পুরো নজর বাংলাদেশ সিরিজে।”
শাহীন আফ্রিদি ও মোহাম্মদ আব্বাসদের গতির অভিজ্ঞতার ওপরই ভরসা রাখছে সফরকারীরা।
ব্যাটিংয়ের পুরনো ক্ষত ও শান্তর কড়া বার্তা
পেসাররা জয়ের আশা জাগালেও বাংলাদেশের মূল চিন্তার জায়গা ‘হোম গ্রাউন্ডে’র ব্যাটিং রেকর্ড। গত টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে ঘরের মাঠে ৬ টেস্টে মাত্র একবারই ৩০০-এর বেশি রান করতে পেরেছিল টাইগাররা। এবার সেই দৈন্যতা কাটাতে মরিয়া শান্ত।
তাঁর সাফ কথা, “প্রথম ইনিংসে আমরা যেন ৪০০-এর বেশি রান করতে পারি। রান করাটাই গুরুত্বপূর্ণ, সেটা ১২০ ওভারে হোক বা ৮০ ওভারে।”
মিরপুরের স্পোর্টিং উইকেটে অভিজ্ঞ ব্যাটারদের কাছ থেকে বড় ইনিংসই এখন দলের প্রধান চাওয়া।
শের-ই-বাংলার নতুন রূপ
মিরপুর মানেই মন্থর পিচ আর স্পিন-ফাঁদ—এই ধারণা ভেঙে এবার উইকেটে ঘাসের গালিচা সাজানো হয়েছে। সাদা বলের সাম্প্রতিক সিরিজে এই উইকেটে ভালো রান এসেছে, যা ব্যাটার ও পেসার উভয়ের জন্যই আনন্দের খবর।
আগামীকাল সকাল ১০টায় যখন দুই দলের অধিনায়ক টস করতে নামবেন, তখন শের-ই-বাংলার সবুজ ক্যানভাসে কেবল গতির লড়াই নয়, বরং মর্যাদার লড়াইয়েও নামবে দুই দল।

