নেইমারের গুরুখ্যাত রোজেরিও মিকেল বাংলাদেশের কোচ হিসেবে আলোচনায়।নেইমারদের কোচ হিসেবে অলিম্পিকে স্বর্ণ জিতেছিলেন রোজেরিও মিকেল। ছবি: রয়টার্স

দেশের ফুটবল অঙ্গনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—হামজা চৌধুরী ও শমিতদের পরবর্তী কান্ডারি কে হচ্ছেন? গত কয়েকদিন ধরে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনে (বাফুফে) কোচ নিয়োগ নিয়ে চলছে তোড়জোড়। হাই-প্রোফাইল প্রার্থীদের ভিড়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আছেন নেইমারের সাবেক গুরু রোজেরিও মিকেল। তবে আর্থিক সীমাবদ্ধতা আর যোগ্য প্রার্থীর সন্ধানে বাফুফের সিদ্ধান্ত আসার সময়সীমা বারবার পিছিয়ে যাচ্ছে। এই অবস্থায় প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের দ্বারস্থ হয়েছেন বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল।

কোচ নিয়োগে কেন দেরি?

জাতীয় দল কমিটির সর্বশেষ সভার পর তিন দিনের মধ্যে কোচের নাম ঘোষণা করার কথা ছিল। সেই সময়সীমা বৃহস্পতিবার (৭ মে) পেরিয়ে গেলেও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নাম প্রকাশ করেনি বাফুফে।

বাফুফের টেকনিক্যাল কমিটির চেয়ারম্যান কামরুল হাসান হিল্টন জানিয়েছেন, কোচদের ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া এখনো চলমান। ১০ থেকে ১১ জন কোচের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা নিয়ে কাজ করছে বাফুফে। একেকজন কোচের সাক্ষাৎকার নিতে ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট সময় লাগছে, ফলে পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে আরও দুই-তিন দিন সময় লাগতে পারে।

নেইমারের গুরুর বিশাল চাহিদা

আবেদনকারী কোচদের মধ্যে সবচেয়ে বড় নাম ৫৭ বছর বয়সী ব্রাজিলিয়ান রোজেরিও মিকেল। ২০১৬ রিও অলিম্পিকে নেইমারদের কোচ হিসেবে ব্রাজিলকে স্বর্ণ জেতানো এই কোচ বাংলাদেশের দায়িত্ব নিতে আগ্রহ দেখিয়েছেন।

বাফুফে সূত্রে জানা গেছে, তিনি মাসিক বেতন হিসেবে ২৫ থেকে ৩০ হাজার ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩০-৩৬ লাখ টাকা) দাবি করেছেন। তবে আলোচনার মাধ্যমে এই বেতন কিছুটা কমানোর সুযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন:
হামজা-শামিতদের কোচ: সংক্ষিপ্ত তালিকায় ১০ জন, সিদ্ধান্ত ৩ দিনে

বাজেট বনাম হাই-প্রোফাইল কোচ

বাফুফের বর্তমান সামর্থ্য অনুযায়ী কোনো কোচের পেছনে ১৫ থেকে ২০ হাজার ডলারের বেশি ব্যয় করা কঠিন। অথচ তালিকায় থাকা অনেক হাই-প্রোফাইল কোচের চাহিদা ৫০ হাজার ডলারের কাছাকাছি। এই আর্থিক সংকট নিরসনে বৃহস্পতিবার দুপুরে বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

জাতীয় দলের স্বার্থে প্রয়োজনে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, “বাফুফে সভাপতি কোচের বিষয়ে আমার সাথে আলাপ করেছেন। বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য সম্ভাব্য সেরা ব্যক্তিকেই আমরা চাই। বাফুফে সহযোগিতা চাইলে আমরা তা করব।”

সামনে বড় মিশন

আগামী ৫ জুন সান মারিনোর বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। ২৩ মে প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ শেষ হওয়ার পর থেকেই জাতীয় দলের ক্যাম্প শুরু হবে। হাতে সময় কম থাকায় আগামী সপ্তাহের মধ্যেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে বাফুফেকে। আগামী কয়েক দিনের বিচার-বিশ্লেষণ শেষে তিন-চারজন কোচের নাম ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হতে পারে। এরপরই চূড়ান্ত হবে কে হচ্ছেন হামজাদের পরবর্তী ‘মাস্টারমাইন্ড’।

বাফুফে এখন কোচের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি তাদের ‘প্রো-লাইসেন্স’ এবং জাতীয় দলে কাজ করার পূর্ব অভিজ্ঞতাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, বাফুফে কি নেইমারের সাবেক কোচের ওপরই আস্থা রাখে, নাকি বাজেটের মধ্যে অন্য কাউকে বেছে নেয়।

আরও পড়ুন:
৪ ঘন্টার বৈঠক: বাফুফের পুরনো প্রতিশ্রতি, কোচ আর সাফ কোটা ঝুলন্ত!