বার্সেলোনার তারকা লামিনে ইয়ামাল ও রিয়াল মাদ্রিদের তারকা ট্রেন্ট আলেক্সান্ডার-আর্নল্ড।ইয়ামাল ও আর্নল্ড লা লিগার শিরোপায় চোখ রাখলেও জিতবেন একজনই। ছবি: গেটি ইমেজেস

স্প্যানিশ ফুটবলের সবচেয়ে বড় লড়াই ‘এল ক্লাসিকো’ কখনোই সাধারণ কোনো ম্যাচ নয়। তবে এবারের রবিবারের লড়াইটি একটু বেশিই বিশেষ। কারণ, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদকে হারাতে পারলেই ন্যু ক্যাম্পে নিজেদের সমর্থকদের সামনে টানা দ্বিতীয়বারের মতো লা লিগা শিরোপা জয়ের উৎসবে মাতবে হান্সি ফ্লিকের বার্সেলোনা। সঙ্গে আছে ১০০ পয়েন্টের রেকর্ডের হাতছানি।

বর্তমানে ১১ পয়েন্টের বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে থাকা বার্সা যেখানে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে, সেখানে রিয়াল মাদ্রিদ শিবিরে বইছে ঝোড়ো হাওয়া।

রিয়াল মাদ্রিদের ড্রেসিংরুম টালমাটাল

মাঠের ফুটবলের চেয়ে মাঠের বাইরের বিতর্ক নিয়ে বেশি চাপে আছেন রিয়াল কোচ আলভারো আরবেলোয়া। গত সপ্তাহে দলের দুই মিডফিল্ডার ফেদেরিকো ভালভার্দে এবং অরেলিয়েন চুয়ামেনির মধ্যে এক নজিরবিহীন হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার জেরে ভালভার্দে মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে ক্লাসিকো থেকে ছিটকে গেছেন।

অন্যদিকে, চুয়ামেনি অনুশীলনে ফিরলেও তাঁর খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। ক্লাব কর্তৃপক্ষ দুজনকেই প্রায় ৫ লাখ ইউরো জরিমানা করেছে।

আরও পড়ুন:
এমবাপ্পেকে নিয়ে ক্ষুব্ধ রিয়াল মাদ্রিদ, একা হয়ে পড়ছেন ফরাসি তারকা

সংবাদ সম্মেলনে আরবেলোয়া এই ঘটনাকে ‘দুর্ঘটনা’ বলে অভিহিত করেছেন। নিজের লিভারপুল ক্যারিয়ারের ২০০৭ সালের এক ঘটনার কথা স্মরণ করেন তিনি।

আরবেলোয়া বলেন, “আমি এমন সতীর্থ দেখেছি যে অন্য খেলোয়াড়কে গলফ ক্লাব দিয়ে মারতে গিয়েছিল। ড্রেসিংরুমের খবর ড্রেসিংরুমেই থাকা উচিত।”

দলের বাজে পরিস্থিতির সব দায়ভার নিজের কাঁধে নিয়ে আরবেলোয়া জানান, সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজই পারেন এই অবস্থা থেকে ক্লাবকে উদ্ধার করতে।

তবে স্প্যানিশ গণমাধ্যমের খবর, আগামী মৌসুমে আরবেলোয়ার জায়গায় হোসে মরিনহো ফিরতে পারেন।

শান্ত ও আত্মবিশ্বাসী বার্সেলোনা

রিয়ালের অস্থিরতার ঠিক উল্টো চিত্র বার্সেলোনা শিবিরে। কোচ হান্সি ফ্লিকের অধীনে পুরো দল এখন একটি ‘বড় পরিবার’। অনুশীলনের হাসিখুশি ভিডিও এবং ছবি শেয়ার করে তারা নিজেদের একতা জানান দিচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে রিয়ালের কোন্দল নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ফ্লিক বলেন, “আমি কি অবাক হয়েছি? হয়তো কিছুটা। কিন্তু এটা আমার দল বা আমার ক্লাব নয়, তাই আমি এটা নিয়ে ভাবছি না।”

তিনি যোগ করেন, “আমরা শুধু জিততে চাই এবং ঘরের মাঠে শিরোপা উদযাপন করতে চাই।”

রিয়ালের সেরা তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পেকে নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ফ্লিক তাঁকে ‘বিশ্বের অন্যতম সেরা’ খেলোয়াড় হিসেবে অভিহিত করেন।

ফ্লিক এও জানান, ফরাসি এই স্ট্রাইকারের গোলবক্সের ভেতরের দক্ষতা নিয়ে সতর্ক তাঁর শিষ্যরা।

১০০ পয়েন্টের হাতছানি

শিরোপা জয়ের পাশাপাশি বার্সেলোনার সামনে সুযোগ রয়েছে ইতিহাস গড়ার। বর্তমানে ৮৮ পয়েন্টে থাকা বার্সা যদি বাকি ৪ ম্যাচ জিতে নেয়, তবে তারা ২০১২-১৩ মৌসুমে তিতো ভিলানোভার করা ১০০ পয়েন্টের রেকর্ড স্পর্শ করবে।

লা লিগার ইতিহাসে এর আগে কেবল মরিনহোর রিয়াল মাদ্রিদ ও ভিলানোভার বার্সাই এই মাইলফলক ছুঁতে পেরেছিল।

সমীকরণ ও সম্ভাবনা

মরসুমের প্রথম ক্লাসিকোতে রিয়াল ২-১ গোলে জিতলেও তখন পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। চাবি আলোনসোর অধীনে রিয়াল তখন শিরোপার দৌড়ে ভালো অবস্থানে ছিল। কিন্তু এখন বার্সেলোনার শিরোপা কেবল সময়ের ব্যাপার। রবিবারের ন্যু ক্যাম্পে জয় বা ড্র—যেকোনো ফলাফলই বার্সাকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করার জন্য যথেষ্ট হতে পারে।

আরও পড়ুন:
‘বিশ্বমঞ্চে রাজত্ব করতে ইয়ামালকে বার্সা ছাড়তে হবে’