মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের প্রতিটি ঘাস আজ সাক্ষী হয়ে রইল এক মহাকাব্যিক বিজয়ের। পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠে দীর্ঘ ২৩ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রথম টেস্ট জয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ। পেসার নাহিদ রানার আগুনঝরা বোলিং আর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর বীরোচিত ব্যাটিংয়ে সফরকারীদের ১০৪ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে টাইগাররা।
এই জয়ে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। এ নিয়ে টানা ৩ টেস্ট পাকিস্তানের বিপক্ষে জিতল বাংলাদেশ।
শান্তর ‘লিডিং ফ্রম দ্য ফ্রন্ট’
৩ উইকেটে ১৫২ রান নিয়ে আজ পঞ্চম দিনের খেলা শুরু করে বাংলাদেশ। লক্ষ্য ছিল দ্রুত রান তুলে পাকিস্তানকে ব্যাটিংয়ে পাঠানো।
অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ছিলেন অনবদ্য। মাত্র ১৩ রানের জন্য সেঞ্চুরি মিস করলেও তাঁর ৮৭ রানের ইনিংসটিই জয়ের ভিত গড়ে দেয়। মুশফিকের ২২ ও মিরাজের ২৪ রানের কল্যাণে ৯ উইকেটে ২৪০ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। পাকিস্তানের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৬৮ রান।
তাসকিনের শুরু, নাহিদ রানার তাণ্ডব
২৬৮ রানের জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নামা পাকিস্তানকে প্রথম ওভারেই ধাক্কা দেন তাসকিন আহমেদ। ইমাম-উল-হককে (২) সাজঘরে ফিরিয়ে টাইগার শিবিরে উল্লাসের জোয়ার আনেন তিনি। তবে দ্বিতীয় উইকেটে আজান আওয়াইস ও আব্দুল্লাহ ফজল ৫৪ রানের জুটি গড়ে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেছিলেন। মেহেদী হাসান মিরাজ আজানকে (১৫) বোল্ড করে সেই জুটি ভাঙলে আবারও চাপে পড়ে পাকিস্তান।
এরপর দৃশ্যপটে হাজির হন নাহিদ রানা। রাওয়ালপিন্ডির সেই আগুনে ফর্ম যেন মিরপুরে ফিরিয়ে আনলেন এই তরুণ তুর্কি।
এক প্রান্ত থেকে তাইজুল ইসলাম যখন হাফসেঞ্চুরিয়ান আব্দুল্লাহ ফজলকে (৬৬) এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেললেন, অন্য প্রান্তে নাহিদ রানা শুরু করেন ধ্বংসযজ্ঞ।
নিজের টানা দুই ওভারে মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সৌদ শাকিলকে (উভয়েই ১৫) প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠিয়ে পাকিস্তানের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন তিনি। শেষ দিকে হাসান আলী, নোমান আলী ও শাহিন আফ্রিদিকে দ্রুত বিদায় করে টেস্ট ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ‘ফাইফার’ পূর্ণ করেন নাহিদ।
মাত্র ৪০ রান খরচায় ৫ উইকেট নেন তিনি। ১৬৩ রানেই থমকে যায় পাকিস্তানের ইনিংস।
ঘরের মাঠে প্রথম জয়ের রেকর্ড
এর আগে ২০২৪ সালে পাকিস্তানের মাটিতে ২-০ ব্যবধানে ঐতিহাসিক সিরিজ জিতেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে জয় ছিল অধরা। অবশেষে ২০২৬ সালে এসে মিরপুরের দুর্গে পতন ঘটল শান মাসুদের দলের।
টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি—তিন সংস্করণেই এখন ঘরের মাঠে পাকিস্তানকে হারানোর কীর্তি গড়ল টাইগাররা।
ম্যাচ শেষে ডাগআউটে কোচ মোহাম্মদ আশরাফুলের মুখে দেখা গেছে চওড়া হাসি। গতকালই তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন দ্রুত রান তুলে পাকিস্তানকে চাপে ফেলার, যা অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছেন তাঁর শিষ্যরা।
দুই ইনিংসে ১৮৮ রান এবং দুর্দান্ত অধিনায়কত্বে ‘ম্যান অব দ্য ম্যাচ’ নির্বাচিত হওয়া নাজমুল হোসেন শান্তর হাত ধরে বাংলাদেশের ক্রিকেট এক নতুন দিগন্তের সূচনা করল।

