পাকিস্তানের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টে ৫ উইকেট নিয়েছেন নাহিদ রানা।নাহিদর রানার হাত ধরে নতুন ইতিহাস।

বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসের ২৬ বছরের দীর্ঘ পথচলায় যা আগে কখনো কোনো পেসার করতে পারেননি, মিরপুরের ২২ গজে আজ সেই অবিশ্বাস্য কীর্তিই গড়লেন তরুণ গতিদানব নাহিদ রানা। টেস্টের চতুর্থ ইনিংসে প্রথম বাংলাদেশি ফাস্ট বোলার হিসেবে ৫ উইকেট শিকারের এক অনন্য রেকর্ড নিজের নামে করে নিয়েছেন ২১ বছর বয়সী এই সেনসেশন।

রেকর্ড বইয়ে নাহিদ রানা

২০০০ সালে টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশের অনেক পেসার ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়েছেন, কিন্তু চতুর্থ ইনিংসে এই অর্জন ছিল অধরা।

এতকাল এটি ছিল কেবল স্পিনারদের চারণভূমি। আজ পাকিস্তানের বিপক্ষে ৪০ রানে ৫ উইকেট নিয়ে সেই প্রথা ভাঙলেন নাহিদ।

এর আগে চতুর্থ ইনিংসে বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে সেরা বোলিং ফিগার ছিল তাসকিন আহমেদের (৩৭ রানে ৪ উইকেট, আফগানিস্তানের বিপক্ষে ২০২৩)। সেই রেকর্ড আজ ভেঙে চুরমার করে দিয়েছেন নাহিদ রানা।

আরও পড়ুন:
নাহিদ রানার বাউন্সারে আঘাতের জেদ থেকে আজানের সেঞ্চুরি

১৬ বছর পর ঘরের মাঠে পেসারের ‘ফাইফার’

নাহিদের এই কীর্তি কেবল চতুর্থ ইনিংসেই সীমাবদ্ধ নয়, দেশের মাটিতেও কোনো পেসারের ৫ উইকেট দেখার জন্য ১৬ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে বাংলাদেশকে। ২০১০ সালে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ভারতের বিপক্ষে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন শাহাদাত হোসেন রাজীব।

এরপর দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় দেশের মাটিতে কোনো পেসার ৫ উইকেটের দেখা পাননি, যা আজ করে দেখালেন নাহিদ।

বিধ্বংসী সেই স্পেল

ম্যাচের শেষ সেশনে যখন পাকিস্তান জয়ের স্বপ্ন দেখছিল, ঠিক তখনই আগ্নেয়গিরি হয়ে ফেটে পড়েন নাহিদ রানা।

সেশনের শুরুতে মাত্র একটি উইকেট থাকলেও শেষ স্পেলে তাঁর বোলিং ফিগার ছিল অবিশ্বাস্য: ৪.৫-২-১০-৪। অর্থাৎ মাত্র ১০ রান খরচায় শেষ ৪ উইকেট তুলে নিয়ে পাকিস্তানকে একাই ধসিয়ে দেন তিনি। তাঁর ১৪৭.২ কিমি গতির রিভার্স সুইং ও বাউন্সারের কাছে আত্মসমর্পণ করেন মোহাম্মদ রিজওয়ান, নোমান আলী ও শাহিন শাহ আফ্রিদির মতো অভিজ্ঞ ব্যাটাররা।

ইতিহাসের পাতায় এক নজরে নাহিদ

বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে দেশের মাটিতে ৫ উইকেট শিকারি পেসারদের তালিকাটি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত। ২০০৬ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে শাহাদাত হোসেন রাজীব তিনবার এই কৃতিত্ব গড়েছিলেন। ১৬ বছর পর সেই তালিকায় নিজের নাম খোদাই করলেন নাহিদ রানা।

সতীর্থদের থেকে দূরে গিয়ে মাটিতে মাথা নুইয়ে যখন তিনি স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছিলেন, মিরপুরের গ্যালারি তখন প্রকম্পিত ‘নাহিদ…নাহিদ’ চিৎকারে।

গতির ঝড় তুলে কেবল ম্যাচই জেতাননি তিনি, বরং বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে পেসারদের এক নতুন যুগের সূচনা করেছেন।

আরও পড়ুন:
নাহিদ রানার লাজুক হাসির আড়ালে আগ্নেয়গিরির লাভা!