আসন্ন ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে মহাতারকা নেইমারের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে ফুটবল বিশ্বে প্রশ্নের অন্ত ছিল না। বিশেষ করে কার্লো আনচেলত্তি ব্রাজিলের কোচের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে একবারের জন্যও দলে ডাক পাননি এই ফরওয়ার্ড। তবে মাঠের বাইরের যাবতীয় সন্দেহ আর সংশয় উড়িয়ে দিয়ে শেষ পর্যন্ত সেলেসাওদের চূড়ান্ত ২৬ সদস্যের স্কোয়াডে জায়গা করে নিয়েছেন আল হিলালের এই তারকা।
পেলের পাশে নেইমার
এই মেগা ইভেন্টে ডাক পাওয়ার মাধ্যমে ব্রাজিলের ফুটবলে এক অনন্য ও অভিজাত ক্লাবে প্রবেশ করলেন নেইমার। ফুটবল সম্রাট পেলেসহ সেলেসাওদের ইতিহাসের মাত্র সাতজন কিংবদন্তি এখন পর্যন্ত দেশের হয়ে চারটি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন।
২০২৬ আসরের টিকিট পেয়ে এই তালিকায় অষ্টম ব্রাজিলিয়ান হিসেবে নিজের নাম লেখালেন নেইমার।
আরও পড়ুন:
ব্রাজিলের বিশ্বকাপ স্কোয়াডের সব আলো কেড়ে নিচ্ছেন নেইমার!
সেই সাত কীর্তিমান
নেইমারের আগে চারটি করে বিশ্বকাপে প্রতিনিধিত্ব করা ব্রাজিলের সেই সাত অমর ফুটবলারের কীর্তি একনজরে দেখে নেওয়া যাক:
পেলে (১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৬৬ ও ১৯৭০): ফুটবল ইতিহাসের একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপ জয়ের রেকর্ড তাঁর। ১৯৫৮ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে অভিষেক আসরেই জোড়া গোল করেন ফাইনালে। ১৯৭০ সালের ফাইনালে ইতালির বিপক্ষে জুলে রিমে ট্রফি স্থায়ীভাবে নিজেদের করার ম্যাচেও প্রথম গোলটি ছিল পেলের।
দালমা সান্তোস (১৯৫৪, ১৯৫৮, ১৯৬২ ও ১৯৬৬): পামেইরাসের এই কিংবদন্তি রাইটব্যাক দুবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে কোনোদিন লাল কার্ড না দেখার কীর্তি গড়া দালমা ফিফার দৃষ্টিতে সর্বকালের সেরা রাইটব্যাক।
কাস্তিলহো (১৯৫০, ১৯৫৪, ১৯৫৮ ও ১৯৬২): ফ্লুমিনেন্সের ইতিহাসের সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা এই গোলরক্ষক চার বিশ্বকাপে থাকলেও কেবল ১৯৫৪ আসরেই মূল একাদশে খেলেছেন। বাকি তিন আসরে বারবোসা ও জিলমারের ব্যাকআপ হিসেবে বেঞ্চে ছিলেন।
নিলতন সান্তোস (১৯৫০, ১৯৫৪, ১৯৫৮ ও ১৯৬২): রক্ষণভাগের এই বাঁ-হাতি স্তম্ভকে ২০০০ সালে ফিফা সর্বকালের সেরা লেফটব্যাক হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
এমারসন লেয়াও (১৯৭০, ১৯৭৪, ১৯৭৮ ও ১৯৮৬): ১৯৭০ সালের বিশ্বজয়ী দলে ২০ বছর বয়সী লেয়াও ছিলেন বিকল্প গোলরক্ষক। তবে পরের দুই বিশ্বকাপে (১৯৭৪ ও ১৯৭৮) ব্রাজিলের প্রধান গোলপোস্ট সামলানোর দায়িত্ব ছিল তাঁর কাঁধেই।
কাফু (১৯৯৪, ১৯৯৮, ২০০২ ও ২০০৬): ফুটবল ইতিহাসের একমাত্র তারকা হিসেবে টানা তিনটি বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলার অবিশ্বাস্য রেকর্ড এই রাইটব্যাকের। ২০০২ সালে তাঁর অধিনায়কত্বেই পঞ্চম নক্ষত্রটি জিতেছিল সেলেসাওরা।
রোনালদো নাজারিও (১৯৯৪, ১৯৯৮, ২০০২ ও ২০০৬): দ্য ফেনোমেনন খ্যাত এই স্ট্রাইকার ২০০২ বিশ্বকাপে এককভাবে ৮ গোল করে ব্রাজিলকে শিরোপা এনে দেন। ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনিই ছিলেন বিশ্বকাপের ইতিহাসে এককভাবে সর্বোচ্চ ১৫ গোলের মালিক।
বিশ্বকাপের মঞ্চে মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ফুটবলারদের এই অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতার তালিকায় এবার নতুন নাম নেইমার জুনিয়র। আনচেলত্তির কৌশলে এই অভিজ্ঞ তারকা কীভাবে নিজেকে মেলে ধরেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
আরও পড়ুন:
সান্তোসের ম্যাচে রেফারির অদ্ভুত ভুলে মাঠছাড়া নেইমার

