ব্রাজিল জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ইতালিয়ান মাস্টারমাইন্ড কার্লো আনচেলত্তিকে সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে, তা হলো—নেইমার জুনিয়র কি তাঁর বিশ্বকাপ পরিকল্পনায় আছেন? অবশেষে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে এই তারকা ফরোয়ার্ডকে নিয়েই বিশ্বকাপের মিশন শুরু করতে যাচ্ছে সেলেসাওরা। তবে চূড়ান্ত দল ঘোষণার ঠিক আগে এক হাইপ্রোফাইল ভিডিও কলের মাধ্যমেই ভাগ্য নির্ধারণ হয়েছে সান্তোস তারকার। ব্রাজিলিয়ান নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম ‘গ্লোবো’ প্রকাশ করেছে সেই নেপথ্য নাটকীয়তার খবর।
ভিডিও কলে আনচেলত্তির কড়া শর্ত
গ্লোবোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৪ মে ব্রাজিলের হেড কোচ কার্লো আনচেলত্তি এবং ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের (সিবিএফ) জাতীয় দল পরিচালক রদ্রিগো কায়েতানো ভিডিও কলে যুক্ত হন নেইমারের সঙ্গে। সেখানে ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের দলে ফেরার ব্যাপারে বেশ কিছু কঠোর শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়।
বিশেষ করে মাঠের বাইরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে নেইমারকে আরও সংযত ও দায়িত্বশীল হওয়ার স্পষ্ট পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আনচেলত্তি একদম সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আসন্ন বিশ্বকাপে সেলেসাওদের অধিনায়কত্ব পাচ্ছেন না নেইমার। এমনকি স্কোয়াডে থাকলেও শুরুর একাদশে তাঁর জায়গা নিশ্চিত নয়; পারফরম্যান্সের ভিত্তিতেই তা নির্ধারণ হবে। সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ কোচ আরও মনে করিয়ে দেন, তাঁর অধীনে ড্রেসিংরুমে নতুন কিছু কঠোর আচরণবিধি চালু হয়েছে, যা দলের সাবেক বা বর্তমান—সব ফুটবলারকেই সমানভাবে মেনে চলতে হবে।
আরও পড়ুন:
পেলে, রোনালদোদের অভিজাত রেকর্ডে নেইমার!
সব মেনে নিয়ে নেইমারের সবুজ সংকেত
কোচিং স্টাফের এমন কড়া অবস্থানকে অবশ্য ইতিবাচকভাবেই নিয়েছেন নেইমার। গ্লোবো জানিয়েছে, পুরো আলাপকালে বেশ হাস্যোজ্জ্বল ছিলেন তিনি এবং দলের স্বার্থে যেকোনো ভূমিকা পালনসহ নিজের সর্বোচ্চটা উজাড় করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
এদিকে দল ঘোষণার ঠিক আগের দিন সান্তোসের হয়ে খেলার সময় মাংসপেশির চোটে পড়েছিলেন নেইমার। তবে সিবিএফের মেডিকেল টিম পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে নিশ্চিত করে যে চোটটি গুরুতর নয়। শারীরিক ফিটনেসের এই সবুজ সংকেত পাওয়ার পরই মূলত নেইমারকে চূড়ান্ত ২৬ সদস্যের দলে অন্তর্ভুক্ত করেন আনচেলত্তি।
দল ঘোষণার পর ইতালিয়ান কোচকে ধন্যবাদ জানিয়ে বিশেষ বার্তাও পাঠিয়েছেন এই মহাতারকা।
ব্রাজিলের বিশ্বকাপ যাত্রার সূচি
আগামী ২৭ মে থেকে রিও ডি জেনিরোতে শুরু হচ্ছে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ক্যাম্প, যেখানে যোগ দেবেন স্কোয়াডের ২৬ ফুটবলার।
এরপর ৩১ মে ঐতিহাসিক মারাকানা স্টেডিয়ামে পানামার বিপক্ষে একটি বিদায়ী প্রীতি ম্যাচ খেলবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচ শেষ করে ১ জুন যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে উড়াল দেবে সেলেসাওরা।
মূল মঞ্চে নামার আগে আগামী ৬ জুন মিশরের বিপক্ষে নিজেদের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচটি খেলবে ব্রাজিল। এরপর ১৩ জুন নিউ জার্সিতে মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে তাদের বহু কাঙ্ক্ষিত ‘হেক্সা’ বা ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের মূল অভিযান।
আরও পড়ুন:
৩০ বছর পর ব্রাজিলের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে যে নজির দেখা গেল

