আসন্ন ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে লিসবনের শহরতলি ওইরাসের ‘সিদাদ দি ফুতবল’-এ অবস্থিত এফপিএফ সদর দপ্তরে চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করেছে পর্তুগাল। দলের প্রধান কোচ রবার্তো মার্তিনেসের ঘোষিত ২৭ সদস্যের এই বহরে স্বাভাবিকভাবেই রয়েছেন মহাতারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। আল নাসরের এই ফরোয়ার্ডের সামনে এবার ষষ্ঠবারের মতো ফুটবল বিশ্বকাপে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার এক অনন্য ইতিহাস হাতছানি দিচ্ছে। অভিজ্ঞতার পাশাপাশি নতুন ও তরুণ প্রজন্মের এক দারুণ ভারসাম্য রেখে মার্তিনেস এবারের দল সাজিয়েছেন।
স্কোয়াডের চমক ও বাদ পড়াদের তালিকা
ঘোষিত এই দলে সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন ফেনেরবাহচে ডিফেন্ডার নেলসন সেমেদো। দলে চারজন রাইটব্যাক থাকা সত্ত্বেও তাঁর ডাক পাওয়াটা কিছুটা নাটকীয়। এছাড়া স্প্যানিশ ক্লাব মায়োর্কার হয়ে দুর্দান্ত মৌসুম কাটানো মিডফিল্ডার সামুয়েল কস্তা এবং রিয়াল সোসিয়েদাদের গনসালো গেদেস সুযোগ পেয়েছেন মার্তিনেসের আস্থায়।
তবে কপাল পুড়েছে মেক্সিকান ক্লাব তোলুকায় দারুণ ফর্মে থাকা অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার পাউলিনহোর। চূড়ান্ত স্কোয়াড থেকে বাদ পড়ে বড় ধাক্কা খেয়েছেন মিডফিল্ডার জোয়াও পালিঙ্গা, পেদ্রো গনসালভেস, ডিফেন্ডার আন্তোনিও সিলভা এবং ফরোয়ার্ড রিকার্দো হোর্তার মতো চেনা মুখগুলো।
দল নির্বাচন নিয়ে কোচ মার্তিনেস বলেন, “যাদের আমরা বিশ্বকাপে নিতে চেয়েছিলাম, তাদের কয়েকজনকে বাদ দিতে হওয়ায় আজ আমাদের জন্য একটি দুঃখের দিন। তবে আমরা এবার ইতিহাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামছি। বিখ্যাত পর্তুগিজ সংগীতশিল্পী পেদ্রো আব্রুনহোসার সুর মিলিয়ে আমি বলতে চাই—চলুন, আমরা তা-ই করে দেখাই যা আগে কখনো করা হয়নি।”
আরও পড়ুন:
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সামনে ৩টি ‘উচ্চাভিলাষী’ চ্যালেঞ্জ
বিশ্বকাপের সূচি ও প্রস্তুতি ম্যাচের পরিকল্পনা
আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে মূল ভেন্যু যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় যাওয়ার আগে ঘরের মাঠে দুটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলবে সেলেসাওরা। আগামী ৬ জুন জামোর ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে চিলির বিপক্ষে এবং ১০ জুন লেইরিয়াতে নাইজেরিয়ার মুখোমুখি হবে পর্তুগাল।
এবারের মেগা ইভেন্টে গ্রুপ ‘কে’-তে খেলবে পর্তুগিজরা। আগামী ১৭ জুন হিউস্টনে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে রোনালদোদের বিশ্বকাপ অভিযান।
একই ভেন্যুতে ২৩ জুন উজবেকিস্তান এবং ২৭ জুন মিয়ামিতে কলম্বিয়ার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ খেলবে তারা।
পর্তুগালের ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড
গোলরক্ষক: দিওগো কস্তা (পোর্তো), রুই সিলভা (স্পোর্টিং সিপি), জোসে সা (উলভারহ্যাম্পটন ওয়ান্ডারার্স), রিকার্দো ভেলহো (গেনক্লেরবিরলিগি)।
রক্ষণভাগ: জোয়াও কানসেলো (বার্সেলোনা), দিওগো দালোত (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড), নেলসন সেমেদো (ফেনেরবাহচে), নুনো মেন্দেস (প্যারিস সেন্ট জার্মেই), ম্যাথিউস নুনেস (ম্যানচেস্টার সিটি), রুবেন দিয়াস (ম্যানচেস্টার সিটি), গনসালো ইনাসিও (স্পোর্টিং সিপি), রেনাতো ভেইগা (ভিয়ারিয়াল), টমাস আরাউজো (বেনফিকা)।
মাঝমাঠ: রুবেন নেভেস (আল হিলাল), জোয়াও নেভেস (প্যারিস সেন্ট জার্মেই), ভিতিনহা (প্যারিস সেন্ট জার্মেই), ব্রুনো ফার্নান্দেস (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড), বার্নার্দো সিলভা (ম্যানচেস্টার সিটি), সামুয়েল কস্তা (মায়োর্কা)।
আক্রমণভাগ: ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো (আল নাসর), গনসালো রামোস (প্যারিস সেন্ট জার্মেই), জোয়াও ফেলিক্স (আল নাসর), ফ্রান্সিসকো কনসেইসাও (ইউভেন্টাস), রাফায়েল লেয়াও (এসি মিলান), পেদ্রো নেতো (চেলসি), ফ্রান্সিসকো ত্রিনকাও (স্পোর্টিং সিপি), গনসালো গেদেস (রিয়াল সোসিয়েদাদ)।
আরও পড়ুন:
আবারও রোনালদোর কান্নাভেজা শূন্যতা!

