ফর্মের কারণে চরম সমালোচনা কিংবা অভিমান থেকে নেতৃত্ব ছাড়ার ঘোষণা—সব নাটকীয়তা পেরিয়ে নাজমুল হোসেন শান্তকে কেন বিসিবি কর্তারা বুঝিয়ে-সুঝিয়ে টেস্টের অধিনায়কত্বে ফিরিয়ে এনেছিলেন, তার প্রমাণ এখন হাতেনাতে মিলছে। মুখের কোনো ফাঁকা যুক্তি নয়, শান্তর হয়ে এখন কথা বলছে তাঁর অবিশ্বাস্য সব পরিসংখ্যান।
সিলেট টেস্টে পাকিস্তানকে ধবলধোলাই করার মধ্য দিয়ে মুশফিকুর রহিমকে টপকে এখন টেস্ট ইতিহাসে বাংলাদেশের সবচেয়ে সফলতম অধিনায়ক হিসেবে নিজের নাম লেখালেন নাজমুল হোসেন শান্ত।
অভিমান থেকে ইতিহাস গড়ার গল্প
২০২৪ সালে বাংলাদেশের তিন সংস্করণেরই অধিনায়কত্বের দায়িত্ব ছিল শান্তর কাঁধে। তবে টি-টোয়েন্টিতে রানখরায় ভোগায় গত বছরের (২০২৫) শুরুতে এই সংস্করণের নেতৃত্ব ছাড়েন তিনি। এরপর জুনে তাঁকে ওয়ানডের অধিনায়কত্ব থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়।
একের পর এক এমন ঘটনায় কিছুটা অভিমান থেকেই টেস্টের অধিনায়কত্বও ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন শান্ত।
আরও পড়ুন:
রেকর্ডের রাজসিক মুকুটে ‘অধিনায়ক’ শান্ত
তবে গত বছরের নভেম্বর মাসে আবারও টেস্টের অধিনায়কত্বে ফেরেন তিনি। জানা গিয়েছিল, শুরুতে শান্ত রাজি না থাকলেও বোর্ডের এক প্রভাবশালী পরিচালককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তাঁকে বুঝিয়ে রাজি করানোর জন্য। শেষ পর্যন্ত শান্তর সেই প্রত্যাবর্তন লাল-সবুজ ক্রিকেটের জন্য আশীর্বাদ হয়ে আসে। ফেরার পরই তাঁর নেতৃত্বে ঘরের মাঠে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজ ২–০ ব্যবধানে জেতে বাংলাদেশ।
আর এবার ঘরের মাঠে শক্তিশালী পাকিস্তানকেও একই ব্যবধানে ধবলধোলাইয়ের ঐতিহাসিক গৌরব এনে দিল শান্তর দল।
১৬ ম্যাচ কম খেলেই শীর্ষে শান্ত
অধিনায়ক হিসেবে আজ সিলেটের জয়টি ছিল টেস্ট ক্রিকেটে শান্তর অষ্টম জয়। আর এই জয়ের মাধ্যমেই তিনি ভেঙে দিয়েছেন সাবেক অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের দীর্ঘদিনের রেকর্ড।
২০১১ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে রেকর্ড ৩৪টি টেস্টে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিয়ে ৭টি ম্যাচে জয় পেয়েছিলেন মুশফিক।
সেখানে ২০২৩ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত অধিনায়ক হিসেবে মাত্র ১৮টি টেস্ট খেলে ৮টি জয় তুলে নিয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্ত।
বাংলাদেশ দলের আর কোনো অধিনায়ক সাদা পোশাকের ক্রিকেটে এত বেশি ম্যাচ জিততে পারেননি। অর্থাৎ, মুশফিকের চেয়ে ১৬টি ম্যাচ কম খেলেই দেশের সফলতম টেস্ট অধিনায়কের সিংহাসনে আরোহণ করলেন শান্ত। এই তালিকায় ১৯ ম্যাচে ৪ জয় নিয়ে তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছেন সাকিব আল হাসান।
আরও পড়ুন:
১৭ টেস্টে ৭: মুশফিককে ছাড়িয়ে অধিনায়ক শান্তর রেকর্ড

