ফুটবল বিশ্বের দুই মহাতারকা লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।ইন্টার মায়ামি তারাক লিওনেল মেসি ও আল নাসর তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।

বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে তারকা খেলোয়াড়দের বার্ষিক আয়ের অবিশ্বাস্য অঙ্ক আরও একবার প্রকাশ করল মার্কিন অর্থবিষয়ক সাময়িকী ‘ফোর্বস’। প্রকাশ পেয়েছে ২০২৬ সালে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি উপার্জনকারী শীর্ষ ৫০ অ্যাথলেটের পূর্ণাঙ্গ তালিকা (১ মে, ২০২৫ থেকে ১ মে, ২০২৬ পর্যন্ত হিসাবকৃত)। টানা চতুর্থবারের মতো এবং ক্যারিয়ারে মোট ষষ্ঠবার এই ধনকুবের তালিকার শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন ৪১ বছর বয়সী পর্তুগিজ ফুটবল মহানায়ক ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।

কর ও এজেন্ট ফি বাদ দেওয়ার আগে গত ১২ মাসে রোনালদোর মোট আয় দাঁড়িয়েছে রেকর্ড ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে।

ফোর্বসের ৩৬ বছরের ইতিহাসে ২০১৫ সালে বক্সার ফ্লয়েড মেওয়েদারের পর এটিই কোনো ক্রীড়াবিদের সর্বোচ্চ উপার্জনের রেকর্ড।

তবে এবার তালিকায় বড় চমক দিয়ে দ্বিতীয় স্থান দখল করেছেন মেক্সিকান বক্সিং কিংবদন্তি কানেলো আলভারেজ এবং ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসি আছেন তালিকার তিন নম্বর পজিশনে। শীর্ষ ১০ জনের প্রত্যেকেই এবার ন্যূনতম ১০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করেছেন, যা ক্রীড়া ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ও ধনী তালিকায় রূপ নিয়েছে।

মাঠ ও মাঠের বাইরের আয়ের খতিয়ান

এবারের শীর্ষ ১০ ক্রীড়াবিদ মাঠের পারফরম্যান্স (বেতন, বোনাস ও প্রাইজমানি) থেকে যৌথভাবে আয় করেছেন ৯০২ মিলিয়ন ডলার।
পাশাপাশি মাঠের বাইরে স্পনসরশিপ, বিজ্ঞাপন ও অন্যান্য ব্যবসায়িক খাত থেকে তাদের পকেটস্থ হয়েছে রেকর্ড ৫১৩ মিলিয়ন ডলার।

মাঠের বাইরের আয়ে সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন লস অ্যাঞ্জেলেস ডজার্সের জাপানি বেসবল তারকা শোহেই ওহতানি, যাঁর মোট ১২৭.৬ মিলিয়ন ডলার আয়ের মধ্যে ১২৫ মিলিয়ন ডলারই এসেছে মাঠের বাইরের লাভজনক চুক্তি থেকে।

এবারের তালিকায় গড় বয়স দাঁড়িয়েছে ৩৭ বছর, যা ফোর্বসের ইতিহাসে সবচেয়ে বয়স্ক শীর্ষ ১০-এর রেকর্ড।

আরও পড়ুন:
সৌদিতে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর অবিশ্বাস্য আয়, সেকেন্ডে হাজার….

ফোর্বস ২০২৬: বিশ্বের শীর্ষ ১০ সর্বোচ্চ উপার্জনকারী ক্রীড়াবিদ

১. ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো (ফুটবল, পর্তুগাল) — ৩০০ মিলিয়ন ডলার

মাঠে আয়: ২৩৫ মিলিয়ন ডলার| মাঠের বাইরে: ৬৫ মিলিয়ন ডলার।

৪১ বছর বয়সী আল নাসর ফরোয়ার্ডের আয় গত বছরের তুলনায় ২৫ মিলিয়ন ডলার বেড়েছে। মাঠের বাইরে বিনান্স, নাইকি ও পারপ্লেক্সিটির মতো ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপনের পাশাপাশি তিনি স্প্যানিশ ক্লাব আলমেরিয়ার ২৫ শতাংশ মালিকানা কিনেছেন।

২. কানেলো আলভারেজ (বক্সিং, মেক্সিকো) — ১৭০ মিলিয়ন ডলার

মাঠে আয়: ১৬০ মিলিয়ন ডলার। মাঠের বাইরে: ১০ মিলিয়ন ডলার।

৩৫ বছর বয়সী এই বক্সার গত বছর টেরেন্স ক্রফোর্ডের কাছে হারলেও নেটফ্লিক্সের ভিউয়ারশিপ ও সৌদি আরবের রিয়াদ সিজনের ব্লকবাস্টার ডিল থেকে ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ আয় পকেটে পুরেছেন।

৩. লিওনেল মেসি (ফুটবল, আর্জেন্টিনা) — ১৪০ মিলিয়ন ডলার

মাঠে আয়: ৭০ মিলিয়ন ডলার। মাঠের বাইরে: ৭০ মিলিয়ন ডলার।

ইন্টার মায়ামির ৩৮ বছর বয়সী মহাতারকা এমএলএস থেকে রেকর্ড ২৮.৩ মিলিয়ন ডলার গ্যারান্টিড বেতন পান। এছাড়া অ্যাপল টিভি, অ্যাডিডাস ও মাস্টারকার্ডের মতো ব্র্যান্ড থেকে মাঠের বাইরে সমান ৭০ মিলিয়ন ডলার আয় করেছেন তিনি।

৪. লেব্রন জেমস (বাস্কেটবল, যুক্তরাষ্ট্র) — ১৩৭.৮ মিলিয়ন ডলার

মাঠে আয়: ৫২.৮ মিলিয়ন ডলার। মাঠের বাইরে: ৮৫ মিলিয়ন ডলার।

লস অ্যাঞ্জেলেস লেকার্সের ৪১ বছর বয়সী কিংবদন্তি এনবিএ-তে নিজের ২৩তম মৌসুমে খেলছেন। আমাজনের সাথে তাঁর পডকাস্টের চুক্তি এবং লিভারপুল ও বোস্টন রেড সক্সের অংশীদারিত্ব থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আয় করেন তিনি।

৫. শোহেই ওহতানি (বেসবল, জাপান) — ১২৭.৬ মিলিয়ন ডলার

মাঠে আয়: ২.৬ মিলিয়ন ডলার। মাঠের বাইরে: ১২৫ মিলিয়ন ডলার।

৩১ বছর বয়সী এই ডজার্স তারকা তাঁর ৭০০ মিলিয়ন ডলারের চুক্তির বেশির ভাগ টাকা পরে নেবেন। তবে নিউ ব্যালেন্স, হুগো বস ও জাপানি ব্র্যান্ডগুলোর স্পনসরশিপ থেকে তিনি এখন বিশ্বের সবচেয়ে চাহিদাসম্পন্ন ক্রীড়াবিদ।

৬. স্টিফেন কারি (বাস্কেটবল, যুক্তরাষ্ট্র) — ১২৪.৭ মিলিয়ন ডলার

মাঠে আয়: ৫৯.৭ মিলিয়ন ডলার। মাঠের বাইরে: ৬৫ মিলিয়ন ডলার।

গোল্ডেন স্টেট ওয়ারিয়র্সের ৩৮ বছর বয়সী এই পয়েন্ট গার্ড এনবিএ ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে আগামী মৌসুমে ৬০ মিলিয়নের গণ্ডি পার করবেন। গত নভেম্বরে আন্ডার আর্মারের সাথে চুক্তি শেষ হলেও গুগল ও রাকুটেন তাঁর বড় শক্তির উৎস।

৭. জন রাম (গলফ, স্পেন) — ১০৭ মিলিয়ন ডলার

মাঠে আয়: ৯৭ মিলিয়ন ডলার। মাঠের বাইরে: ১০ মিলিয়ন ডলার।

সৌদি-অর্থায়নে পরিচালিত এলআইভি (LIV) গলফ ট্যুর থেকে বিপুল পরিমাণ সাইনিং মানি ও ১৮ মিলিয়ন ডলারের ব্যক্তিগত চ্যাম্পীবনশিপ বোনাস পেয়ে ৩১ বছর বয়সী এই স্প্যানিশ গলফার শীর্ষ দশে জায়গা করে নিয়েছেন।

৮. করিম বেনজেমা (ফুটবল, ফ্রান্স) — ১০৪ মিলিয়ন ডলার

মাঠে আয়: ১০০ মিলিয়ন ডলার। মাঠের বাইরে: ৪ মিলিয়ন ডলার।

৩৮ বছর বয়সী ফরাসি স্ট্রাইকার শীতকালীন দলবদলে আল ইত্তিহাদ থেকে আল হিলালে যোগ দিয়েও ৯ অঙ্কের বিশাল বেতন ধরে রেখেছেন। মাঠের বাইরে তিনি অ্যাডিডাস ও সৌদির সুগন্ধি ব্র্যান্ডের শুভেচ্ছাদূত।

৯. কেভিন ডুরান্ট (বাস্কেটবল, যুক্তরাষ্ট্র) — ১০৩.৮ মিলিয়ন ডলার

মাঠে আয়: ৫৪.৮ মিলিয়ন ডলার। মাঠের বাইরে: ৪৯ মিলিয়ন ডলার।

হিউস্টন রকেটসের ৩৭ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড প্রথম সক্রিয় বাস্কেটবল খেলোয়াড়দের একজন হিসেবে ক্যারিয়ারে ১ বিলিয়ন ডলার উপার্জনের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। মাঠের বাইরে সিরাভি ও ফ্যানডুয়েল তাঁর প্রধান স্পনসর।

১০. লুইস হ্যামিল্টন (অটো রেসিং/এফ১, যুক্তরাজ্য) — ১০০ মিলিয়ন ডলার

মাঠে আয়: ৭০ মিলিয়ন ডলার| মাঠের বাইরে: ৩০ মিলিয়ন ডলার।

মার্সিডিজ ছেড়ে ফেরারি দলে যোগ দেওয়ার প্রথম বছর ফর্মুলা ওয়ানে ষষ্ঠ হলেও ৪১ বছর বয়সী হ্যামিল্টনের আয় ছুঁয়েছে ১০০ মিলিয়ন। ডিওর, লুলুলেমন ও নিজের আলমাভে ড্রিংকস ব্র্যান্ড থেকে তাঁর এই বিশাল আয়।

আরও পড়ুন:
মেসির স্যালারি ২৮টি দলের পুরো স্কোয়াডের বেতনের চেয়েও বেশি!