বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বংশোদ্ভূত জার্মান তারকা থমাস ডুলির নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে বাফুফে (বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন)। তবে বাফুফের এই ঘোষণার ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই দেশের ফুটবল অঙ্গনে এক নতুন নাটকীয়তার জন্ম হয়েছে। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক আজ এক বিস্ফোরক মন্তব্যে জানিয়েছেন, থমাস ডুলি এখনো লাল-সবুজের ডেরায় ‘স্থায়ী’ কোনো কোচ নন; বরং আগামী মাসে সান মারিনোর বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচটি হতে যাচ্ছে তাঁর জন্য এক ধরনের ‘ট্রায়াল’ বা পরীক্ষা!
আগামী ৫ জুন সান মারিনোর মাটিতে স্বাগতিকদের বিপক্ষে একটি ফিফা টায়ার-১ আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ।
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর কথা অনুযায়ী, সেই ম্যাচে ডুলির পারফরম্যান্স এবং কৌশল মূল্যায়ন করার পরেই তাঁর সঙ্গে চুক্তির বিষয়টি চূড়ান্ত করবে সরকার ও ফেডারেশন।
কোলম্যান ও ডুলি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী
আজ শনিবার (২৩ মে) রাজধানীর সিটি ক্লাব মাঠে ‘ওয়ার্ল্ড ফুটবল ডে’ উপলক্ষে আয়োজিত এক গ্রাসরুট ফুটবল ফেস্টিভ্যালে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক তারকা ফুটবলার ও বর্তমান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। সেখানে বাফুফের এই নতুন কোচ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন. “সান মারিনোর সঙ্গে যে ম্যাচটি হবে, সেটিকে আমরা একটি টেস্ট বা পরীক্ষা হিসেবেই দেখতে চাই। এই বিষয়ে ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতির সঙ্গে কথা হয়েছিল। আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার (ফার্স্ট চয়েস) ছিলেন কোলম্যান। কিন্তু এজেন্টের সঙ্গে কিছু জটিলতা তৈরি হওয়ায় সেটি সম্ভব হয়নি।”
“পরে আমাদের দ্বিতীয় ও তৃতীয় পছন্দের তালিকায় যেসব কোচ ছিলেন, তাদের সঙ্গে আলোচনা করে থমাস ডুলিকে বেছে নেওয়া হয়েছে।”
আরও পড়ুন:
বাংলাদেশের নতুন কোচ কে এই থমাস ডুলি?
আমিনুল হক আরও পরিষ্কার করে জানান, আগামী দুই বছরে বাংলাদেশের প্রায় ১৬টির মতো ম্যাচ রয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিশন হলো সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ। তাই দীর্ঘমেয়াদি দায়িত্ব দেওয়ার আগে এই কোচের যোগ্যতা পরখ করে দেখা জরুরি।
তিনি বলেন, “সামনের খেলাটা দেখার পর ফাইনালি গিয়ে হয়তোবা বাফুফে তাঁর সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করবে।”
বাফুফের সঙ্গে কি তবে চুক্তি হয়নি?
গণমাধ্যমকর্মীদের এমন প্রশ্নের জবাবে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমি বাফুফে সভাপতিকে স্পষ্ট বলেছি, সান মারিনো ম্যাচটি আমরা ট্রায়াল হিসেবে দেখব। সেটি দেখার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কোলম্যানের ক্ষেত্রে বাফুফে আমার কাছে যে সহযোগিতা চেয়েছিল, আমি রাজি হয়েছিলাম। কিন্তু থমাস ডুলির বিষয়ে বাফুফে আমার কাছে কোনো ধরনের সাহায্য বা সহযোগিতা চায়নি।”
সমন্বয়হীনতার গুঞ্জন উড়িয়ে দিলেন মন্ত্রী
মন্ত্রণালয় এবং বাফুফের মধ্যে কোনো দূরত্ব তৈরি হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে সাবেক এই জাতীয় গোলরক্ষক বেশ কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমি নিজে একজন ফুটবলার ছিলাম, তাই ফুটবলটা অনেক ভালো বুঝি। এখানে অনেকের কথাই শুনি, যাদের ফুটবল সম্পর্কে খুব বেশি ধারণা আছে বলে আমার মনে হয় না। বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে যেহেতু নতুন কোচকে আমরা পরীক্ষামূলকভাবে দেখছি, তাই চলুন তাকে যাচাই করি।”
একই সঙ্গে বাফুফে সভাপতিকে ডুলির চেয়েও আরও উন্নত মানের কোচ খোঁজার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান আমিনুল হক।
তিনি বলেন, “আমরা যদি ভবিষ্যতে এর চেয়েও বেটার কাউকে পাই, তবে তাকে দ্রুত সময়ের মধ্যে আনা যায় কি না, সেই চেষ্টা থাকবে। তবে স্পোর্টস মিনিস্ট্রির সঙ্গে বাফুফের কোনো গ্যাপ বা দূরত্ব নেই। একটি মহল হয়তো বা বিভেদ তৈরি করার চেষ্টা করছে। তবে যেটাই হচ্ছে, তা আমাদের সঙ্গে আলোচনা করেই হচ্ছে।”

