Arjun Tendulkar celebrating a wicket for Lucknow Super Giants in an IPL 2026 match.উইকেট পেয়ে অর্জুনের উদযাপন। ছবি: আইপিএল

কিংবদন্তি বাবা শচীন টেন্ডুলকারের আকাশচুম্বী খ্যাতির ছায়ায় ঢাকা পড়ে থাকা অর্জুন টেন্ডুলকারের ক্রিকেট ক্যারিয়ারের পথচলাটা মোটেও সহজ নয়। প্রতি ম্যাচেই নামের পাশে যুক্ত হয় বাবার সঙ্গে তুলনার এক অদৃশ্য চাপ। জাতীয় দল তো বহুদূর, কোটি টাকার ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ আইপিএলেও নিয়মিত সুযোগ মেলে না একাদশে। তবে দীর্ঘ প্রায় দুই মাস বেঞ্চে বসে থাকার পর গতকাল শনিবার রাতে একানা স্টেডিয়ামে লক্ষ্ণৌ সুপার জায়ান্টসের হয়ে চলতি মৌসুমের প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেছিলেন এই বাঁহাতি পেসার। পাঞ্জাব কিংসের বিপক্ষে সেই ম্যাচে চাপের মুখে অর্জুন যেভাবে নিজের ক্রিকেটীয় বুদ্ধিমত্তা ও মানসিক দৃঢ়তা দেখিয়েছেন, তা গভীরভাবে ছুঁয়ে গেছে ভারতের সাবেক তারকা স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিনকে।

নিজের অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় অশ্বিন স্বীকার করেন, শচীন-পুত্র হওয়ার কারণে অর্জুনের লড়াইটা সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং অনেক বেশি কঠিন। পাঞ্জাবের বিপক্ষে ৪ ওভারে ৩৬ রান দিয়ে ১ উইকেট নেওয়া অর্জুনের বোলিং পরিসংখ্যান হয়তো খুব বেশি আকর্ষণীয় নয়, তবে তাঁর কঠোর পরিশ্রম ও মাঠের লড়াকু মানসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন অশ্বিন।

“বাউন্ডারি খেয়েও কড়া চোখে তাকায় অর্জুন”

ম্যাচে অর্জুনের আগ্রাসী মনোভাব ও ঘুরে দাঁড়ানোর মানসিকতা দেখে মুগ্ধ অশ্বিন তাঁর ইউটিউব এ নিয়ে কথা বলেছেন।

তিনি বলেন, “আমি অর্জুনের স্কিল বা বোলিং দক্ষতা নিয়ে কথা বলব না, কারণ বাবার সঙ্গে প্রতিনিয়ত তুলনার কারণে ওর লড়াইয়ের গল্পটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। তবে আমি ওর দুটি বিশেষ গুণের কথা অবশ্যই বলব। অর্জুন প্রচণ্ড কঠোর পরিশ্রমী এবং মাঠের লড়াই থেকে ও কখনো এক চুলও পিছিয়ে যায় না। বাউন্ডারি খাওয়ার পরও সে দমে না গিয়ে ব্যাটারের দিকে কড়া চোখে তাকায় এবং আরও আগ্রাসীভাবে কামব্যাক করে। এই কৃতিত্ব অর্জুনকে দিতেই হবে।”

পান্তের ক্যাচ মিস ও অর্জুনের রিভার্স সুইং ইয়র্কার

পাঞ্জাব কিংসের ওপেনার প্রভসিমরন সিংয়ের দুর্বলতা বুঝে তাঁর শরীর লক্ষ্য করে বডিলাইন বোলিং করার যে পরিকল্পনা অর্জুন সাজিয়েছিলেন, সেটির নিখুঁত এক্সিকিউশনের প্রশংসা করেন অশ্বিন। নিজের প্রথম ওভারেই এক দুর্দান্ত বাউন্সারে প্রভসিমরনের ব্যাটের ওপরের কানায় বল লাগিয়েছিলেন অর্জুন, কিন্তু লক্ষ্ণৌ অধিনায়ক তথা উইকেটকিপার রিশাভ পান্ত সেই সহজ ক্যাচটি লুফে নিতে মিস করেন।

পরের ওভারে শ্রেয়াসের কাউন্টার অ্যাটাকে চার-ছক্কা খেলেও লাইন-লেন্থ হারাননি অর্জুন।

নিজের তৃতীয় ওভারে টানা দুটি চার খাওয়ার পর অবশেষে কাঙ্ক্ষিত সাফল্যের দেখা পান এই বাঁহাতি। দারুণ এক রিভার্স সুইং ইয়র্কারে তিনি এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন সেট ব্যাটার প্রভসিমরনকে। অর্জুনের এই বোলিং বুদ্ধিমত্তা নিয়ে অশ্বিন বলেন, “অর্জুনের ওই ইয়র্কারটি আসলেই চমৎকারভাবে রিভার্স সুইং করেছিল। আমি নেটে ওর প্রচুর ইয়র্কার অনুশীলনের ভিডিও দেখেছি। তবে মরশুমের প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমে যেভাবে সে বডিলাইন বাউন্সার ও ইয়র্কার এক্সিকিউট করেছে, যেকোনো বোলারের জন্য তা সত্যিই প্রশংসনীয়।”

অবশ্য অর্জুনের এই লড়াকু বোলিংয়ের রাতেও জয়ের মুখ দেখেনি লক্ষ্ণৌ সুপার জায়ান্টস। পাঞ্জাবের বিপক্ষে হেরে ১০ম পরাজয় নিয়ে টেবিলের একেবারে তলানিতে থেকেই ২০২৬ আইপিএল আসর শেষ করতে হলো রিশাভ পান্তের দলকে।