সমাপ্তি ঘটল ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ২০২৫-২৬ মৌসুমের। লিগের শেষ দিনে বড় কোনো নাটকীয়তা বা টেবিল ওলট-পালট না হলেও, চূড়ান্ত পজিশন নিশ্চিত হতেই ক্লাবগুলোর প্রাইজমানির অংক সামনে এসেছে। ২২ বছরের দীর্ঘ খরা কাটিয়ে আগেই শিরোপা নিশ্চিত করা গানার্সরা আর্থিক দিক থেকেও সবচেয়ে বড় পুরস্কার ঘরে তুলেছে। নিয়ম অনুযায়ী, লিগ টেবিলের চূড়ান্ত অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে প্রিমিয়ার লিগের ‘মেরিট প্রাইজমানি’ বা প্রাইজমানির এই অর্থ ২০টি ক্লাবের মধ্যে বণ্টন করা হয়েছে।
এবারের আসরে প্রাইজমানির সবচেয়ে বড় অংশটি পেয়েছে চ্যাম্পিয়ন আর্সেনাল। তারা সর্বোচ্চ ৫ কোটি ৪০ লাখ পাউন্ড (৫৪ মিলিয়ন) প্রাইজমানি পকেটে পুরেছে।
অন্যদিকে, টেবিলের তলানিতে থেকে মাত্র ২৭ লাখ পাউন্ড নিয়ে চরম আর্থিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে উলভারহ্যাম্পটন ওয়ানডারার্স।
শেষের ট্র্যাজেডি: কান্না ভেজা ওয়েস্ট হ্যাম
লিগের শেষ দিনে একমাত্র রোমাঞ্চ বাকি ছিল রেলিগেশন বা অবনমন অঞ্চলে। উলভস ও বার্নলি আগেই চ্যাম্পিয়নশিপে (দ্বিতীয় স্তর) নেমে যাওয়া নিশ্চিত করেছিল। টেবিলের ১৮ নম্বরে থাকা ওয়েস্ট হ্যাম ইউনাইটেডের সামনে সমীকরণ ছিল—নিজেদের ম্যাচে জিততে হবে এবং এভারটনের বিপক্ষে ঘরের মাঠে টটেনহ্যাম হটস্পারের হারের জন্য প্রার্থনা করতে হবে।
লন্ডন স্টেডিয়ামে লিডস ইউনাইটেডকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে নিজেদের কাজটা ঠিকই করেছিল হ্যামার্সরা। তবে হোয়াও পালহিনহার একমাত্র গোলে এভারটনকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে প্রিমিয়ার লিগে টিকে যায় টটেনহ্যাম। আর তাতেই নিশ্চিত হয় ওয়েস্ট হ্যামের রেলিগেশন। মাত্র তিন বছর আগে ইউরোপা কনফারেন্স লিগ জেতা দলটির জন্য এই বিদায় ছিল অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক। টেবিলের ১৭ নম্বরে থেকে কোনোমতে টিকে যাওয়া স্পার্সরা প্রাইজমানি পেয়েছে ১ কোটি ৮ লাখ পাউন্ড।
আর অবনমন হওয়া ওয়েস্ট হ্যাম ও বার্নলি পেয়েছে যথাক্রমে ৮১ লাখ ও ৫৪ লাখ পাউন্ড।
টেবিলের তলানির ৫ দলের প্রাইজমানি (২০ থেকে ১৬ নম্বর):
| অবস্থান | ক্লাব | প্রাইজমানির পরিমাণ (পাউন্ড) |
| ২০তম | উলভারহ্যাম্পটন ওয়ানডারার্স | ২.৭ মিলিয়ন |
| ১৯তম | বার্নলি | ৫.৪ মিলিয়ন |
| ১৮তম | ওয়েস্ট হ্যাম ইউনাইটেড | ৮.১ মিলিয়ন |
| ১৭তম | টটেনহ্যাম হটস্পার | ১০.৮ মিলিয়ন |
| ১৬তম | নটিংহ্যাম ফরেস্ট | ১৩.৫ মিলিয়ন |
আরও পড়ুন:
১৩ মিনিটের ঝড়েই কী প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা হাতছাড়া হল ম্যান সিটির?
মধ্যম সারির লড়াই ও নিউক্যাসলের হতাশা
টেবিলের ১৫ নম্বরে থেকে লিগ শেষ করা ক্রিস্টাল প্যালেস পেয়েছে ১ কোটি ৬২ লাখ পাউন্ড। লিগে পারফরম্যান্স মাঝারি মানের হলেও ওলিভার গ্লাজনারের বিদায়ী ম্যাচ হিসেবে সামনে তাদের ইউরোপা কনফারেন্স লিগের ফাইনাল রয়েছে। অবনমন থেকে ফেরা লিডস ইউনাইটেড ১৪তম হয়ে ১ কোটি ৮৯ লাখ পাউন্ড এবং নতুন স্টেডিয়ামে প্রথম মৌসুম কাটানো এভারটন ১৩তম হয়ে ২ কোটি১৬ লাখ পাউন্ড পেয়েছে।
বিপুল বিনিয়োগের পরও ১২ নম্বরে লিগ শেষ করা নিউক্যাসেল ইউনাইটেডের প্রাইজমানি ২ কোটি ৪৩ লাখ পাউন্ড। এই ব্যর্থতার পর কোচ এডি হাউয়ের চাকরি এখন সুতোয় ঝুলছে। ১১ নম্বরে থাকা ফুলহ্যাম পেয়েছে ২ কোটি ৭০ লাখ পাউন্ড।
টেবিলের মধ্যম সারির ৫ দলের প্রাইজমানি (১৫ থেকে ১১ নম্বর):
| অবস্থান | ক্লাব | প্রাইজমানির পরিমাণ (পাউন্ড) |
| ১৫তম | ক্রিস্টাল প্যালেস | ১৬.২ মিলিয়ন |
| ১৪তম | লিডস ইউনাইটেড | ১৮.৯ মিলিয়ন |
| ১৩তম | এভারটন | ২১.৬ মিলিয়ন |
| ১২তম | নিউক্যাসল ইউনাইটেড | ২৪.৩ মিলিয়ন |
| ১১তম | ফুলহ্যাম | ২৭.০ মিলিয়ন |
চেলসির ভরাডুবি ও বোর্নমাউথের চমক
বর্তমান ক্লাব বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন চেলসির জন্য এই মৌসুমটি ছিল চরম হতাশার। টেবিলের ১০ নম্বরে থেকে তারা পেয়েছে ২ কোটি ৯৭ লাখ পাউন্ড। ট্রান্সফার উইন্ডোতে কোটি কোটি টাকা ওড়ানোর পরও আগামী মৌসুমে ইউরোপীয় ফুটবলে দেখা যাবে না ব্লুজদের। গ্রীষ্মে দলটির দায়িত্ব নিতে যাওয়া জাবি আলোনসোকে এখন কম বাজেট নিয়ে দল গোছাতে হবে।
৯ম স্থানে থেকে ব্রেন্টফোর্ড ৩ কোটি ২৪ লাখ পাউন্ড এবং ৮ম স্থানে থেকে ব্রাইটন ৩ কোটি ৫১ লাখ পাউন্ড আয় করেছে।
দীর্ঘ বছর পর প্রিমিয়ার লিগে ফিরেই সবাইকে চমকে দিয়ে ৭ম স্থানে লিগ শেষ করেছে সান্ডারল্যান্ড, তাদের আয় ৩ কোটি ৭৮ লাখ পাউন্ড। এদিকে আন্ডারডগ বোর্নমাউথ ৬ষ্ঠ স্থানে থেকে ৪ কোটি ৫ লাখ পাউন্ড ঘরে তুলেছে, যা তাদের ইতিহাসে প্রথমবার ইউরোপীয় আসরে খেলার টিকিট এনে দিয়েছে। দলটির নতুন দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন মার্কো রোজ।
টেবিলের ১০ থেকে ৬ নম্বরে থাকা দলের প্রাইজমানি:
| অবস্থান | ক্লাব | প্রাইজমানির পরিমাণ (পাউন্ড) |
| ১০ম | চেলসি | ২৯.৭ মিলিয়ন |
| ৯ম | ব্রেন্টফোর্ড | ৩২.৪ মিলিয়ন |
| ৮ম | ব্রাইটন অ্যান্ড হোভ অ্যালবিওন | ৩৫.১ মিলিয়ন |
| ৭ম | সান্ডারল্যান্ড | ৩৭.৮ মিলিয়ন |
| ৬ষ্ঠ | বোর্নমাউথ | ৪০.৫ মিলিয়ন |
শীর্ষ পাঁচের দাপট ও আর্সেনালের ডাবল ট্রফি মিশন
রেকর্ডধারী মোহাম্মদ সালাহর বিদায়ী মৌসুমে লিভারপুল ৫ম স্থানে শেষ করে পেয়েছে ৪ কোটি ৩২ লাখ পাউন্ড।
ইউরোপা লিগ জয়ী অ্যাস্টন ভিলা ৪র্থ স্থানে থেকে ৪ কোটি ৫৯ লাখ পাউন্ড আয় করে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ নিশ্চিত করেছে।
অন্যদিকে, রুবেন আমোরিমের বিদায়ের পর মাইকেল ক্যারিকের অধীনে অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৩য় স্থান অর্জন করেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড (৪ কোটি ৮৬ লাখ পাউন্ড)। শেষ দিনে লিগের সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টের রেকর্ড গড়ে ‘প্লেয়ার অব দ্য সিজন’ হয়েছেন ইউনাইটেডের ব্রুনো ফার্নান্দেস।
এফএ কাপ ও লিগ কাপের ডাবল জিতলেও পেপ গার্দিওলাকে লিগ শিরোপা দিয়ে বিদায় জানাতে পারেনি ম্যানচেস্টার সিটি। রানার্সআপ হয়ে তারা পেয়েছে ৫ কোটি ১৩ লাখ পাউন্ড। আর চ্যাম্পিয়ন আর্সেনাল ৫ কোটি ৪০ লাখ পাউন্ডের আর্থিক পুরস্কারের পাশাপাশি এক সপ্তাহ পরেই পিএসজির বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মেগা ফাইনালে মাঠে নামবে, যা তাদের আয় আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
শীর্ষ ৫ দলের চূড়ান্ত প্রাইজমানি (৫ থেকে ১ নম্বর):
| অবস্থান | ক্লাব | প্রাইজমানির পরিমাণ (পাউন্ড) |
| ৫ম | লিভারপুল | ৪৩.২ মিলিয়ন |
| ৪র্থ | অ্যাস্টন ভিলা | ৪৫.৯ মিলিয়ন |
| ৩য় | ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড | ৪৮.৬ মিলিয়ন |
| ২য় | ম্যানচেস্টার সিটি | ৫১.৩ মিলিয়ন |
| ১ম | আর্সেনাল | ৫৪.০ মিলিয়ন |
আরও পড়ুন:
২০ বছর পর যেভাবে ‘রাজকীয়ভাবে’ ইউরোপ জয়ের পথে আর্সেনাল

