Fulham U-21 winger Farhan Ali Wahid,ফুলহামের উইঙ্গার ফারহান আলী ওয়াহিদ। ছবি: ফুলহাম এফসি

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের খেলোয়াড় হামজা চৌধুরীকে ঘিরে দেশের ফুটবলে যে নতুন জোয়ার এসেছে, সেই ধারায় এবার যুক্ত হতে যাচ্ছে আরও এক বড় জোড়া চমক। এবার লাল-সবুজ জার্সিতে খেলার স্বপ্ন ডানা মেলছে ইংল্যান্ডের মাটিতে বেড়ে ওঠা আরও দুই প্রবাসী ফুটবলারের। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব ফুলহামের অনূর্ধ্ব-২১ দলে খেলা উইঙ্গার ফারহান আলী ওয়াহিদ ও তাঁর ছোট ভাই ওকিং এফসির অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার রায়ান আলী ওয়াহিদ বাংলাদেশের হয়ে খেলার চূড়ান্ত সম্মতি দিয়েছেন। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সহসভাপতি ফাহাদ করিম সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিও বিবৃতিতে এই ওয়াহিদ সহোদরকে জাতীয় দলে যুক্ত করার অফিশিয়াল প্রক্রিয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন।

বাফুফের সভাপতি তাবিথ আউয়ালের নেতৃত্বাধীন কমিটির অন্যতম প্রধান এজেন্ডাই হলো বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা প্রতিভাবান প্রবাসী ফুটবলারদের জাতীয় দলে যুক্ত করা।

সুলিভান ভাইদের পর এবার ওয়াহিদ সহোদরকে জাতীয় দলে ভেড়ানোর এই বিশেষ প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিক শুরুটা হয়েছিল গত এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে। কানাডায় অনুষ্ঠিত ফিফা ও এএফসি কংগ্রেস চলাকালীনই ফারহানের এজেন্ট অ্যাডামের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রাথমিক আলোচনা সারেন ফাহাদ করিম।

পরবর্তীতে দেশে ফিরে খেলোয়াড়দের বাবা আব্দুল ওয়াহিদ ও পরিবারের সঙ্গে বাফুফে কর্তারা প্রায় ৪৫ মিনিটের একটি বিস্তারিত জুম মিটিং করেন।

সেই বৈঠকেই অভিভাবকের পক্ষ থেকে দুই সন্তানকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে খেলার ব্যাপারে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়।

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ মাতানো ফারহানের আগমনী বার্তা

দুই ভাইয়ের মধ্যে বড় ভাই ১৮ বছর বয়সী ফারহান আলী ওয়াহিদকে নিয়ে দেশের ফুটবল মহলে ইতিমধ্যেই ব্যাপক হাইপ ও আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

চেলসি যুব একাডেমি থেকে মাত্র ১২ বছর বয়সে বিখ্যাত ক্লাব ফুলহামে যোগ দেওয়া ফারহান বর্তমানে খেলছেন ক্লাবটির অনূর্ধ্ব-২১ দলের হয়ে প্রিমিয়ার লিগ টু-তে। গত নভেম্বরে তিনি এই মর্যাদাপূর্ণ লিগের ‘মাসের সেরা খেলোয়াড়’ নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং মৌসুমের সেরা খেলোয়াড়ের মনোনয়নের দৌড়েও বেশ ভালোভাবে আছেন।

গত মৌসুমে অনূর্ধ্ব-১৮ দলের হয়ে ২০ ম্যাচে ৭টি গোল করার পাশাপাশি ৪টি অ্যাসিস্ট করেছিলেন এই তরুণ।

আরও পড়ুন:
বাংলাদেশের পাইপলাইনে আরও ৬ প্রবাসী ফুটবলার!

অসাধারণ গতি, প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারকে ড্রিবলিংয়ে কাটিয়ে যাওয়ার নিখুঁত দক্ষতা এবং গোল করা ও করানোর অসামান্য ক্ষমতা রয়েছে ফারহানের। তাঁকে প্রিমিয়ার লিগের ভবিষ্যৎ তারকা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং গত বছরই তিনি ফুলহামের সঙ্গে প্রথম পেশাদার চুক্তি সম্পন্ন করেন।

ফারহানের অসামান্য প্রতিভা নিয়ে বাফুফে সহসভাপতি ফাহাদ করিম বলেন, “ফারহানকে ইনশা আল্লাহ খুব শিগগিরই আমরা মূল ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগেও খেলতে দেখতে পারি। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এই সংযোজন বাংলাদেশ ফুটবলে একটা বড় মাইলফলক (ল্যান্ডমার্ক) হবে এবং ছোট ভাই রায়ানও সেই ধারা ধরে রাখবে।”

লক্ষ্য সেপ্টেম্বর উইন্ডো ও নভেম্বরের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ

বাফুফের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা অনুযায়ী, সব ঠিক থাকলে আগামী সেপ্টেম্বর উইন্ডোর আন্তর্জাতিক ম্যাচ এবং ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আসন্ন নভেম্বরের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের স্কোয়াডেই ফারহানকে লাল-সবুজ জার্সিতে খেলানোর মূল লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সাফের এই বিশেষ পরিকল্পনা নিয়ে ফাহাদ করিম জানান, “সেপ্টেম্বর উইন্ডোতে আমরা বাংলাদেশে যে টুর্নামেন্ট করার চিন্তা করছি বা বাইরে খেলতে যাব, সেখানে অবশ্যই আমরা ফারহানকে স্বাগতম জানানোর জন্য মুখিয়ে আছি। তবে সবচেয়ে বড় কথা, নভেম্বরের যে সাফ হবে, সেখানে অবশ্যই আমরা তাকে বাংলাদেশের মূল স্কোয়াডে পেতে চাই।”

বয়সভিত্তিক দলের সম্পদ ছোট ভাই রায়ান

ওয়াহিদ পরিবারের ছোট ছেলে রায়ান আলী ওয়াহিদ বর্তমানে খেলছেন ওকিং এফসিতে। এর আগে ইংল্যান্ডের গ্রাসরুট লিগে অ্যাশফোর্ড এফসিকে চ্যাম্পিয়ন করার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন এই তরুণ অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার।

প্রতিভাবান রায়ানকে দেশের বয়সভিত্তিক দলের জন্য এক বড় সম্পদ মনে করছেন বাফুফে কর্মকর্তা ফাহাদ করিম।

তিনি বলেন, “রায়ান এখন ওকিং এফসিতে খেলছে। ও খুবই ইয়াং, রাইট ফুটেড এবং মূলত অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার বা উইঙ্গার হিসেবে খেলে। সে আমাদের অনূর্ধ্ব-১৭ কিংবা অনূর্ধ্ব-২০ যুব দলের জন্য দারুণ এক সংযোজন হতে পারে।”

বাফুফে সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন ঈদের ছুটির পরপরই এই দুই ভাইয়ের বাংলাদেশি পাসপোর্ট তৈরির মূল কাজ পূর্ণগতিতে শুরু হবে।

বাফুফে সহসভাপতি আশা প্রকাশ করে বলেছেন, আগামী জুলাই মাসের মধ্যেই তাদের উভয়ের পাসপোর্ট সংক্রান্ত সব ধরনের আইনি কাগজ ও নথিপত্র সম্পূর্ণ তৈরি হয়ে যাবে। এর ফলে বছরের শেষভাগেই বাংলাদেশের জার্সিতে দেখা মিলবে এই দুই ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ ঘরানার প্রতিভার।

আরও পড়ুন:
ফুটবলে হইচই: স্ট্যানফোর্ড থেকে বাংলাদেশে! কে এই ট্রেভর?