Anthony Gordon celebrating a goal for Newcastle United in the Premier League.নিউক্যাসলের জার্সিতে গর্ডনের গোল উদযাপন। ছবি: গিভমিস্পোর্ট

টানা দ্বিতীয় গ্রীষ্মকালীন দলবদলে এসেও নিউক্যাসল এখন বড় রকমের অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। দলের সেরা তারকাদের ধরে রাখাই এখন তাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সান্দ্রো তোনালিকে নিয়ে যখন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড টানাহেঁচড়া করছে, ঠিক তখনই ইউরোপের একাধিক পরাশক্তি ক্লাবের নজরে পড়েছেন অ্যান্থনি গর্ডন। বিশেষ করে বায়ার্ন মিউনিখ এবং লিভারপুল এই ইংলিশ উইঙ্গারকে দলে নিতে ভীষণ আগ্রহী ছিল। নিউক্যাসল গর্ডনের দাম হাঁকিয়েছে ৭৫ মিলিয়ন পাউন্ড। কিন্তু এরই মধ্যে দলবদলের বাজারে নতুন এক নাটকীয় মোড় এসেছে। বায়ার্ন বা লিভারপুল নয়, স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনার সঙ্গেই ব্যক্তিগত শর্তাবলী চূড়ান্ত করে ফেলেছেন ২৪ বছর বয়সী এই তারকা।

সদ্য সমাপ্ত মৌসুমটি নিউক্যাসল ইউনাইটেডের জন্য ছিল একেবারেই ভুলে যাওয়ার মতো।

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের পয়েন্ট টেবিলের নিচের অর্ধে থেকে মৌসুম শেষ করায় আগামী মৌসুমে কোনো ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় খেলার টিকিট পায়নি ক্লাবটি। অথচ এর আগের ২০২৪-২৫ মৌসুমেই কারাবাও কাপের শিরোপা জয় এবং চ্যাম্পিয়নস লিগে জায়গা করে নিয়েছিল তারা।

সেই তুলনায় গত ১০ মাস ধরে মাঠে কেবল ধারাবাহিকতাহীন এবং ছন্নছাড়া ফুটবলই উপহার দিয়েছে ম্যাগপাইরা।

গর্ডনের বার্সা যাওয়ার বার্তা

বিখ্যাত দলবদল বিশেষজ্ঞ সাংবাদিক ফ্যাব্রিজিও রোমানো তাঁর ইউটিউব চ্যানেলে নিশ্চিত করেছেন যে, চলতি গ্রীষ্মেই সেন্ট জেমস পার্ক ছাড়ছেন গর্ডন।

রোমানো বলেন, “আমি নিশ্চিত গর্ডন নিউক্যাসল ছাড়ছেন এবং তাঁকে নিয়ে দলবদলের বাজারে বড় নড়াচড়া শুরু হয়ে গেছে। একটি তথ্য আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, বার্সেলোনা বোর্ড অ্যান্থনি গর্ডনের খেলার বড্ড বড় ভক্ত।”

পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে রোমানো চূড়ান্ত আপডেট দিয়ে জানান, বার্সেলোনার দেওয়া ব্যক্তিগত চুক্তির শর্তে সম্পূর্ণ সম্মতি জানিয়েছেন গর্ডন। দুই পক্ষের মধ্যে শতভাগ সমঝোতা হয়ে গেছে। এখন বার্সা সরাসরি নিউক্যাসলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা চালাচ্ছে যাতে ক্লাব-টু-ক্লাব চুক্তিটি দ্রুত সম্পন্ন করা যায়।

প্রিমিয়ার লিগের অন্য ক্লাব এবং বায়ার্ন মিউনিখ পর্দার আড়ালে সক্রিয় হওয়ার আগেই বার্সেলোনা এই চুক্তিটি দ্রুত ঘরের মাঠে তুলতে চায়।

বার্সায় গর্ডনের মূল চ্যালেঞ্জ এবং লিভারপুল সমীকরণ

২০২৩ সালের জানুয়ারিতে ৪৫ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে নিউক্যাসলে যোগ দিয়েছিলেন গর্ডন। চলতি মৌসুমে ৪৬ ম্যাচে ১৭টি গোল করার পাশাপাশি চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে নিউক্যাসলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতাও বনে যান এই ইংলিশ ফরোয়ার্ড। তবে গর্ডন নিজে বার্সেলোনায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও স্পেনের এই ক্লাবে তাঁর মূল পজিশনে খেলাটা সহজ হবে না। নিজের প্রিয় রাইট উইং পজিশনে খেলতে হলে তাঁকে টপকাতে হবে বার্সার বিস্ময় বালক লামিন ইয়ামালকে। অন্যদিকে বায়ার্ন মিউনিখে গেলে লড়াই করতে হতো মাইকেল ওলিসের সঙ্গে।

ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, গর্ডনের জন্য এই মুহূর্তে লিভারপুলে যাওয়াটা সবচেয়ে সহজ ও মোক্ষম সুযোগ ছিল।

অ্যানফিল্ডে দীর্ঘ ৯ বছর কাটানোর পর দলের মূল তারকা মোহাম্মদ সালাহ ক্লাব ছেড়ে দেওয়ায় অলরেডসদের রাইট উইং পজিশনটি এখন সম্পূর্ণ ফাঁকা। তা ছাড়া নিউক্যাসলে গর্ডনের সাবেক সতীর্থ আলেকজান্ডার ইসাকও বর্তমানে খেলছেন লিভারপুলে।

ফেদেরিকো চিয়েসার ফর্মহীনতা এবং জেরেমি ফ্রিম্পং মূলত রাইট-ব্যাক হওয়ায় গর্ডন লিভারপুলে গেলে সরাসরি মূল একাদশে খেলার নিশ্চয়তা পেতেন।

তবে গর্ডন নিজে স্প্যানিশ ফুটবলের চ্যালেঞ্জটিকেই বেছে নিয়েছেন এবং এখন কেবল দুই ক্লাবের আনুষ্ঠানিক সম্মতির অপেক্ষা।

আরও পড়ুন:
৪ বছরের ‘সফল মিশন’ শেষে বার্সেলোনা ছাড়ছেন লেভানডোভস্কি