২০২৬ উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের রণনীতি সাজিয়ে ফেলেছেন আর্জেন্টিনার মাস্টারমাইন্ড লিওনেল স্কালোনি। শিরোপা ধরে রাখার কঠিনতম মিশনে ২৬ সদস্যের যে চূড়ান্ত দল তিনি ঘোষণা করেছেন, সেখানে কাতার বিশ্বকাপের চেনা মুখের ওপরই ভরসা রাখা হয়েছে। ৩৮ বছর বয়সী কিংবদন্তি লিওনেল মেসির সম্ভাব্য শেষ আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টকে রাঙানোর গুরুদায়িত্ব এখন আলবিসেলেস্তাদের কাঁধে। তবে আনহেল দি মারিয়ার বিদায় এবং রক্ষণভাগের গভীরতা নিয়ে তৈরি হওয়া নতুন কিছু প্রশ্ন স্কালোনির ডিফেন্স মেকানিজমকে বড় পরীক্ষায় ফেলবে। এদিকে, আর্জেন্টিনার সামনে আছে ৬৪ বছরের এক খরা কাটানোর মিশনও।
আসন্ন এই টুর্নামেন্টে মাঠে নামার সাথে সাথেই পুরুষ ফুটবলের ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার অনন্য নজির গড়বেন লিওনেল মেসি। পর্তুগালের ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোও এই রেকর্ডে ভাগ বসাবেন এবার। কাতার বিশ্বমঞ্চ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ২৬ ম্যাচ খেলা মেসির বাঁ পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ের ক্লান্তি নিয়ে গুঞ্জন থাকলেও, স্কালোনি তাঁর সেরা অস্ত্রকে ঘিরেই বুনেছেন রণকৌশল।
স্কোয়াডের চমক ও ক্লাবভিত্তিক আধিপত্য
ঘোষিত এই স্কোয়াডে সবচেয়ে বড় চমক অভিজ্ঞ লেফটব্যাক মার্কুস আকুনার বাদ পড়া। ফাকুন্দো মেদিনা কিংবা ভ্যালেন্তিন বার্কো ব্যাক-আপ হিসেবে থাকলেও, রক্ষণে বিকল্পের স্পষ্ট ঘাটতি কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলছে ভক্তদের। এবারের দলে ক্লাবভিত্তিক আধিপত্যে সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে স্প্যানিশ জায়ান্ট আতলেতিকো মাদ্রিদ।
হুলিয়ান আলভারেজ, নাহুয়েল মলিনা ও থিয়াগো আলমাদাসহ ডিয়েগো সিমিওনের ক্লাবের মোট ৬ জন ফুটবলার জায়গা করে নিয়েছেন এই স্কোয়াডে।
আরও পড়ুন:
মেসির আর্জেন্টিনা কেন এমন বিবর্ণ? নেপথ্যে ৫ কারণ
স্পেনের লা লিগা থেকে সর্বোচ্চ ৭ জন এবং ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ ও ফরাসি লিগ ওয়ান থেকে ৫ জন করে ফুটবলার ডাক পেয়েছেন।
এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও এনসো ফার্নান্দেজদের মতো প্রিমিয়ার লিগের পরীক্ষিত তারকাদের ওপরই থাকছে মাঝমাঠ ও গোলপোস্টের মূল দায়িত্ব।
শক্তির জায়গা ও ৬৪ বছরের সেই দেয়াল
পরিসংখ্যানের পাতা উল্টালে দেখা যায়, ১৯৬২ সালের পর দীর্ঘ ৬৪ বছরে বিশ্বের কোনো দেশই টানা দুবার ফুটবল বিশ্বকাপ জিততে পারেনি।
ইতিহাস বলছে, ট্রফি জেতার চেয়ে তা ধরে রাখা অনেক বেশি কঠিন। তবে এই আর্জেন্টিনা দলের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তাদের বিশ্বসেরা মাঝমাঠ এবং বড় ম্যাচ জয়ের অবিশ্বাস্য মানসিকতা। গত কয়েক বছরে একটি বিশ্বকাপ, দুটি কোপা আমেরিকা ও ফিনালিসিমার ট্রফি জেতা এই স্কোয়াডের সদস্যরা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিপক্ব। দলটিতে এবার মেসির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমাতে নিকো পাজ কিংবা হোসে ম্যানুয়েল লোপেজের মতো একাধিক আক্রমণাত্মক তরুণ বিকল্প যুক্ত করা হয়েছে, যা যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারে।
তবে আশঙ্কার জায়গাও কম নয়। মহাতারকা মেসির বয়স এবং পুরো টুর্নামেন্টে তাঁর শতভাগ ফিট থাকা নিয়ে বড় প্রশ্ন রয়েছে।
ইউরোপের প্রতিপক্ষ যেমন স্পেনের তরুণ দল, ফ্রান্সের স্কোয়াড গভীরতা কিংবা ইংল্যান্ডের শক্তিশালী মাঝমাঠের তুলনায় আর্জেন্টিনার বর্তমান রক্ষণভাগ কিছুটা নড়বড়ে।
আগামী ১৭ জুন কানসাস সিটিতে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের পরীক্ষা। ‘জে’ গ্রুপে তাদের বাকি দুই প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়া ও জর্ডান। এই নড়বড়ে রক্ষণ আর দি মারিয়াহীন আক্রমণভাগ নিয়ে স্কালোনি ৬৪ বছরের সেই প্রাচীন দেয়াল ভাঙতে পারেন কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়
আরও পড়ুন:
অমরত্বের পথে আর্জেন্টিনা: মেসির সামনে ‘অসম্ভব’ সেই রেকর্ড!

