ট্রান্সফার উইন্ডো আনুষ্ঠানিকভাবে খোলার আগেই ইউরোপীয় ফুটবল বাজারে বড় ধরনের ধামাকা তৈরি করল স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনা। ইংলিশ ক্লাব নিউক্যাসল ইউনাইটেড থেকে ৮০ মিলিয়ন ইউরো ((প্রায় ৬৯.৩ মিলিয়ন পাউন্ড) ট্রান্সফার ফির বিনিময়ে ইংলিশ ফরোয়ার্ড অ্যান্থনি গর্ডনকে দলে ভিড়িয়েছে লা লিগার বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। ২৫ বছর বয়সী এই তারকা উইঙ্গার কাতালান ক্লাবটির সঙ্গে ৫ বছরের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি সম্পন্ন করেছেন, যা তাকে আগামী ২০৩১ সাল পর্যন্ত স্পোর্টিফাই ক্যাম্প ন্যু-তে রাখবে।
দুই ক্লাবের মধ্যে সফল আলোচনার পর বায়ার্ন মিউনিখের মতো পরাশক্তিকে পেছনে ফেলে এই ইংলিশ তারকাকে লুফে নিল বার্সা।
হানসি ফ্লিকের অধীনে নতুন মৌসুমের দলবদলে এটিই কাতালানদের প্রথম কোনো মেগা সাইনিং, যা ক্লাবটির ইতিহাসের অন্যতম ব্যয়বহুল দলবদল হিসেবে নাম লিখিয়েছে।
স্প্যানিশ ভাষায় চমক ও শৈশবের স্বপ্ন পূরণ
শুক্রবার ক্যাম্প ন্যু-তে অফিশিয়াল প্রেজেন্টেশনের সময় গর্ডন সবাইকে চমকে দিয়ে স্প্যানিশ ভাষায় নিজের বক্তব্য প্রদান করেন।
তিন বছর বয়স থেকেই বার্সেলোনায় খেলার স্বপ্ন লালন করতেন জানিয়ে গর্ডন বলেন, “তিন বছর বয়স থেকেই আমি বার্সার হয়ে খেলার জন্য উন্মুখ ছিলাম। আমি স্প্যানিশ ভাষায় কথা বলতে চেয়েছিলাম কারণ ছোটবেলা থেকেই আমি মনে-প্রাণে বিশ্বাস করতাম একদিন বার্সেলোনার হয়ে ফুটবল খেলব। নিউক্যাসলে আমার একজন ফিজিও ছিলেন, যার সঙ্গে আমি প্রতিদিন কথা বলতাম এবং তাকে বলতাম— একদিন আমি বার্সার হয়ে খেলব, তাই আমি স্প্যানিশ শিখতে চাই।”
বার্সার প্রস্তাব পাওয়ার পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে এই ইংলিশ উইঙ্গার আরও যোগ করেন, “আমি বেশ দেরিতে বার্সার আগ্রহের কথা জানতে পারি। তবে যখনই বুঝলাম বার্সা আমাকে নেওয়ার ব্যাপারে শতভাগ সিরিয়াস, তখন মনে আর কোনো প্রশ্নই ছিল না। বার্সেলোনা এই গ্রহের সবচেয়ে বড় ক্লাব। এটি এমন কিছু, যা আমি একদম ছোটবেলা থেকে স্বপ্ন দেখে এসেছি।”
আইনি ও কাগজপত্রের জটিলতার কারণে অফিশিয়াল ঘোষণার আগে গর্ডনকে প্রায় ৮ ঘণ্টা হোটেলে অপেক্ষা করতে হয়েছিল।
তবে সব বাধা পেরিয়ে বার্সার জার্সি গায়ে জড়াতে পেরে উচ্ছ্বসিত গর্ডন জানান, এই ক্লাবের গৌরবময় ইতিহাস সম্পর্কে তিনি সচেতন এবং এখানে ট্রফি জেতার জন্য তাঁর ভেতর এক তীব্র ক্ষুধা কাজ করছে।
নিউক্যাসলের সেরা তারকার বিদায় ও পরবর্তী মিশন
২০২৩ সালের জানুয়ারিতে এভারটন থেকে নিউক্যাসলে যোগ দেওয়ার পর সাড়ে তিন বছরে সেখানে ১৫২টি ম্যাচ খেলেছেন গর্ডন।
সদ্য সমাপ্ত মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১৭টি গোল করে তিনিই ছিলেন সেন্ট জেমস পার্কের সর্বোচ্চ গোলদাতা।
বিদায়বেলায় ক্লাবটির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে গর্ডন বলেন, “আমি এই ক্লাবের কাছে অনেক ঋণী। কারণ আমি যখন এখানে এসেছিলাম, তখন আমার জীবন ও ফুটবল ক্যারিয়ার বেশ ছন্নছাড়া ছিল। এই ক্লাব আমাকে একটি নিজস্ব পরিচয় দিয়েছে এবং বড় মঞ্চে পারফর্ম করার সুযোগ করে দিয়েছে।”
গর্ডনের এই বিদায় নিউক্যাসলের জন্য বড় ধাক্কা হলেও কোচ এডি হাউ তাঁর ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন। নিউক্যাসলের জন্য এটি তাদের ইতিহাসের দ্বিতীয় বৃহত্তম খেলোয়াড় বিক্রির রেকর্ড। অন্যদিকে, চুক্তির শর্ত অনুযায়ী গর্ডনের এই দলবদলের লভ্যাংশ থেকে ১৫ শতাংশ সেল-অন ফি পাবে তাঁর শৈশবের ক্লাব এভারটনও।
বার্সেলোনার চুক্তি শেষ করেই আগামী সোমবার ইংল্যান্ড দলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে উড়াল দেবেন গর্ডন।
আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ক্যাম্পে যোগ দেবেন এই নতুন বার্সা তারকা, যেখানে তাঁর কাঁধে থাকবে ইংলিশদের আক্রমণভাগের বড় দায়িত্ব।
আরও পড়ুন:
লিভারপুল বা বায়ার্ন নয়, নিউক্যাসল ছেড়ে বার্সেলোনায় যাচ্ছেন অ্যান্থনি গর্ডন

